নিদারুণ বিরক্তির সাথে হাত ঘড়িটার দিকে তাকালো শামীম। চোখজোড়া কুঁচকে গেল তার। আধ ঘন্টা দেরি। সুবিশাল তকতকে লাউঞ্জের বাঁদিকে একটা সোফায় আড়াআড়িভাবে বসে আছে সে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল। বিভিন্ন বয়সী আরও কিছু যাত্রীকে তারই মতো অপেক্ষমান দেখা গেল, কিছু বিদেশিও চোখে পড়ল। সবার মধ্যেই এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। বেঁটে, গোলগাল চেহারার, স্যুট-টাই পরা লোকটার দিকে চোখ আটকে গেল শামীমের। দুহাত প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে আলস্য ভঙ্গিতে পায়চারী করছেন। ভদ্রলোকের চেহারায় মিটিমিটি একটা হাসি ঝুলছে। মনে হচ্ছে এই অস্থিরতাটাকে উপভোগ করছেন তিনি। সোফার অন্যপাশে শেতাঙ্গ এক বৃদ্ধ কুঁজো হয়ে বসে একটি ইংরেজি ম্যাগাজিনে চোখ বুলাচ্ছেন। মাথার সমস্ত চুল, ভ্রু জোড়া, এমনকি চোখের পাপড়িও সাদা। বার্ধক্যহেতু ঝুলেপড়া চামড়ার মুখটায় তিলের ছড়াছড়ি। বাম পাশে কাত হয়ে থাকা সিলভারের লাঠিটা কৃত্রিম আলোয় ঝলসে উঠছে। শামীম এইসব দেখে সময় পার করার চেষ্টা চালিয়ে গেল।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের বিশাল লাউঞ্জে একদল যাত্রীর উপস্থিতি লক্ষ করা গেল। এদের আজকের যাত্রা বরফ-ঘেরা পাহাড়ের দেশ নেপাল। নেপালকে বলা হয় হিমালয়-কন্যা। এখানেই দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত শৃঙ্গ ‘মাউন্ট এভারেস্ট’। দৈত্যাকৃতির বিশাল দেহটা নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা পাহাড়টা যেন আকাশ ছোঁয়া। ইউএস বাংলার একটি বিমান ঠিক দুপুর একটায় এদেরকে নিয়ে উড়ে যাওয়ার কথা। সিডিউল বিপর্যয়ের কবলে পড়ে ফ্লাইটটি প্রায় দেড় ঘণ্টা পিছিয়ে গেল।
ফরহাদ প্রবল অস্বস্তির সাথে দাঁত দিয়ে নখ কাটছে। তার মধ্যে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। সে অতিশয় ভয় নিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। পাশে রাখা সেলফোনে নাকি সুরে গান বেজে উঠল। আবার মায়ের ফোন। এই নিয়ে অষ্টমবারের মতো তাকে বলতে হলো ‘মা, চিন্তা করো না, আমি পৌঁছে তোমাকে কল করব।’ ফরহাদ কাঁধ-ব্যাগটা কোলে নিয়ে দুই হাতে শক্তভাবে চেপে রাখল। ছিপছিপে তিনটা ছেলে ফরহাদের পাশে এসে বসে পড়ল। ছেলেগুলো একটু বেশিমাত্রায় উচ্ছল। সেই শুরু থেকে হুল্লোড়ে মাতিয়ে রেখেছে পুরো জায়গাটা। ফরহাদ ভয়ে ভয়ে এদের কর্মকাণ্ড দেখতে লাগল। ফরহাদের ঠিক পেছনে একজোড়া ছেলেমেয়ে গুটিগুটি করে কথা বলছে। কথার ধরনই বলে দিচ্ছে, মেয়েটি নবপরিণীতা। দুই হাত ভরা মেহেদির রং এখনো অমলিন। ছেলেটি কথা বলছে বেশ লাজুক স্বরে। তার ঠিক অদূরেই আরেকটি মেয়েকে সুস্থির চিন্তাহীন হয়ে বসে থাকতে দেখা গেল। এই মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে, যেন জগতের কোনো কিছুই অস্বাভাবিক নয়। মেয়েটিকে দেখে ফরহাদ এক ধরনের মমতা অনুভব করল। এই মমতার রহস্য সে বুঝে উঠতে পারল না। একটা কফি নেয়া যায় কিনা ভাবছে ফরহাদ। তখনই স্পিকারে সুরেলা নারীকণ্ঠ ভেসে আসলো। যাত্রীরা সবাই ব্যস্ত ব্যস্ত ভাবে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো।
