কাশ্মীরিদের বঞ্চনার সংক্ষিপ্ত ইতিবৃত্ত

সংখ্যা:

 

পৃথিবীর স্বর্গ খ্যাত অপরূপ উপত্যকা কাশ্মীর, কিন্তু ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তি যুগের পর যুগ ধরে এই উপত্যকাকে উন্মুক্ত কারাগার বানিয়ে রেখেছে।

খ্রিষ্টাব্দ অষ্টম শতাব্দীতে এখানে ইসলামের আগমন ঘটে। তারপর কালের পরিক্রমায় পুরো উপত্যকাই একসময় হয়ে ওঠে মুসলিম অধ্যুষিত। ১৫৮৬ সালে মোঘল সম্রাট আকবরের সময় কাশ্মীর মোঘল সাম্রাজ্যের অধিভুক্ত হয়। বাদশাহ আওরঙ্গজেব আলমগিরের সময়কাল অবধি দুর্দণ্ড প্রতাপে তা পরিচালিত হয় মোঘল শাসকদের হাতে। আওরঙ্গজেবের ইন্তেকালের পর এখানে মোঘল কর্তৃত্ব দুর্বল হতে শুরু করে এবং ১৭৫১ খ্রিষ্টাব্দে আফগান শাসক আহমদ শাহ দুররানি কাশ্মীরের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮১৯ খ্রিষ্টাব্দে শিখ রাজা রঞ্জিত সিং মুসলিম অধ্যুষিত এ ভূমি দখল করে নেন এবং এর মধ্য দিয়েই মূলত কাশ্মীরি মুসলমানদের বঞ্চনার ইতিহাসের সূচনা হয়। ২৭ বছরের শিখ শাসনে পর্যুদস্ত হয় এ জনপদ। গরু জবাই নিষিদ্ধের পাশাপাশি ভারী করের বোঝা চাপানো হয় কাশ্মীরি মুসলমানদের ওপর। হাজার হাজার মানুষ জুলুমের আতিশয্যে ঘরবাড়ির মায়া ত্যাগ করে হিজরত করতে বাধ্য হয়।

১৮৪৬ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ-শিখ যুদ্ধের পর দুপক্ষের মধ্যে ‘অমৃতসার চুক্তি’ সাক্ষরিত হলে কাশ্মীর চলে যায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে। কিন্তু চতুর কোম্পানি এ অঞ্চল নিজেদের কাছে না রেখে পাশ্ববর্তী জম্মু অঞ্চলে তাদের আজ্ঞাবহ দোগরা শিখ শাসক গুলাব সিংয়ের কাছে ৭৫ লাখ রুপির বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়। আর এর মধ্য দিয়েই সৃষ্টি হয় আজকের জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য।

উপমহাদেশে ইংরেজ শাসন বিলুপ্তির আগ অবধি জম্মু-কাশ্মীর দোগরাদের শাসনাধীন ছিল বটে, কিন্তু এর পররাষ্ট্রনীতি নিয়ন্ত্রিত হতো ইংরেজদের হাতেই। প্রায় একশ’ বছরের দোগরা শাসনে মুসলমানরা কেবল পর্যুদস্তই হয়েছে, যা ছিল পূর্বেকার শিখ শাসনের ধারাবাহিকতা এবং সম্প্রসারণ। মুসলমানদের জন্য শিক্ষাদীক্ষার কোনো সুযোগ ছিল না। সরকারি কাজে তাদের বেগার খাটানো হতো। বিনা মূল্যে সরকারি কাজ করে দিতে বাধ্য করা হতো মুসলিম জনসাধারণকে। চাষীদের কাছ থেকে এতো বেশি রাজস্ব আদায় করা হতো যে রাজস্ব আদায়ের পর তাদের কাছে খেয়ে-পরে বাঁচার মতো শষ্যও থাকত না।

 

বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদ

শত বছর ধরে চলে আসা এই জুলুম ও বঞ্চিতির কোনো প্রতিবাদ করত না কাশ্মীরের মুসলমানেরা। অশিক্ষার অভিশাপ তাদেরকে এতটাই গ্রাস করে রেখেছিল যে, অন্তহীন এ জুলুমের বিরুদ্ধে যে সোচ্চার হওয়া যায়, সে বোধটুকুও তাদের ছিল না। কিন্তু নিজেদের ধর্মানুভূতিতে যখন আঘাত হানল শাসকশ্রেণি, তখনই তাদের প্রতিবাদী সত্তা জেগে উঠল।

জম্মু ও কাশ্মীরের দোগরা শাসকদের প্রতি তাদের মনে স্বভাবজাত যে ক্ষোভ কাজ করত, ১৯৩১ সালের একটি ঘটনার ফলে সেই ক্ষোভ সহসাই দোগরা শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেয়।

