চট্টলায় ইসলামের আগমন, বিকাশ ও সমৃদ্ধি

সংখ্যা:

 

প্রাচ্যের রানি নামে খ্যাত হাজার হাজার বছরের নানা ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এই চট্টগ্রাম।‍ নিসর্গতন্বী চট্টগ্রাম রূপে-রসে, প্রাচুর্যে, ঐশ্বর্যে ভরা। রূপলোক, অপূর্ব-অপরূপ রতনের আধার।

পাহাড়-সমুদ্র-নদী-হ্রদ-ঝর্ণা, মিথুন-ব্যাকুলিতা নদী, সুতল জলদল সমুদ্র, কচি ধান-পাটের কারুকার্য করা শ্যামল আঁচল-দোলানো দিগন্তবিস্তৃত মাঠ ও স্বচ্ছ-সতেজ, সবুজ তৃণদল-লতাগুল্ম অঢেল নন্দনশ্রীর উপচয়, উপাদান-উপকরণে ভরপুর এই রূপ-নিকুঞ্জ। বঙ্গোপসারের বিশালতা ও দিগন্তবিস্তৃত উত্তাল শৈলমালা, পাহাড়ের অনিন্দ্য মাধুর্য মৌনতা ও বহমান নদ-নদীর কলকাকলিতে মুখর এই রূপসী অনন্যা। মোহ-জাগানিয়া সুন্দরের আবেশ-মোড়ানো এই উর্বশী। পল্লিবধূর মতো স্নিগ্ধ মমতাময়ী এই রূপবধূয়া। যার বুকে মাথা রেখে কবি নজরুল দেখেছেন সর্ষে ফুলের আঁচল বিছিয়ে উদাসিনী বালিকাকে নদীর ঢেউ খেলানো চুল এলিয়ে দিতে।

বীর প্রসবিনী চট্টগ্রাম। রত্নগর্ভা এই ভূমি। প্রীতিলতা সূর্যসেনদের বীরত্বগাঁথা ইতিহাসের মূক সাক্ষী এই ভূমি। আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ, আহমদ শরীফ ও আহমদ ছফার মতো যুগশ্রেষ্ঠ অনন্য ইতিহাসবেত্তা, বিশ্লেষক ও সাহিত্যপ্রতিভূর কলম এই ভূমির বীর্যে ঐশ্বর্যমণ্ডিত।

শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধনে চট্টগ্রামের রয়েছে গর্বিত ইতিহাস। ভৌগলিক অবস্থানের দাপটে সমগ্র এশিয়া তথা প্রাচ্য-প্রতীচ্যের মেলবন্ধন হিসেবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতেও চট্টগ্রাম। ব্রিটিশ উপনিবেশবিরোধী আন্দোলনের সূচনালগ্নে সিপাহি বিপ্লব থেকে শুরু করে বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতাসংগ্রাম, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধসহ সকল ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন ও আন্দোলন-সংগ্রামের বীরত্বগাঁথা হাজার বছরের ঐতিহ্যময় চট্টগ্রামের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ কালের পটে। অগ্নিগর্ভ বীর চট্টগ্রাম এক সমৃদ্ধ সংগ্রামী অতীত, ধর্ম-কৃষ্টি, আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অপার ঐশ্বর্যের ধারক বাহক হয়ে গর্বের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

 

চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি

বৈচিত্রময়ী চট্টগ্রামের নামও বৈচিত্রে ভরা। খ্রিষ্টীয় দশম শতকের আগে চট্টগ্রাম নামের অস্তিত্ব ছিল না। অর্থাৎ চট্টগ্রাম নামের কোনো উৎসের সন্ধান পাওয়াা যায় না। তাই দেখা যায়, সুপ্রাচীনকাল থেকে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন পরিব্রাজক ও পণ্ডিতগণের লিখিত বিবরণে, অংকিত মানচিত্রে এবং এখানকার শাসক গৌড়ের সুলতান ও রাজাদের মুদ্রায় চট্টগ্রাম বহু নামে খ্যাত ছিল। এ পর্যন্ত চট্টগ্রামের ৪৮টি নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সমন্দর, আদর্শ দেশ, সুহ্মদেশ, ক্লিং বা কালেন, রম্যভূমি, চিতাগাঁও, চিৎগাঁও, চট্টল, চৈত্যগ্রাম, সপ্তগ্রাম, চট্টলা, চট্টগ্রাম, চক্রশালা, চন্দ্রনাথ, চরতল, চিতাগঞ্জ, চাটিগাঁ, শ্রীচট্টল, সাতগাঁও, সীতাগঙ্গা, সীতাগাঙ্গ, সতের কাউন, পুষ্পপুর, রামেশ, কর্ণবুল, সহরেসবুজ, পার্ব্বতী, খোর্দ্দ-আবাদ, সোদকাওয়ান, ফতেয়াবাদ, আনক, রোশাং, ইসলামাবাদ, মগরাজ্য, কিরাত, যতরকুল, চক্রশা, শ্রীযুক্ত কেলিশহর ও পেন্টাপোলিস ইত্যাদি। কিন্তু কোনো নামের সঙ্গে গুটিকয়েক ব্যক্তি ছাড়া কেউ একমত হননি। সে-সব নাম থেকে চট্টগ্রামের নাম-উৎপত্তির সম্ভাব্য ও চট্টগ্রামের নামের সঙ্গে ধ্বনিমিলযুক্ত কিছু নামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো।

শ্যাৎগাঙ্গ : বার্ণোলী সাহেবের মতে আরবি শ্যাৎগাঙ্গ শব্দ বিবর্তিত হয়ে চট্টগ্রাম নামের উদ্ভব হয়েছে। শ্যাৎ অর্থ বদ্বীপ, গাঙ্গ অর্থ গঙ্গানদী। চট্টগ্রাম গঙ্গানদীর মোহনাস্থিত বদ্বীপ—প্রাচীন আরব বণিক-নাবিকদের এই ধারণা থেকে এর নামকরণ করা হয়েছিল শ্যাৎগাঙ্গ। পরবর্তীকালে শ্যাৎগাঙ্গ নাম বিবর্তিত হয়ে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি।

সুদকাওয়ান : আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্গত মরক্কোর অধিবাসী ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে বঙ্গ ও আসাম পরিভ্রমণ করেন। তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনিতে চট্টগ্রামকে সুদকাওয়ান নামে উল্লেখ করেন।

চাটিগাঁ : চট্টগ্রামের মুসলমানদের মধ্যে প্রচলিত জনশ্রুতি থেকে জানা যায়, প্রাচীনকালে চট্টগ্রাম ছিল জিন-পরি অধ্যুষিত দেশ। পীর বদর শাহ‌ এখানে আগমন করে অলৌকিক চাটির (মৃৎ-প্রদীপ) আলোর তেজের সাহায্যে জিন-পরি বিতাড়িত করার ফলে এই স্থানের নাম হয় চাটিগাঁ।

চৈত্যগ্রাম : চট্টগ্রামের বাঙালি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অভিমত এই যে, প্রাচীনকালে এখানে অসংখ্য বৌদ্ধ চৈত্য অবস্থিত ছিল বলে এ স্থানের নাম হয় চৈত্যগ্রাম। চৈত্য অর্থ বৌদ্ধমন্দির কেয়াং বা বিহার। এই চৈত্যের সঙ্গে গ্রাম শব্দ যুক্ত হয় বলে চৈত্যগ্রাম নামের উদ্ভব ঘটে। পরবর্তীকালে চৈত্যগ্রাম নাম বিবর্তিত হয়ে চট্টগ্রাম রূপ প্রাপ্ত হয়।

চতুঃগ্রাম : ব্রিটিশ আমলের গেজেটিয়ার লেখক ওমলি সাহেবের মতে, সংস্কৃত চতুঃগ্রাম শব্দ থেকে চট্টগ্রাম নামের উৎপত্তি। চতুঃ অর্থ চার। চতুঃ শব্দের সঙ্গে গ্রাম শব্দ যুক্ত হয়ে চতুঃগ্রাম হয়। চতুঃগ্রাম বিবর্তিত হয়ে চট্টগ্রাম রূপ প্রাপ্ত হয়।

 