মধ্যাকাশে টুকরো টুকরো মেঘ ভেদ করে ছুটে চলা প্রকাণ্ড উড়োজাহাজটার পেটের ভেতর বসে আছে শামীম। প্রায় গোলাকৃতির জানালা ভেদ করে দৃষ্টি গিয়ে পড়ছে অতি নিচে বিস্তৃত সবুজের সমারোহে। যেন সবুজ কার্পেটে মোড়ানো পৃথিবী। ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে দিঘির নীল জলরাশি, দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের মাঠ, উঁচু-নিচু অসংখ্য টিলা। এখান থেকে বিমানের আধোডানা দেখা যাচ্ছে। ঘাড় ঘোরাতেই খানিক চমকে উঠল শামীম। সেই টাকমাথার বেঁটে লোকটা তার পাশে এসে আসন দখল করেছে। চোখে চোখ পরতেই একগাল হেসে লোকটাকে আমন্ত্রণ জানালো শামীম। লোকটার প্রতিক্রিয়া হলো ঠিক উল্টো। তার কপালের মাঝের অংশ হঠাৎ করেই কুঁচকে গেল। নিতান্ত শুষ্ক একটা হাসি দিয়ে সৌজন্যবোধটুকু রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা গেল না লোকটার মাঝে। মারাত্মক অপমানিত বোধ করল শামীম। মনে মনে মোটামুটি অশ্লীল একটা গালি দিয়ে বসলো।
অনেক পরে শামীম বুঝতে পারল, উপরে যেমনই হোক, ভেতরে কিন্তু সে দারুণ আনন্দিত। শামীমের কাছে মনে হলো, লোকটা বিরল কোনো রোগে আক্রান্ত। বেদনার ভঙ্গিমায় সুখ প্রকাশ করা এই রোগের প্রধান লক্ষণ। লাউঞ্জে লোকটার হাতে গাঢ় নীল রঙের বিশাল একটা লাগেজ দেখেছিল শামীম। লোকটার সাথে নীল রং বেশ মানানসই মনে হলো। সামনের সিটে কয়েকটা ছেলে উচ্চস্বরে গান ধরল। গানের কিছু শব্দ বেশ কুরুচিপূর্ণ। ওরা সেই অশালীন শব্দগুলোই আয়েশ করে শোনাতে লাগলো। আশপাশের যাত্রীরা চোখ গরম করে শাসালো, কিন্তু ওরা এই চোখরাঙানি আমলে নিলো বলে মনে হলো না।
বাঁ হাতে মাথার হ্যাটটা সোজা করে নির্দিষ্ট আসনে গা এলিয়ে দিলেন আসলাম শেখ। কাঠমান্ডু অফিসের ফাইলটা চোখের সামনে মেলে ধরলেন। আড়চোখে লক্ষ্য করলেন, তার পাশে এসে জুটেছে কোঁকড়া চুলের মাঝ বয়সী এক যুবক। সে সবকিছু খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। ‘ওয়াশরুমটা কোন দিকে?’ এটা জানতে চেয়ে একজন ক্রুর সাথে ২০ মিনিট কথা বলল। দুই ধরনের লোক আসলাম শেখ বড়ই অপছন্দ করেন। এক হচ্ছে যার সব কিছুতেই অতি উৎসাহ, আর দ্বিতীয় হলো, যে কারণে অকারণে বেশি কথা বলে। দুর্ভাগ্যের কথা, এই দুইটা অভ্যাসই তিনি তাঁর স্ত্রীর মধ্যে পেয়েছেন। পাশে বসা ছোকরাটার মধ্যেও বোধহয় এই দুই বদ স্বভাব বিদ্যমান।
‘আঙ্কেল, এখানে কি ডিনারের কোনো ব্যবস্থা হবে?’
আসলাম শেখ দায়সারা জবাব দিলেন।
‘আচ্ছা আপনি কি ট্যুরে যাচ্ছেন নাকি অফিসের কোনো কাজে?’
