এ স্যাড নাইট

সংখ্যা:

 

মুজাহিদ। মুজাহিদুল ইসলাম। এসএসসি পরীক্ষার পর বন্ধুবান্ধব যখন সব আয়েশ করে পায়ের ওপর পা তুলেছে ঠিক তখনই মুজাহিদ পা চালিয়েছে কুড়িগ্রামে। ঢাকার ছেলে কুড়িগ্রামে। মুজাহিদরা ঢাকার স্থানীয়। অনাত্মীয় বা দূরাত্মীয়দের কেউ ঢাকার বাইরে থাকে না। সারারাত লঞ্চের ভেঁপু আর সূর্য উঠবার আগে টাটকা সবজির ঘ্রাণ নিয়ে বড় হয়েছে মুজাহিদ। শ্যামবাজারের পাশ দিয়ে বড়জোর তিন মিনিট হাঁটলেই মুজাহিদদের বাড়ি। তিন পুরুষের বাড়ি। সে যাইহোক, আমরা কথা বলছিলাম মুজাহিদের কুড়িগ্রাম যাত্রা নিয়ে। কুড়িগ্রামের প্রায় কুড়িটি মসজিদে মানে প্রায় কুড়িটি এলাকায় ঘুরেছে মুজাহিদ। ও হ্যাঁ, মুজাহিদ তাবলিগে গিয়েছিলে। তাবলিগি শাস্ত্রীয় ভাষায় যাকে বলা হয় ‘চিল্লা’। মুজাহিদ ইচ্ছায় নাকি অনিচ্ছায় গিয়েছিল সে আলাপে আমরা যাব না। আমরা ভূমিকা আর দীর্ঘ না করে মূল গল্পে ঢুকে যেতে চাচ্ছি।

আজ মুজাহিদের তিন চিল্লা শেষ হলো। প্রথমে কুড়িগ্রাম তারপর শরীয়তপুর। আর শেষ চিল্লা দেয়া হলো চাঁদপুরে। প্রথম চিল্লায় সবাই ছিলো সমবয়সী। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জামাত। শরীয়তপুরের জামাতে দু’-একজন সমবয়সী ছিল অবশ্য। তবে এবার মুজাহিদ সম্পূর্ণ একা। একা মানে একাই। জামাতে সর্বকনিষ্ঠ। এজন্য সবাই আদরও করে খ্বু। তবুও দিনগুলো তেমন ভালো কাটেনি মুজাহিদের।

তারাবি শেষ করেই সবাই মাল-ছামানা গোছাতে ব্যস্ত। মুজাহিদ বসে আছে মসজিদের বারান্দায়। বারান্দা থেকে নদীটা একদম স্পষ্ট দেখা যায়। আকাশে চাঁদ আছে তবে লুকোচুরি খেলছে মেঘের সাথে। মুজাহিদের বুকের ভেতর কী যেন একটা দলা পাকিয়ে উপরে উঠে আসছে। কষ্ট হচ্ছে ভীষণ। কেন কষ্ট হচ্ছে সেটা বুঝতেও পারছে না মুজাহিদ। এখন খুশি হবার কথা। রাত পোহালেই ঢাকা। চিরচেনা সেই সদরঘাট। পরিচিত সেই গন্ধ। ‘এইখানে এমনে দাঁড়াই আছো কিল্লিগা? গাট্টি বানছো? লঞ্চ ছাইড়া দিবো সোয়া বারোটায়। জলদি গোছাও।’ কথাগুলো বলেই পাশ কাটিয়ে চলে যায় খসরু ভাই। মুজাহিদের মন আরও খারাপ হয়। খসরু ভাই কি দেখতে পায়নি মুজাহিদের চোখের জল? নাকি বুঝতে পারেনি? একবার অন্তত জিজ্ঞেস করতে পারত কেন মন খারাপ। মুজাহিদ ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। নদীতে ছলাৎ ছলাৎ ঢেউ। চাঁদ উঁকি দিয়েছে মেঘের ফাঁকে।

