আমার স্বপ্ন

সংখ্যা:

মানুষই একমাত্র প্রাণী যে কিনা নিজের ভবিষ্যত-জীবন নিয়ে স্বপ্ন দেখে। জন্মের পর থেকে স্বপ্ন পূরণে সংগ্রাম করে বাঁচে। এজন্য বোধহয় মানুষকে সংগ্রামী জীব বলা হয়। বয়সের তারতম্যে অবশ্য স্বপ্নের ক্যাটাগরি ভিন্ন হবে। মানুষ স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকে। বেঁচে থাকতে চায় শতাব্দীকাল। যুগ-যুগান্তর। যে মানুষটি শত বছর অতিক্রম করছে, আমরা বলি এটা তার অন্তিমসময়। কাছে গিয়ে দেখুন না, সেও সে বয়সে স্বপ্ন দেখে অনেক কিছুরই শুরু করতে।

মানুষ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্ন দেখা চাই। কিন্তু এমন স্বপ্ন দেখা চলবে না যেটার সাথে বাস্তবতার দেখা পাওয়াটা দুষ্কর। নিজ যোগ্যতা, প্রতিভা, সময় ও সুযোগের সমন্বয়ে যে স্বপ্নটা আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা রয়েছে সেটাই দেখা উচিত।

সর্বযুগেই রয়েছে মিডিয়ার পদচারণা। মিডিয়ার কল্যাণে আমরা অনেক কিছুই জানি, চিনি। জেনেছি অনেক কিছুর ভুল পরিচয়; জেনেছি অনেক কিছুর বিকৃতরূপ; শুনেছি অনেক কল্পকাহিনি। মিডিয়াজগতের সবটাকে আমি মিথ্যার রাজপ্রতিনিধি বলব না, তবে অধিকাংশই যে এর অন্তর্ভুক্ত, তা কিন্তু অমূলক নয়। মানবসভ্যতার ধারক-বাহক ইসলাম। মানবতার বাস্তব শিক্ষা ইসলামই দিয়েছে। জাহেলিয়াতের সভ্যতাকে স্বর্গীয় রূপ দান করেছেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম। যে ইসলামকে ঈমানি প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে বুকে আঁকড়ে ধরে এক জীবন পার করে দেওয়ার কথা, তার আজ কত বিকৃত বয়ান। তথ্যবহুল আলোচনার ফাঁকে হঠাৎ করে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে অশুদ্ধ ও মনগড়া ব্যাখ্যা। বিশাল মজলিসে কথার খই ফুটিয়ে জনতাকে বিমুগ্ধ করে আচানক ভরে দেওয়া হচ্ছে নিজস্ব মতবাদ। সঠিক জ্ঞান অন্বেষণ করে আমি এসব ভ্রান্তি থেকে বাঁচতে চাই। এটাই আমার স্বপ্ন। আমার বিশ্বাস তা আপনিও চাইবেন।

টিভি চ্যানেলের গবেষণাধর্মী প্রতিবেদন, মুক্ত আলোচনা, অনুসন্ধানী রিপোর্ট, টকশো, বিনোদনসহ অনেক কিছুই কাছে টানে। ঠিক সেভাবে সিংহভাগ লোককেও টানছে। বিমোহিত করছে। এতক্ষণে আপনি হয়তো বলেও ফেলেছেন, ‘এসব গোমরাহি কথাবার্তা।’ আমার কথা শেষ করতে দিন। অনুষ্ঠানগুলো শুধু কাছেই টানছে তা না, বরং এর মাঝেই বিস্তৃতি লাভ করছে গোমরাহির নতুন রাজ্য। সুকৌশলে সূক্ষ্মভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে মনগড়া মতবাদ, নিজস্ব ব্যাখ্যা। স্বার্থসিদ্ধির জন্য রচিত হচ্ছে নতুন নতুন কল্পকাহিনি। আল্লাহ ও তাঁর পুণ্যাত্মা নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের চরিত্রে বিভিন্ন কৌশলে আক্রমণ; আজগুবি বানোয়াট কেচ্ছা রচনা; মানবতার ধর্ম ইসলামকে অমানবিক ও সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করা; নবির পূতপবিত্র পত্নীদের নিয়ে জিহ্বাগ্রে আনা যায় না এমন বাজে কথা বলা, টকশোতে আলেম-উলামা দীন-ধর্ম ও ইসলামি সভ্যতার প্রতি বিষোদগার-এ তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। আপনি তিনবার নাউজুবিল্লাহ পড়ে বলবেন, এসব থেকে দূরে থাকো। এতে করে সমস্যার সমাধান হয় না। যুগে যুগে বিভিন্ন সেক্টরে সন্ত্রাসী কর্মকা- চালিয়ে তার দায়ভার শেষমেশ মুসলিমদের কাঁধেই ওঠে। আজ বিশ্বে জগদ্বিখ্যাত সন্ত্রাসীরা নোবেলসহ বিভিন্ন পুরস্কার পায়। শান্তির মডেল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের নামে শত অপবাদ। দুনিয়ার কোনো কিছুই আর সুস্থ বলে মনে হয় না। আমাদের চিন্তাচেতনা, রীতিনীতি, চলা-বলা, কৌশল, পথঘাট সবকিছুই আক্রান্ত।

এর থেকে পরিত্রাণ পেতে, সময়ের চাহিদা মোতাবেক দুনিয়াকে বাহন বানিয়ে, ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে হবে সকল মুত্তাকিদের দ্বারে দ্বারে। এর জন্য চাই মিডিয়াজগতে ইসলামি শক্তির স্বাধীন পথচলা। চাই বইজগত, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় একক আধিপত্য। একুশে গ্রন্থমেলা হোক আমাদের গ্রন্থমেলা। আমাদের ভাই-বেরাদর দিয়েই পরিচালিত হোক একটি টিভি চ্যানেল। একজন নিষ্ঠাবান দায়ি হয়ে এ পথের একজন পথিক হতে পারা; এটাই আমার স্বপ্ন।

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১