যখন তুমি সবুজের শামিয়ানায় বসে নবোদ্ভিন্ন লতিকার নর্তনশীল শ্যামল পত্রাভরণের সুষমায়, বিকশিত কুসুমের সুরভিত হাসিতে উৎফুল্ল হও তখন কোন মহাশক্তির বিরাট মহিমার অস্তিত্ব অনুভব করো? কে তিনি?
যখন তুমি দিবসে সূর্যের বিশ্বদাহী রশ্মিতে, রজনীতে চন্দ্রের স্নিগ্ধ কৌমুদীতে, সীমাশূন্য অসীম ভুবনে, অজস্র নক্ষত্রের গূঢ় অব্যক্ত কিরণে, আশ্চর্যান্বিত হও—তখন তুমি কার উদারতা অনুভব করো? কে তিনি?
নীরবে-নিভৃতে তুমি যখন জ্বলতে থাকো হতাশার অনলে, তোমার হৃদয় যখন দগ্ধ হতে থাকে নিঃসঙ্গতার দহনে, হঠাৎ সে মুহূর্তে ব্যথিতের শান্তিরূপে, হতাশার আশারূপে, নিরবলম্বনের আশ্রয়রূপে যিনি সাড়া দিয়ে ওঠেন, তিনি কে?
যখন তুমি সান্ধ্য প্রকৃতির বৈচিত্রময়ী অপূর্ব ভঙ্গিমায় সান্ধ্য আকাশের দূর নীলিমায়, সন্ধ্যার নৈঃসর্গিক অপরূপ সুষমায় পুলকিত হও তখন কার কথা ভাবো? কে তিনি?
বিশাল সাগর পাড়ে দাঁড়িয়ে তুমি যখন সোনালি প্রভাত সূর্যের অলক্তধারায় সাগরবক্ষে গলিত সুবর্ণের প্রবাহ দেখে বিমোহিত এবং অগণিত তরঙ্গপুঞ্জের মাঝারে অস্তায়মান রবির বিষণ্ন প্রস্থান দেখে আশাহত হও তখন কাকে মনে পড়ে? কে তিনি?
যখন তুমি ঝঞ্জাবিক্ষুব্ধ এক সাগরে স্রোতের ঘূর্ণিপাকে দিকহারা নিঃসঙ্গ এক নাবিক হয়ে পালছেঁড়া ও মাস্তুলভাঙা কিশতির হাল ছেড়ে জীবন সায়াহ্নের প্রহর গুণো, তখন বাঁচার আকুতি নিয়ে, অশ্রুধারা বিসর্জন দিয়ে কার বন্দনা-প্রশস্তি গাও? তিনি কে?
যখন তুমি সুখের সাগরে আনন্দের ভেলায় আরোহণ করো, সীমাহীন আনন্দের সফেদ উচ্ছ্বাসে, উপচে পড়া সঘন খুশির উল্লাসে আন্দোলিত হও, তখন কার কথা, হৃদয়ের আরশিতে কার আভা ও আভাস প্রতিবিম্বিত হয়? কে তিনি?
যখন তুমি জনহীন কোনো বিশাল দ্বীপভূমি বা ধূধূ মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াও, পিপাসায় কাতর হয়ে চাতক পাখির ন্যায় একবিন্দু জলের আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুণো, তখন কার কথা ভাবো? কে তিনি?
যখন তুমি বাগানে ফুলের সুরভিত ঘ্রাণে,পাখির মিষ্টি সুরে গানে, শিশিরসিক্ত ঘাসের ডগায়, প্রজাপতির রঙিন ডানায় অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করে বিমোহিত হও তখন কাকে মনে পড়ে? কে তিনি?
তিনি আল্লাহ। যিনি আমাদের মহান স্রষ্টা। সমগ্র কিছু তাঁরই সৃষ্টি। যিনি সর্বশক্তিমান সম্রাট। অজস্র নক্ষত্র চলে তাঁর ইশারায়। যিনি অপরূপ, অপূর্ব, অনন্য, অতুলনীয়, অনবদ্য জগতের এক দক্ষ কারিগর। যিনি অলৌকিক পবিত্র এক আলোর আভায় উদ্ভাসিত, প্রজ্বলিত, প্রদীপিত, বিকশিত ও মহিমান্বিত এক সত্ত্বা। যিনি বিপুল ঐশ্বর্যে গরীয়ান, ভরপুর মাধুর্যে রূপবান সহস্র প্রাচুর্যে ধনবান। যিনি অসীম অসামান্য জ্ঞানের উজ্জ্বল, প্রোজ্জ্বল এক উৎস। যিনি অনশ্বর, অনিঃশেষ, অধীশ্বর এক পরাক্রমশালী রাজরাজেশ্বর। যিনি অফুরন্ত, অনতিক্রান্ত অনন্ত এক পবিত্র মহিমা। যিনি পরমতম পরম। যিনি সর্বব্যাপ্ত এক মহান সত্ত্বা। যিনি প্রথমতম। যিনি সর্বশেষ। বিনম্র শ্রদ্ধায় বারবার মন গেয়ে যায় তাঁর বন্দনা-প্রশস্তি—রাব্বানা লাকাল হামদু কুল্লু।
মুহাম্মদ আমজাদ ইউনুস : আল-জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া চট্টগ্রাম থেকে
ফেব্রুয়ারি 2019