ঘড়িতে সময় বারোটা দশ। আধঘন্টা আগে লঞ্চে এসেছে মুজাহিদরা। মুজাহিদ লঞ্চটা একবার ঘুরে দেখবার জন্য আমির সাহেবের কাছে অনুমতি চেয়েছিল। আমির সাহেব শীতল চোখে মুজাহিদের চোখে তাকাতেই দমে গেছে ইচ্ছেটা। লঞ্চের নাম ‘ময়ূরী-৭’। তিনতলা লঞ্চ। মুজাহিদরা উঠেছে লঞ্চের পেছন দিককার ছাদে। ছাদে একটা নামাজের ঘর আছে। সেখানেই বেডিং বিছিয়েছে সবাই। নামাজের স্থানে এভাবে বেডিং খুলতে ইতস্তত লাগত মুজাহিদের কাছে। এখন আর কিছু মনে হয় না। ছাদের মাঝখানে সুন্দর একটা ছাতাওয়ালা টেবিল। টেবিলের চারপাশে ছোট ছোট টুল। ছাতা-টেবিল-টুল—সব স্টিলের। রেলিংয়ের পাশ ঘেঁষে ছোট ছোট চেয়ারও আছে। যেখানে ইঞ্জিনের ধোঁয়া বের হয় তার চারিপাশে ফুলের টব ছড়ানো। সবুজবাগ। মুজাহিদ চেয়ারে বসে নদী দেখছে। লঞ্চ ছাড়তে এখনও মিনিট পাঁচেক বাকি। ছাতাওয়ালা টেবিলের পেছনে দুটো চাদর বিছানো। এখানে হয়তো কেউ জায়গা রেখে গেছে। কিন্তু এখনও আসছে না তারা। লঞ্চ মিস করলে এই চাদর দুটোর কী হবে? চাদর দুটোর জন্য খুব মন খারাপ হয় মুজাহিদের।

এর মধ্যেই হালকা আওয়াজে শোরগোল শোনা যায়। নীল পাঞ্জাবি, কালো পাঞ্জাবি আর বেগুনি পাঞ্জাবির তিনজন। তিনজন এসে চাদর বিছানো জায়গাটার উপর এসে দাঁড়িয়েছে। এরাই বোধহয় চাদরের মালিক। কিন্তু শোরগোল করছে কেন? দেখতে দেখতে লোকজন বাড়তে লাগে। সাদা পাঞ্জাবি পরা দুইজন ছাদে ওঠে। এক মিনিটের মধ্যে আরও অনেক লোক উঠে আসে ছাদে। চেয়ারে বসে সঠিক হিসেব করতে পারে না মুজাহিদ। লঞ্চ ছাড়ার এক মিনিট আগে শোরগোল বেড়ে যায় আরও। সবাই এসে পৌঁছেনি হয়তো। লম্বা চুলের এক ছেলেকে পাঠানো হয় সারেং-এর কাছে। যেন একটু পর ছাড়ে লঞ্চ।

বসে বসে দেখতে থাকে মুজাহিদ। লঞ্চ ছেড়ে দেয়। হিসেব করে মুজাহিদ। আটাশ জন। তিনজন বাদে সবাই পাঞ্জাবিপরা। গোল টেবিলে বসে কয়েকজন। কিছু ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছাদে আর বাকি কয়েকজন নিচে চলে যায় লঞ্চ ছাড়বার কিছু পরেই।

মুজাহিদ নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে। মোহনা। তিন নদী মিশেছে এখানে। মুজাহিদ ভাবতে থাকে কীভাবে কাটলো একশো বিশ দিন। কত কত দিন সে বন্ধুদের থেকে আলাদা। আরো অনেক কিছু মনে আসতে গিয়েও আসে না। কেন আসে না? আবারও মন খারাপ হয় ওর। একশো বিশ দিনের অর্জন নিয়ে চিন্তা করতে থাকে মুজাহিদ। দিল পরিবর্তন হয়েছে অনেকটা। তাছাড়া শিখতে পারা গেছে অনেক কিছু। জুম্মা আর ঈদের নামাজ ছাড়া আর কোনো নামাজ পড়া হতো না মুজাহিদের। সুরা ফাতিহা আর সুরা ইখলাস ছাড়া জানা ছিল না কোনো সুরা। একশো বিশ দিনে অনেক অনেক কিছু জেনেছে এবং শিখেছে সে।