১৯৩১ সালে জম্মুর কয়েকটি এলাকায় প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা মসজিদ ও কুরআন শরিফের অবমাননা করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ে পুরো কাশ্মীর উপত্যকায়। শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকা খেটে খাওয়া কাশ্মীরি মুসলমানরা নিজেদের ধর্মের প্রশ্নে খুব সোচ্চার ছিল। সরকারি কর্মকর্তাদের ধর্ম অবমাননায় তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। কাশ্মীরের রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তার। এমনই এক বিক্ষোভ সমাবেশে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত থেকে আসা আবদুল কাদির নামের এক ব্যক্তি দোগরা রাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দেনভ। সাথে সাথে তাকে গ্রেফতার করে দোগরা রাজের প্রশাসন।

১৩ জুলাই ১৯৩১-এ কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের কেন্দ্রীয় কয়েদখানায় আবদুল কাদিরের মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়। সেদিন শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কয়েদখানার সামনে বিশাল জনসমাবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ২২ জন মুসলিম নিহত হন।

এই ঘটনায় ১৩ জুলাইকে এখনো কাশ্মীরে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। শত বছরের নিপীড়নের বিরুদ্ধে জেগে ওঠা কাশ্মীরিরা এ দিনই সর্বপ্রথম নিজেদের আজাদির জন্য বুকের তপ্ত খুন ঝরিয়েছিল।

 

ভারতের অধিভুক্তি

তারপর নানা ঘটনা-উপঘটনা। দোগরা শিখদের অত্যাচারে জম্মু থেকে ৫ লাখ মুসলমান গৃহহারা হয়ে মাতৃভূমি ত্যাগ করে, যাদের মধ্যে দুই লাখ মানুষের সন্ধান পরবর্তীতে আর কোথাও পাওয়া যায়নি। উপমহাদেশ থেকে ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটল তারপর, ১৯৪৭-এ ভারত-পাকিস্তান ভাগ হলো। কিন্তু জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য যেহেতু ইংরেজদের সরাসরি শাসনাধীন ছিল না, দেশ ভাগের পর তা তাই কার্যত স্বাধীন হয়ে যায়। সেখানকার মুসলমানরা দোগরা রাজার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে পাকিস্তানের সহায়তায়। তারা আজাদ কাশ্মীরের ঘোষণা দিয়ে জম্মু কাশ্মীরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভূমি নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়। এ ঘটনা ১৯৪৭-এর অক্টোবরের।

দোগরা রাজের রাজধানী শ্রীনগর থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে ছিল আজাদ কাশ্মীরের ধারক বিপ্লবী বাহিনী, আরও একটা আক্রমণ করলেই শ্রীনগর দখল করে নিতে পারত তারা। কিন্তু সে আক্রমণে বেশ দেরি হয়ে যায়। ইতিমধ্যে দোগরা রাজা হরিসিং শ্রীনগর থেকে জম্মুতে পালিয়ে গিয়ে ভারতের কাছে সাহায্য কামনা করেন। ভারত শর্তারোপ-পূর্বক তাঁকে সাহায্য করতে সম্মত হয়। শর্ত হলো কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ কাশ্মীরি নেতা শেখ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে সেখানে জরুরি অবস্থার একটি সরকার গঠন করতে হবে। হরিসিং শর্ত মেনে নেন। আর এর মধ্য দিয়েই কাশ্মীরে প্রবেশ করে ভারতীয় মিলিটারি।

১৯৪৭-এর ২৭ অক্টোবর ভারত বিশাল আকারে এয়ারলিফটিং-এর মাধ্যমে প্রায় ১০০টি সিভিল এবং মিলিটারি ট্রান্সপোর্ট বিমান ব্যবহার করে দুই ব্যাটেলিয়ন ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন শ্রীনগর এয়ারফিল্ডে অবতরণ করাতে সক্ষম হয়। এবং এর মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়া হয়।

স্বাধীনতাকামীরা যে অংশটুকু ইতিমধ্যে আয়ত্তে নিতে পেরেছে, সে অংশটুকুর ওপর মুসলমানদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়ে আজাদ কাশ্মীরের জন্ম হয়। যা পাকিস্তানের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে এখন বিবেচিত। আর বাকি ভূমিটুকু জবর দখল করে রাখে ভারত। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা মুতাবিক এ অঞ্চলকে যদিও স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়, কিন্তু পররাষ্ট্রনীতি, যোগাযোগ ও সামরিক বিভাগ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে রাখা হয়। যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ ৭০ বছরের অধিক কাল ধরে সামরিক জান্তা বাহিনী দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের ওপর হিন্দু শাসিত ভারত নানাভাবে নিপীড়ন, ধর্ষণ ও গণহত্যা চালিয়ে এসেছে।

তারপরও এ অঞ্চলের মানুষ এতদিন ভিটেমাটি নিয়ে থাকতে পেরেছে, কারণ ৩৭০ ধারার সাংবিধানিক আইন অনুযায়ী রাজ্যের বাইরের কেউ এখানে এসে জমিক্রয় বা বসতি স্থাপন করতে পারত না। কিন্তু গত ৫ আগস্ট ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ সোমবার ভারতের সংসদে বিজেপি সরকার সেই ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু-কাশ্মীরকে নিজেদের পুরোপুরি করায়ত্তে নিয়ে আসে।