ইবনে বতুতার বিবরণীতে চট্টগ্রাম

মরক্কোর বিশ্ববিখ্যাত পরিব্রাজক ইবনে বতুতা। তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ। ২১ বছর বয়স থেকে শুরু করে জীবনের পরবর্তী ৩০ বছরে তিনি প্রায় ৭৫ হাজার মাইল পথ পরিভ্রমণ করেছেন। ঘুরে বেড়িয়েছেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। জানার ও শেখার সুতীব্র বাসনা নিয়ে কখনো জলে কখনো ডাঙায় ভ্রমণ করেছেন দীর্ঘকাল।

ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় সফর করেন। সর্বপ্রথম পা রাখেন চট্টগ্রামে। তাঁর ভ্রমণগ্রন্থে চট্টগ্রামকে তিনি চিত্রিত করেছেন এভাবে—‘বাংলাদেশের যে শহরে আমরা প্রবেশ করলাম তা হলো সোদকাওয়াঙ (চট্টগ্রাম)। এটি মহাসমুদ্রের তীরে অবস্থিত একটি বিরাট শহর, এরই কাছে গঙ্গা নদী— যেখানে হিন্দুরা তীর্থ করেন—ও যমুনা নদী একসঙ্গে মিলেছে এবং সেখান থেকে প্রবাহিত হয়ে তারা সমুদ্রে পড়েছে। গঙ্গা নদীর তীরে অসংখ্য জাহাজ ছিল, সেইগুলি দিয়ে তারা লখনৌতির লোকেদের সঙ্গে যুদ্ধ করে। …আমি সোদওয়াঙ ত্যাগ করে কামরু (কামরূপ) পর্বতমালার দিকে রওনা হলাম।’

ইবনে বতুতার ভ্রমণগ্রন্থে সেই সেময়ে এখানকার জলবায়ু ও প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনা মিলে। বাংলার সুদৃশ্য শ্যামল সবুজ প্রান্তর, পল্লির ছায়াসুনিবিড় সবুজের সমারোহ তাঁকে এতটাই মুগ্ধ করেছে যে, তিনি উচ্ছ্বসিত হয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা ১৫ দিন নদীর দুপাশে সবুজ গ্রাম ও ফলফলাদির বাগানের মধ্য দিয়ে নৌকায় পাল তুলে চলেছি, মনে হয়েছে যেন আমরা কোনো পণ্যসমৃদ্ধ বাজারের মধ্য দিয়ে চলছি। নদীর দুই কূলে জমিতে জলসেচের কল, সুদৃশ্য গ্রাম ও ফলের বাগান, যেমনটি রয়েছে মিশরের নীলনদের দুই তীরে।’

সেই সময় বাংলার সুলতান ছিলেন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ। ইবনে বতুতা তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। লখনৌতির সুলতান আলাউদ্দিন আলি শাহ ও তাঁর মধ্যকার তীব্র সংঘর্ষের স্পষ্ট চিত্রও তুলে ধরেছেন। তৎকালীন মুসলিম শাসনামলে মানুষের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সচ্ছল। দেশে খাদ্যশস্যের প্রাচুর্য এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যের সস্তা দর উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন—‘পণ্যের এমন প্রাচুর্য ও সস্তা দর আমি পৃথিবীর আর কোথাও দেখিনি।’ তাঁর বর্ণনায় পাওয়া যায়, মাত্র এক দিরহাম দিয়ে তখন বাংলাদেশে আটটি স্বাস্থ্যবান মুরগি পাওয়া যেত। এ ছাড়াও এক দিরহামে ১৫টা কবুতর, দুই দিরহামে একটি ভেড়া এবং এক স্বর্ণমুদ্রারও কম মূল্যে দাস-দাসী কিনতে পাওয়া যেত।

ইবনে বতুতার বিবরণে ফুটে ওঠে তৎকালীন বাংলার কিছু সামাজিক বিষয়ের দুর্লভ চিত্র। হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের লোকের ওপর সুফি-দরবেশদের প্রভাব তিনি লক্ষ করেছেন সে-কালে।

সাধক-ফকিরদের জন্য ছিল বিশেষ সুযোগ-সুবিধা। সুলতানের আদেশ অনুসারে নদী পারাপারের জন্য সাধক-ফকিরদের কোনো অর্থ প্রদান করতে হতো না এবং স্থানীয় জনগণের কর্তব্য নির্ধারিত ছিল ফকির-দরবেশদের বিনামূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা। রাষ্ট্রীয় নির্দেশ মতে এমন রেওয়াজ ছিল যে, কোনো ফকির-দরবেশ কোনো শহরে পৌঁছুলে তাঁকে অর্ধ দিনার ভাতা প্রদান করতে হতো। এ-জাতীয় আরও অনেক সামাজিক দুর্লভ বিষয়ে নোঙর ফেলেন ইবনে বতুতা।