ছোকরা জবাবের অপেক্ষা না করেই বলতে শুরু করল, ‘যদি ট্যুরে যান তাহলে আমাকে কিন্তু সাথে নিতে পারেন। কাঠমান্ডুর প্রতিটি কোনা আমার নখদর্পণে। ললিতপুরের লাল পেস্তা খেয়েছেন কখনো? একেবারে অমৃতের মতো। প্রথম কামড়ে অবশ্য তেতো মনে হবে। আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসে আসল স্বাদ।’
ছোকরা কথার পিঠে কথা চালিয়ে যেতে লাগল। আলোচনার বিষয়বস্তু তার বাবা, নানার গল্পে গিয়ে ঠেকলো। আসলাম শেখ প্রথম প্রথম মৃদু মাথা নেড়ে সমর্থন জানালেন। তারপর বিরক্তি প্রকাশক শব্দ উচ্চারণ করতে লাগলেন। কিছুতেই কিছু হলো না। ছোকড়ার বস্তা ভরা কথা ফুরোতেই চায় না। এই পর্যায়ে এসে সে তার একমাত্র খালার বাড়ি সুইডেনের গল্প আরম্ভ করল। আসলাম শেখ ফাইল বন্ধ করে চোখ মুদলেন। তার মাথা ধরে গেছে, তিনি কল্পনা করলেন যে, তিনি ছেলেটার ডান গালে কষে একটা থাপ্পড় মেরেছেন। তাঁকে চোখ মুদতে দেখেই ছেলেটা বলে উঠল, ‘কী ব্যাপার, আপনার কি মাথা ধরেছে? তাহলে আমার সাথে কথা বলুন। কথা বললে মাথাব্যথা থেমে যাবে।’ আসলাম শেখের বিরক্তি সীমা অতিক্রম করে ভয়ানক রাগে পরিণত হলো।
‘এক্সকিউজ মি, আমি কি বসতে পারি?’
নিপা চওড়া একটা হাসি দিয়ে বলল, ‘সিটটা আপনার হলে অবশ্যই বসুন।’ লম্বা স্বাস্থ্যবান লোকটা বেশ সময় নিয়ে নিপার বাঁদিকের আসনটায় বসে পড়ল। যেন বসাটাও কোনো শিল্পের পর্যায়ে পড়ে। নিপা আলতো করে কানের উপর পড়ে থাকা চুল পিঠের দিকে ছড়িয়ে দিলো। লোকটা বসেই হাত দুটো ঝাড়া দিলো। সোনালি রঙের হাতঘড়িটা চকচক করে উঠল। নিপা ডান হাতের তালুর উপর চিবুক রাখল। তার সমস্ত দৃষ্টি স্বচ্ছ কাঁচ ভেদ করে সীমাহীন আকাশের দিকে নিবদ্ধ। অজস্র শূন্যতা এসে ভর করল। হঠাৎ করেই নিপার মায়ের কথা মনে পড়ল। মা আজ পৃথিবীতে নেই। কিন্তু নিপা সমস্ত শরীর দিয়ে মায়ের অস্তিত্ব অনুভব করে। ছেলেবেলায় মায়ের কোলে মাথা না রেখে নিপা ঘুমাতে পারতো না। মা তার একরাশ কালো চুলে বিলি কেটে দিতেন। এখনো সে মায়ের কোলে ঘুমোতে চায়। সমগ্র দেহমন একীভূত করে মায়ের স্পর্শ পেতে চায়। মায়ের মায়ার বাঁধন থেকে সে মুক্ত হতে চায় না কোনোদিন। লাউঞ্জে একটা ভীতু প্রকৃতির ছেলে বারবার তাকে দেখছিল। ছেলেটির চোখে মায়ার সমুদ্র টের পেয়েছিল নিপা। আজন্ম ছুটে চলা এই পৃথিবীতে মায়া জিনিসটা বড়ই অদ্ভুত।
মাইক্রোফোনে গম্ভীর কন্ঠস্বর কানে বাজতেই সংবিৎ ফিরে পেল নিপা। গুমোট পরিবেশটাতে সহসা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলো। সকলকে সিটবেল্ট বাঁধতে বলা হয়েছে। ১০ মিনিটের মাথায় বিমানটি কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে ল্যান্ড করবে। নিপার কেন যেন একটু ভয় ভয় করতে লাগল। শেষবারের মতো সবার চেহারায় চোখ বুলিয়ে নিলো। সকলের চোখে-মুখে তখন অনাবিল স্নিগ্ধতার আবেশ।
কাঠমান্ডু ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার কন্ট্রোল টাওয়ারে দাঁড়িয়ে কফির মগ হাতে রাডারে চোখ রাখছিল ইয়েকো তেরপা। ইউএস-বাংলার বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি নাক নিচু করে বিকট আওয়াজে রানওয়ে ছুঁলো। পাখির চোখ দিয়ে বিমানের গতিবিধি লক্ষ করছিল তেরপা। দ্রুত বেগে ধাবিত বিমানটিকে হঠাৎ অস্বাভাবিক মনে হলো। তৎক্ষণাৎ পাইলটের সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিলো সে।
‘হ্যালো, লিসেন টু মি, এনি প্রবলেম?’
