স্বাগত কলাম

সংখ্যা:

 

এবার খুব শীত পড়েছে। বিগত দশ-পনেরো বছরে এমন শীত পড়েনি। সেই সঙ্গে শীত মৌসুমে অযাচিত বৃষ্টি আর বারদুয়েক শৈত্যপ্রবাহ শীতটাকে যেন আরও চাগিয়ে দিয়েছিল। শীতে কাবু পুরো দেশ। আবার স্মরণ করে দেখুন, এবারকার গরম মৌসুমে গরমটাও পড়েছিল যাচ্ছেতাইভাবে। গরমে একদম জেরবার হয়ে গিয়েছিল দেশবাসী। আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গিয়েছিল, বিগত পঞ্চাশ বছরে আর এরকম গরম পড়েনি বাংলাদেশে।

বিষয়টি কি বুঝতে পারছেন? জলবায়ু পরিবর্তন বা ক্লাইমেট চেঞ্জ। সারা পৃথিবীজুড়ে যে বিষয় নিয়ে তোলপাড় চলছে, সেই জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা দিয়েছে আমাদের দেশে। সহস্র বছরের যে স্বাভাবিক জলবায়ু চলে আসছিল পৃথিবীতে, এই আধুনিক সভ্যতার অভিশাপে সেই জলবায়ু দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। শীতের সময়ে হয় খুব শীত পড়ছে বা শীত একেবারেই কমে যাচ্ছে, অমৌসুমে বৃষ্টি হচ্ছে; আবার গরমের মৌসুমে প্রচণ্ড গরম পড়ছে, কখনোবা বৃষ্টির মৌসুমে অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টির কারণে ভুক্তভোগী হচ্ছে কোটি মানুষ। সারা পৃথিবীতেই ঘটে চলেছে এই পরিবর্তন।

গত বছর পৃথিবীর ফুসফুস বলে খ্যাত আমাজন বনের বেশ কিছু অংশ মানুষের লোভের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আবার গত ডিসেম্বর থেকে এ বছর জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার উপকূলবর্তী বনাঞ্চলের হাজার হাজার মাইল দাবানলের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। পুড়ে মারা গেছে লাখ লাখ বন্য পশু-পাখি। এর প্রভাব যে খুব বিরূপভাবে আমাদের পরিবেশের ওপর পড়বে, সে কথা বলাই বাহুল্য। সভ্যতার নগরায়নের ফলে প্রতিটি দেশ থেকে গাছপালা ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। তার ওপর এসব সংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে পৃথিবীর সবুজ আরও দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। ফলে, ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি করে জলবায়ু পরিবর্তনের মুখোমুখি হব। ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের কৃষি, আমাদের সমুদ্র উপকূলবর্তী মানুষের জীবন বিপন্নহবে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় আগের চেয়ে বেড়ে যাবে, ঝড়, বন্যা, ঘুর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষত সবুজ প্রকৃতি মানুষের নিঃস্বার্থ এক বন্ধু। আমরা যত আধুনিক হচ্ছি, সভ্যতা যত উন্নত হচ্ছে, গাছপালা তত কমে যাচ্ছে আমাদের চারপাশ থেকে। কিন্তু আমাদের এই নিঃস্বার্থ বন্ধুকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে। বেশি করে গাছ লাগাতে হবে, গাছের পরিচর্যা করতে হবে, প্রাকৃতিক বনাঞ্চল রক্ষার ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে এবং সর্বোপরি পরিবেশ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বাড়ি বা বহুতল ভবন নির্মাণ করলে তার চারপাশে অবশ্যই অধিক পরিমাণে গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পাশে বা বাড়ির চারপাশের খালি জায়গায় বৃক্ষরোপন করতে হবে। নিজের উদ্যোগে বা সামাজিক সংঘ, স্কুল-কলেজ-মাদরাসার উদ্যোগে এলাকায় এলাকায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

এসব আমাদের জন্য যেমন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও। আমরা আমাদের সন্তানদের সুখী ভবিষ্যতের জন্য কত কিছুই না করছি। কিন্তু অবশ্যম্ভাবী দুর্যোগের কবল থেকে বাঁচাতে আমরা কি এতটুকু করতে পারি না?

 

জানুয়ারি 2020

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১