চিন্তায় ছেদ পড়ে মুজাহিদের। লঞ্চ নিজস্ব গতিতে চলছে। চাঁদ ঢাকা পড়েছে মেঘের নিচে। ফিনফিনে বাতাস বইছে। ভ্যাপসা গরমটা কেটে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। ছাতাওয়ালা গোল টেবিলটায় তর্ক চলছে খুব। সেই তর্কের সুরেই কাটা পড়েছে মুজাহিদের চিন্তার সুতো। আশ্চর্য, এরা না সবাই একসাথে উঠল লঞ্চে। এদের তো একসাথেই মনে হয়েছিল। বেশভূষাও এক। তাহলে তর্ক করছে কেন এভাবে? মনে মনে ভাবতে থাকে মুজাহিদ। ভাবতে ভাবতেই টেবিলের পাশে এসে দাঁড়ায়। আমির সাহেবসহ আর দুই-তিনজন উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে টেবিলের পাশে। তর্কের বিষয়বস্তু মুজাহিদের মাথার উপর দিয়ে যায়। ‘বাবা-মার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা জায়েজ কি-না? জায়েজ হলে বাবা-মা মেনে নিলে তালাক হয়ে যাবে কি-না?’

আমীর সাহেবের দিকে তাকায় মুজাহিদ। বড় বড় চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছেন যে কথা বলছেন তাঁর দিকে। একজনের মুখ থেকে আরেকজন কথা কেড়ে নিচ্ছেন আর আমির সাহেব দ্রুত সেই দিকে নজর দিচ্ছেন। যেন চোখ দিয়ে গোগ্রাসে গিলছেন কথা। এই অবস্থা সবার। যারাই দাঁড়িয়ে আছে টেবিলের চারপাশে।

এই সুযোগটা হাতছাড়া করল না মুজাহিদ। আমির সাহেব এখন ওদিকে ব্যস্ত। এই সুযোগে একটু নিচ থেকে ঘুরে আসলে মন্দ হয় না। মুজাহিদ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে। একদম নিচ তলায়। চা-পান-সিগারেটের দোকান। অনেকদিন পর সিগারেট খেতে ইচ্ছে করে মুজাহিদের। কেউ নেই আশেপাশে। দোকানের সামনে গিয়ে হাঁক ছাড়ে—‘একটা গোল্লিপ।’ দোকানি তীর্যক চোখে তাকায়। যেন-বা খুব বড় অপরাধ করে ফেলেছে সে। মেজাজ খারাপ হয় মুজাহিদের। কেউ এসে পড়লে বিপদ। আবার বলে। তবে এবার একটু নরম গলায়—‘একটা গোল্লিপ সিগ্রেট দেন।’ দোকানি এবার আরও তীর্যক চোখে তাকায়। শ্লেষমাখা স্বরে বলে—‘আপনি খাবেন?’

‘আাচ্ছা, লাগবে না।’ বলে দোকানের সামনে থেকে সরে আসে মুজাহিদ। মন খারাপ হয় আবার। ছিঃ ছিঃ, শয়তানের ওয়াসওসাতে কী করতে যাচ্ছিল সে? অনুশোচনায় ভরে ওঠে মন। পরক্ষণেই মনে হয় দোকানদারের সিগারেট না দিতে চাওয়াটা আল্লাহ পাকের ইশারা। আল্লাহ মুমিন বান্দাদের এভাবেই হয়তো গুনাহ থেকে বাঁচান।

