ভালোবাসতে কে না চায়। জন্ম থেকে মৃত্যু—জীবনের প্রতিটি ক্ষণ প্রতিটি পদক্ষেপে আমরা উন্মুখ হয়ে থাকি ভালোবাসার জন্য। এ এক অনন্য অনুভূতির নাম। হাজারও অনুভূতির মাঝ থেকে হৃদয় চিনে নেয় ভালোবাসাকে, তাকে সযতনে লালন করে। ভালোবাসা উজ্জীবিত করে আমাদের চেতনা, তার আলোতে পরিচালিত হয় আমাদের জীবন।
নানা আঙ্গিকে ভালোবাসা আসে আমাদের জীবনে। মা-বাবার ভালোবাসায় শুরু হয় একটি শিশুর জীবন। বড় হওয়ার সাথে সাথে নানা রঙের ভালোবাসা আসে তার কাছে।
জীবনে সব ভালোবাসারই গুরুত্ব আছে। কিন্তু শুধু বিশেষ একটি ভালোবাসার জন্য ব্যস্ত আমরা সবাই। তার কারণও আছে। এই ভালোবাসা সবচেয়ে অনিরাপদ। তাকে খুঁজতে হয়, অর্জন করে নিতে হয়। তাকে রক্ষা করতে হয়। যেকোনো সময় হারানোর ভয় থাকে। তাই আমরা এই ভালোবাসা নিয়েই বেশি কথা বলি।
বিয়ে মানুষের জীবনের এক অমোঘ বিধান। বলা যায় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সম্পর্ক। প্রথম মানুষ আদম ও হাওয়া আবদ্ধ হয়েছিলেন এই সম্পর্কে। আজ পর্যন্ত তা আমাদের জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়।
কিন্তু আমরা কি বুঝতে পারি সবসময় এর গুরুত্ব? আমাদের চাকরি, বাড়ি কেনা কিংবা অন্যান্য বিষয়ের মতো বিয়েকে আমরা কি অতটা গুরুত্ব দিই? আশ্চর্যজনকভাবে আমরা অনেকটা উদাসীন, অনেকটা সম্মোহিতের মতো সেরে ফেলি এই কাজটি।
বিয়ের প্রথম ধাপ উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে বের করা। বিয়ের ফলাফলও অনেকটা নির্ভর করে এর ওপর। সঙ্গী খুঁজে বের করাটা তাই একটা চ্যালেঞ্জের মতো। এই ধাপে সফল হলে বাকি জীবনে সফল হওয়ার আশা থাকে।
আমাদের এই বাংলাদেশ থেকে সাত সমুদ্র তেরো নদী পার হয়ে যে দেশ, সেখানকার একজন তরুণী কীভাবে খুঁজে পেয়েছিলেন তাঁর জীবনের কাঙ্ক্ষিত মানুষটিকে, সে গল্প নিয়েই নবপ্রকাশের নতুন বই ‘লাভ ইন হিজাব’।
না, এটা কোনো রোমান্টিক উপন্যাস নয়। হঠাৎ দেখা হওয়া কারও সাথে জমে ওঠা ভালোবাসার গল্পও নয়। এই গল্প বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ভালোবাসার মানুষকে খুঁজে পাওয়ার। এ গল্প সমাজে গড়ে ওঠা নানা প্রথার সাথে সংগ্রামের। এই গল্প নিজের ঈমান ও মূল্যবোধকে সামনে রেখে ভালোবাসাকে খুঁজে পাওয়ার, এই গল্প একজন অপরাজিতার।
শেলিনা জাহরা জান মুহাম্মদ, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মুসলিম নারী নিজেকে পরিচয় দেন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে। এই বইটি লেখার আগে খুব বেশি মানুষ চিনত না তাঁকে। সাহস নিয়ে তিনি লিখেছেন তাঁর প্রিয়মানুষকে আবিষ্কারের গল্প। তাঁর মতে, হিজাবে ঢাকা মুসলিম মেয়েদেরও বলার মতো অনেক গল্প আছে।
এই বইয়ে উঠে এসেছে তাঁর জীবনের নানা গল্প। ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠা, অমুসলিম দেশে একজন প্রকৃত মুসলিম হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা, পাত্র খুঁজতে গিয়ে অর্জিত নানা অভিজ্ঞতা এবং শেষ পর্যন্ত সফল হওয়া—সবকিছুর পুংখনাপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন তিনি এই বইয়ে।
পাঠকের জন্য অনেক কিছু জানার আছে এতে। আছে চিন্তার উপাদান। অমুসলিম দেশে বসবাসকারী একজন মুসলিম তরুণীর চিন্তা-ভাবনা অবাক হতে বাধ্য করবে বাংলাভাষী পাঠকদের। বিয়ে নিয়ে তাদের চিন্তা ভাবনাকেও বদলে দিতে পারে এই বই।
বইটি অনুবাদ করেছেন নবপ্রকাশের পাঠক নন্দিত অনুবাদক নাজমুস সাকিব।
ডিসেম্বর 2019