ওপাশ থেকে শোনা গেল ক্যাপ্টেন খালেদা আকরামের অস্ফুট স্বর। ছোট্ট করে জবাব আসলো, ‘নো’।
প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলল তেরপা। ঠিক আগের জায়গাটায় এসে দাঁড়াল। ধোঁয়া ওঠা কফির মগে একটা চুমুক দিলো। এখান থেকে বিমানের লেজ চোখে পড়ছে। একটু পর লক্ষ করলো তেরপা, বিমানটি রানওয়ে থেকে বেরিয়ে এসে সোজা মাঠের দিকে ছুটছে। ভেতরটা ধক করে উঠল তার। শরীরের সমস্ত রক্ত হিম হয়ে গেল। পাথরের মতো জমে গেল সে। ভয়ের চোটে ঠিকরে বেরিয়ে আসা চোখদুটো দিয়ে সে দেখল, অনবরত আছাড় খেতে খেতে মাঠের ভেতর দিয়ে এগুচ্ছে বিমানটি। মাঠের ঠিক মাঝে এসে শিকার করা জন্তুর মতো মুখ থুবড়ে পড়ল। বাম বাহুতে আগুন ধরে গেল। বিমানের ভেতর থেকে অসংখ্য ভীতিকর চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। দেখতে দেখতে বিমানের পুরো অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ল। আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে ভয়ানক বিস্ফোরণ হলো। বিমানবন্দরের সুউচ্চ প্রাচীরগুলো আর্তনাদ করে উঠল। গোধূলিলগ্নে নীড়ে ফেরা পাখিরা সশব্দে ডানা ঝাপটালো। সন্ধ্যালোকের নির্জনতা ভেঙে দিয়ে আহতদের আর্তচিৎকার বাতাসকে ভারি করে তুলল। এই বাতাসে সত্যিই লাশের গন্ধ ভাসছে। এই আকাশ, এই মাটি, এই ধুলোবালি, প্রলয়ংকর ভয়াবহতা থেকে নিষ্কৃতি চাইছে। এই ধ্বংসলীলা ভাষায় প্রকাশ করার নয়। এই বিভীষিকাময় দৃশ্য হৃদয়ের গভীরে তীব্রভাবে কষাঘাত করে।
মানুষ মাত্রই স্বপ্নচারী। স্বপ্ন দেখেই সে জীবনের গতিপথ নির্ধারণ করে। মানুষ তাই প্রতিনিয়ত ছুটে চলে স্বপ্নের পেছনে। অবিরত, অবিশ্রান্ত। ছোট্ট এই উড়োজাহাজটির যাত্রীরাও ছুটে চলেছিল স্বপ্নের পথ ধরে। কিন্তু এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়াল এক মহাসত্য। এই মহাসত্য অস্বীকার করার উপায় কারও নেই।
ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া বিমানটির এদিক-ওদিক ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ব্যবহৃত বস্তু। যেগুলোতে এক সময়ে মায়ের স্পর্শ ছিল। ছিল মমতার কোমল ছায়া। এখন এগুলো পুরে কয়লা হয়ে গেছে। এগুলোর ভেতর পাওয়া গেল একটা লাঠি। আর ছিল একটি বড় লাগেজ। এই লাগেজের রং কি নীল?
পরদিন নিহতদের স্বজনরা আসলো লাশ শনাক্ত করতে। এরা আজ পৃথিবীর সবচেয়ে হতাশাগ্রস্ত মানুষ। শোকের প্রতাপে এদের কান্নারাও থমকে গেছে। এক বাবা তার মেয়েকে খুঁজছিলেন। মেয়েটির নতুন বিয়ে হয়েছিল। পুড়ে যাওয়া অসংখ্য লাশের ভিড়ে মেয়ের মরদেহ চিহ্নিত করার উপায় ছিল না। অবশেষে আঙুলে বিয়ের আংটি দেখে মেয়েকে শনাক্ত করলেন বাবা। আহা, কী কষ্ট, কী নিদারুণ শোকের যন্ত্রণা!
(২০১৮ সালের ১২ মার্চ কাঠমান্ডু ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াল বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।)
লালবাগ, ঢাকা
জানুয়ারি 2020