ইবনে বতুতার বিবরণেই আমরা বাংলার অধিবাসীদের জীবন সম্পর্কে সর্বপ্রথম প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করি। তিনি তাঁর বিবরণের তথ্য সংগ্রহ করেছেন এদেশে তাঁর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে এবং আপামর জনগণের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগাযোগের মাধ্যমে। তাঁর বিবরণ সংক্ষিপ্ত হলেও তাতে বাংলার মানুষের জীবনের প্রায় সকল দিক সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। প্রকৃতির সৌন্দর্য অবলোকনে তাঁর প্রাণবন্ত অনুভূতি, সুক্ষ্ম হৃদয়াবেগ এবং তাঁর সাবলীল প্রকাশভঙ্গি নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যের বর্ণনাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

 

চট্টগ্রামে ইসলামের আগমন

চট্টগ্রাম বাংলার বাবুল ইসলাম বা ইসলামের প্রবেশ দ্বার হিসাবে খ্যাত। উপমহাদেশে সর্বপ্রথম চট্টগ্রামই ইসলামের দীপ্ত আভায় উদ্ভাসিত হয়েছিল। পরে আস্তে আস্তে তা পুরো বাংলায় ও উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে তিন পর্যায়ে ইসলামের আগমন ঘটে। প্রথমত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সাহাবিদের মাধ্যমে, দ্বিতীয়ত আরব বণিকদের মাধ্যমে, তৃতীয়ত সুফি-সাধকের মাধ্যমে। উল্লেখিত তিনটি বিষয়ে ইতিহাসের সোনালি অধ্যায় থেকে আসুন কিছু জানি।

 

চট্টগ্রামে সাহাবিদের আগমন

রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের সাহাবিদের পদধূলিতে ধন্য এই চট্টলা। সাহাবিদের পবিত্র স্পর্শে এ মাটি সতেজ ও প্রাণবন্ত হয়। এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের অনন্ত তৃষ্ণা মেটে সাহাবাদের সংস্পর্শে। তাঁদের দীপ্ত জ্যোতি ঠিকরে পড়েছিল এ অঞ্চলের প্রতিটি কোণায়-কোণায়, এ মাটির প্রতিটি ধূলিকণায়। তাঁদের দীপশিখার স্নিগ্ধ ছোঁয়ায় জ্বলে উঠেছিল আরও শত সহস্র দীপমালা। একবার নয় একাধিক বার এ অঞ্চল সাহাবিদের পবিত্র পদভারে মুখরিত হয়েছে। এ অঞ্চলে কবে সাহাবিদের আগমন ঘটে, তা জানতে হলে আমাদের জানতে হবে ভারতের কেরালা ও চীনে ইসলাম আগমনের ইতিহাস।

 

কেরালায় ইসলামের আগমন

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের মাধ্যমে আরবে ইসলাম ধর্মের উদ্ভব ও বিস্তৃতির প্রাক্কালে আরব বণিকদের সঙ্গে মুসলিম ধর্মপ্রচারক কয়েকজন সাহাবি হজরত মালেক দিনার রাদিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে কেরালার ‘কুডুংগালোর’ এলাকায় আগমন করেন। তখন সেখানের ‘চেরা’ রাজ্যের শাসনকর্তা ছিলেন ব্রাহ্মণ-রাজা ‘চেরামন পেরুমল’। তিনি ইসলাম ধর্ম সম্বন্ধে অবগত হয়ে এর প্রতি আকৃষ্ট হন। বিস্মিত রাজা ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ইচ্ছে পোষণ করেন এবং তাঁর উত্তরসূরির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে আগত সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে আরব গমন করেন। সেখানে হজরত মুহম্মদ সাল্রাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মুসলিম হবার পর তাঁর নাম রাখা হয় ‘তাজউদ্দিন’। অতঃপর সাহাবাদের সঙ্গে নিয়ে ভারতের ফেরার পথে চেরা রাজ তাজউদ্দিন ওমানের সালালায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুশয্যায় শায়িত রাজা তাঁর উত্তরসূরিদের উদ্দেশে একটি পত্র লিখে অনুরোধ জানান, যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রচারে সহায়তা করা হয় এবং তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে যেন একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। সাহাবা হজরত মালেক দিনার, তাঁর পরিবারবর্গ, মালেক বিন হাবিবসহ বহু সাহাবা কেরালায় ফিরে আসেন। সরকারিভাবে মুসলমানদের মসজিদ নির্মাণ করার জন্য ভূমিদান করা হয়। ফলে সাহাবি হজরত মালেক দিনারের নেতৃত্বে ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে কেরালার ‘কুডুংগালোর’-এ ‘চেরামন পেরুমল জামে মসজিদ’ নির্মিত হয়েছিল, যা এশিয়ার প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত।