দোকানদারের জন্য দোয়া করতে করতে সামনের দিকে এগোয় মুজাহিদ। সামনের ডেকে চলে যায়। ডেকের একদম সামনে সুঁচালো জায়গাটায় বসে আছে তিনজন। উপরের দলের এরা। সবার আগে এরাই এসেছিল। চিনতে পারে মুজাহিদ। কিন্তু তর্ক-বিতর্ক ছেড়ে এরা এখানে কী করছে? কৌতূহল নিয়ে কাছে যায় সে। পাশে বসে। বসতে বাধ্য হয় মূলত। নীল পাঞ্জাবি পরা ছেলেটা গান গাচ্ছে। এতো চমৎকার গানের গলা সামনাসামনি কখনই শোনেনি মুজাহিদ। আকাশের দিকে তাকাতে গিয়ে দুই তলার ডেকে নজর পড়ে। জটলা সৃষ্টি হয়েছে দুই তলার ডেকে। সবাই তন্ময় হয়ে শুনছে গান। ছেলেটা গান গাচ্ছে ‘আমি তো ভালা না, ভালা নিয়াই থাইকো….।’

মুহূর্তে কই যেন হারিয়ে যায় মুজাহিদ। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে হুট করে একটা প্রেম হয়েছিল তার। হুট করেই আবার ভেঙে গেছে। মেয়েটা বলেছিল কয়েকদিন যোগাযোগ বন্ধ রাখবে। আবার যখন সব ঠিকঠাক হবে তখন ফিরে আসবে। এর মাঝখানে কারো সাথে আর সম্পর্কে জড়াবে না। কিন্তু সব ঠিকঠাক হবার আগেই মেয়েটা অন্য আরেকটা ছেলের সাথে জড়িয়ে যায়।

মুজাহিদ নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে। এদিকে একের পর এক গান গাইছে নীল পাঞ্জাবিওয়ালা। বাকিদুজন গানের তালে তালি আর তুড়ি বাজাচ্ছে। ওদিকে খেয়াল নেই মুজাহিদের। সন্ধ্যা থেকে একের পর এক মন খারাপ হতেই আছে।

মুজাহিদ আবার উপরে এসেছে। গোল টেবিলটার চারপাশ ঘুরে ঘুরে একজন ছবি তুলছে ক্যামেরায়। ডিএসএলআর ক্যামেরা। মুজাহিদের ইচ্ছে করে তাকে বলে নিজের একটা ছবি উঠাতে। কতদিন ফেসবুকের প্রোফাইল পিকচার বদলানো হয় না। ফেসবুকের কথা মনে আসতে আবারও মন খারাপ হয় ওর। মন ভালো করতে টেবিলের আলোচনায় মনোযোগ দেয়। এখন আলোচনা চলছে ‘ইসলামে বহু বিবাহ’ নিয়ে। অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে আলোচনা শোনে মুজাহিদ। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না। অগত্যা মানুষগুলোকে পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এই কাজ করে অনেক সময় মন ভালো করেছে সে।

সবথেকে বেশি কথা বলছে ঘন চাপ দাড়ি। মুখে গোশ নেই। কথার আওয়াজে খুব জোর। অনেক পড়াশোনাওয়ালা লোক বোধহয়। এরপর, এইপাশে বাবরিওয়ালা মাঝবয়সী একজন। দাড়িতে পাক ধরেছে। কথা বলছেন মেপে মেপে। মূলত তিনি কথা উস্কে দিচ্ছেন। খণ্ডন করছে অন্যরা। এদিকে ব্রাজিলের জার্সি পরা এক যুবক প্রচুর তর্ক করছে সেই শুরু থেকে। মনে হচ্ছে অনেক বড় আলেম। কিন্তু বেশভূষা এমন কেন? মোটামতো আরেজন যুবক আছে এইপাশে। সেও কথা বলছে খুব। এছাড়া যারা আছে সবাই চুপচাপ। দু-এক কথায় তাল মিলিয়ে শ্রোতার ভূমিকা পালন করছে। কালো টিশার্টের একজন আছে। একদম চুপচাপ। গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সব। একজন ঘুমিয়ে গেছে ওদিকে। সেই যে চাদর বিছানো ছিল, সেখানে। কয়েক জন মিলে চেয়ারে বসে আড্ডা দিচ্ছে।

আবার নিচে দেখে এসেছে দুজন বসে বসে ভাজি আর পরোটা খাচ্ছে। দুজনই কেমন যেন অপ্রকৃতস্থ। হাসছে একটু পরপর। কোনো কারণ ছাড়াই হাসছে।

এরা কারা আসলে? নানানরকম মানুষজন। কিন্তু সব আবার একরকম। কারা এরা? জানতে খুব ইচ্ছে হয় মুজাহিদের। সাহস করে টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে ডেকে আনে পেছনে। ‘আপনারা কারা ভাই?’