৩৭০ ধারা বাতিলের এ সিদ্ধান্ত অনেকটা হঠাৎ করেই প্রকাশ করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। আগস্ট মাস শুরু হবার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের জবর দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীরে বহিরাগত সকল মানুষকে তোড়জোড় করে সরিয়ে দেওয়া হয়। পর্যটকদের বারণ করা হয় কাশ্মীর প্রবেশে। উপত্যকাটি এম্নিতেই পৃথিবীর শীর্ষ সামরিক অঞ্চল, ভারত সরকার এই তোড়জোড়ের সময় অতিরিক্ত আরও কয়েক প্লাটুন সৈন্য পাঠায় সেখানে। সরকারি হিসাবে যদিও এর পরিমাণ ৯ হাজার বলা হয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন বলেছে লক্ষাধিক সৈন্য সেসময়ে নতুন করে পাঠানো হয়েছে।

এই হঠাৎ বাড়তি প্রস্তুতি ও সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে রাষ্ট্রীয়ভাবে জানানো হয়, কাশ্মীর সংক্রান্ত বিশেষ একটি ঘোষণা আসছে ৫ আগস্ট। তাই বাড়তি এই নিরাপত্তা-সতর্কতা। কিন্তু ঠিক কী ঘোষণা আসছে, তা কেউই আঁচ করতে পারেনি। অবশেষে আসে সেই ৫ আগস্ট। ভারতের রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ নির্দেশনামাটি পড়ে শোনান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহা। এতে প্রায় ৭০ বছর আগে ভারতীয় সংবিধানে কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ মর্যাদা সংবলিত ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের নির্দেশনা দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে ভারতের জবর দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীর এতদিন যে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে আসছিল, তা বিলুপ্ত হয়ে যায়।

এ আইন পাশ হবার পর বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। সচেতন মানুষেরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান। সেই সঙ্গে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে কাশ্মীরি জনগণ। কাশ্মীরের সকল রাজনৈতিক নেতা এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু তাদের প্রত্যেককেই গৃহবন্দী করে রাখে দখলদার ভারত। মিলিটারিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাস্তায় নেমে আসে কাশ্মীরি জনগণ। কিন্তু তাদেরকেও গণহারে গ্রেপ্তার করে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশির নামে নানা ধরনের হেনস্তা করে মিলিটারিরা। শহিদ করা হয় অনেককে। এ সবই হচ্ছিল কাশ্মীরকে কঠিন কারফিউর মাধ্যমে অবরুদ্ধ করে। ইন্টারনেট-মোবাইল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল পুরো উপত্যকায়, বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব ধরনের প্রতিষ্ঠান। এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদেরও সেখানে স্বাধীনভাবে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। টানা একমাস জুড়ে কী ঘটেছিল কাশ্মীরে, কত মানুষের প্রাণ বিসর্জিত হয়েছে, কত মাবোনের ইজ্জত খোয়া গেছে, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন কত লাখ মানুষ, তার কোনো কিছু বহির্বিশ্বকে জানতে দেয়নি ভারতীয় আগ্রাসনবাদীরা।

৫ আগস্ট বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দ্বিখণ্ডিত করে কেড়ে নেওয়া হয় তার পৃথক রাজ্যের মর্যাদাও। এ জন্য ৫ আগস্ট রাজ্যসভায় এবং ৬ আগস্ট লোকসভায় পাশ করা হয় ‘জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য পুনর্গঠন আইন ২০১৯’। রাষ্ট্রপতি ৯ আগস্ট তাতে সাক্ষর করেন। ৩১ অক্টোবর ২০১৯ থেকে নতুন এ আইন কার্যকর হয়। নতুন আইন অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীর থেকে কারগিল ও লাদাখকে আলাদা করে তৈরি করা হয় ‘লাদাখ’ নামের নতুন এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যেখানে কোনো বিধানসভা থাকবে না। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীর উপত্যকার বাকি অংশও গণ্য হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে, যদিও সেখানে বিধানসভা থাকবে। দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই পরিচালনা করবেন দুইজন ল্যাফটেনেন্ট গভর্নর।

৩১ অক্টোবর ২০১৯ ভারতের জবর দখলে থাকা জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়৷ আর এর মধ্য দিয়ে কাশ্মীরি মুসলমানদের আজাদির স্বপ্নে পরাধীনতার শেষ পেরেকটি বসিয়ে দেয় আগ্রাসী হিন্দুত্ববাদী শক্তি। কিন্তু এরপরও কাশ্মীরি জনগণের অতীত বলে, তারা তাদের আজাদির স্বপ্নকে মলিন হতে দেবে না, এই আগ্রাসনী সিদ্ধান্ত থেকে বরং তারা আরও বলীয়ান হবে নিজেদের আজাদির স্বপ্ন পূরণে।

 

জানুয়ারি 2020

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১