এক
বড় চাচাকে আজ অন্য রককম দেখাচ্ছে। থার্টিফাস্ট নাইটে বরাবরই এ রকম হুরহুরে দেখায় তাঁকে।
দুই ঈদ আর এই রাতে তাঁর বাসায় দাওয়াত থাকে আমাদের। প্রায় একযুগ ধরে চাচ্চুরা আলাদা। তাঁরা সিলেট আর আমরা থাকি ঢাকায়। এ-জাতীয় বিশেষ দিনে এক হয় আমাদের এ তিন পরিবার।
এখন রাতের অনুষ্ঠান দেখতে সকলে এক সঙ্গে বসেছি আমরা। প্রতিবারে চেয়ে এবার একটু বেশিই খুশি দেখাচ্ছে চাচাকে। কারণ তাঁর একমাত্র মেয়ে লুবা আজ প্রথম ড্যান্স করবে ইউরো টিভির পর্দায়। বাবা হিসেবে তুমুল খুশি এখন তিনি।
দুই
চাচির কাকুতি অসহ্য ঠেকছে ডাক্তারের কাছে। বিরক্ত-গলায় জবাব দেন তিনি, ‘না ফিরলে আমরা কী করব?’
রাত ১২টা ত্রিশে জ্ঞান হারিয়েছিলেন চাচা। রাস্তার কুকুরেরা গা ঝাড়া দিয়ে উঠছে এখন, ধুলোর সাদাটে আবরণ লেপ্টে আছে তাদের সমুহ গায়, সুবহে সাদিকের অস্পষ্ট আলোয় নেচে উঠছে ঘুমন্ত প্রকৃতিও—চাচার জ্ঞান ফেরেনি তবু।
আমার রাতজাগা-চোখে তিরের মতো এসে বিঁধছে ওই দানবগুলার ভয়ানক চেহারা। ঘোরের ভেতর স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি—মাতাল যৌবনের বিষদাঁতে লুবাপ্পুকে কামড়ে খাচ্ছে ওরা।
এই দৃশ্যটা দেখে অজ্ঞান হইনি কেন? আমি কি তার ভাই? সে কি আমার বোন না? এ-জাতীয় প্রশ্ন তাড়া করছে আমাকে। প্রশ্নতাড়িত হয়ে আবারও কেবিনে ঢোকি। দেখি, চাচার শবদেহ জড়িয়ে ঢুকরে কাঁদছেন চাচি।
সিলেটের নবীন লেখক
জানুয়ারি 2019