‘মানে?’

‘মানে কইতাছি যে আপনেরা কারা? কী করেন সবতে?’

‘আমি কিছু করি না। তবে এখানের সবাই লেখক। বড় বড় লেখক। আমি ইনাদের ভক্ত। তাই সাথে আসছি।’

ছেলেটা আবার চলে যায় টেবিলের পাশে। মুজাহিদও যায়। কিন্তু কিছুই মাথায় ঢোকে না। কীসব মাসনা-সুলাসা নিয়ে আলোচনা! আচ্ছা দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা করে না কেন এরা? মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে কিছু বলে না কেন? ইসলাম ধর্মের বাইরে যারা আছে এদের নিয়ে কোনো চিন্তা হয় না এসব লেখকের? ও খুব করে চেষ্টা করে কিছু বুঝতে। কিন্তু সব মাথার উপর দিয়ে যায়। মুজাহিদের ঘুম ধরে প্রচুর। মাথার ভেতর ধপ ধপ করে বাজছে একটা লাইন—‘আমি তো ভালা না, ভালা নিয়াই থাইকো।’

মুজাহিদ ঘুমাতে যায়। ঘুমিয়েও যায়। ঘুম থেকে উঠে খসরু ভাইয়ের ডাকে। এই লোকটা খুব খেয়াল রাখে ওর। সেহরির সময় হয়েছে। দ্রুত উঠে পড়ে মুজাহিদ। হাত মুখ ধুতে যায় কলে। নামাজের ঘরের সাথেই কল লাগানো আছে একটা। খেতে বসে চিন্তা করে লেখকরা কী খাবে? আদৌ কি কিছু খাবে? কিছু আছে তাদের? লেখকদের তো আবার খাবার-দাবারের ঠিক-ঠিকানা থাকে না। মুজাহিদ উঁকি দিয়ে দেখার চেষ্টা করে। গোল টেবিল থেকে সবাই উঠে গেছে। চাদরের উপর বসেছে। বিরানি খাচ্ছে সবাই। বিরানি দেখে আবারো মন খারাপ হয় ওর। দেখতে দেখতে ফজর হয়ে যায়। লেখকদের দলটা নামাজের জন্য সামনের কাতারে দাঁড়ায়। দেখতে থাকে মুজাহিদ। এরা আবার কেমন লেখক? নামাজও পড়ে।

নামাজে দাঁড়িয়ে চিন্তা করতে থাকে মুজাহিদ। সদরঘাট থেকে কোথায় যাবে আগে? কাকরাইল যাওয়ার তো কোনো দরকার নেই। লঞ্চ থেকে নামলেই বাসা। তবুও যেতে হবে। নামাজের ভেতরেও মন খারাপ হয় ওর। ওদিকে লঞ্চ মুক্তারপোল ব্রিজ পার হয়ে এসেছে। আকাশ ফর্সা হচ্ছে।

 

পুনশ্চ : গত রমজানের এক রাতে আমরা ও আমি চাঁদপুরে গিয়েছিলাম একদল লেখকের সঙ্গে। আমার জীবনের অন্যতম একটা রাত ছিল সেটা। ভ্রমণপথের বর্ণনা আমি লিখতে বসেছিলাম বারকয়েক। এর মধ্যেই দেখলাম মাথায় একটা গল্প আসছে। তাই বলে ফেললাম। গল্পটা লিখতে গিয়ে মুজাহিদের মতো আমারও মন খারাপ করেছে বারবার।

 

এপ্রিল ২০১৯

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১