 

চীনে ইসলামের আগমন

চীনে ইসলাম প্রচারের ইতিহাস সুপ্রাচীন। চীনা ভাষায় সে দেশে ইসলামের আগমন সম্পর্কিত যেসব তথ্যসূত্র পাওয়া যায়, তা থেকে জানা যায়, খ্রিষ্টীয় ৬২২ সনের কাছাকাছি কোনো এক সময়ে (হিজরি ৩ সনে) চীন উপকূলে ইসলাম প্রচারকরা আগমন করেন। দলনেতা ছিলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের মাতুল হজরত আবু ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাহাবি হজরত কায়েস ইবনে হুজায়ফা, হজরত উরওয়াহ ইবনে আসাসা এবং হজরত আবু কায়েস ইবনুল হারেস রাদিয়াল্লাহু আনহুম। দলনেতা হজরত আবু ওয়াক্কাস এ সময় চীনের ক্যান্টন বন্দরে অবস্থান করেন। সে-স্থানে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত কোয়াংটা মসজিদ আজও বিদ্যমান। মসজিদের অদূরেই তাঁর কবর ১৪০০ বছর ধরে চীনা মুসলমানদের সর্বাপেক্ষা পবিত্র ও প্রিয় জিয়ারতগাহ হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্য দুইজন সাহাবি উপকূলীয় ফু-কিন প্রদেশের চুয়ান-চু বন্দরের নিকটবর্তী লিং নামক পাহাড়ের পাদদেশে সমাহিত রয়েছেন।

দি হিস্ট্রি অব ইসলাম-ইন চায়না এবং দি লার্জ মুসলিম পপুলেশান ইন ওয়েস্টার্ন চায়না গ্রন্থদ্বয় সূত্রে জানা যায়, চীনের বুদ্ধ-ধর্মাবলম্বী অধিবাসীরা সর্বপ্রথম ৬১৭-৬১৮ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ইসলাম ধর্মের সংস্পর্শে আসেন। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস তাঁর তিন সাথি হজরত সাঈদ, ওহাব বিন আবু কাফছা ও জাহাস রাদিয়াল্লাহু আনহু (অন্য সূত্রে জাফর ইবনে আবি তালিব)-কে নিয়ে ৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে আবিসিনিয়া থেকে জাহাজযোগে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেন। সেখান থেকে তাঁরা ৬১৭ বা ৬১৮ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম-কামরূপ-মণিপুর রুট দিয়ে ধর্ম প্রচারার্থে চীনে গমন করেন।

দ্বিতীয়বার ওহাব বিন আবু কাফছা রাদিয়াল্লাহু আনহু ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে জাহাজযোগে চীনে গমন করেন। সুতরাং তিনিও নিঃসন্দেহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তৎকালীন গেইটওয়ে খ্যাত বন্দর চট্টগ্রামে খাদ্য, তেল ও সুপেয় পানির জন্য অবস্থান করেই গেছেন।

তৃতীয় দফায় ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর তিনজন প্রিয়সাথি হজরত সুহেলা আবু আরজা, ওয়ায়েস করনি ও হাসান ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুমকে নিয়ে চীনে পাড়ি জমান। ফিরতি পথে তাঁরা চীনের ‘ইউনান-মণিপুর-চট্টগ্রাম’ রুট হয়ে চট্টগ্রাম আসেন। পরে চট্টগ্রাম থেকে জাহাজযোগে আরবে ফিরে যান।

চতুর্থবার ইসলামি খেলাফতের  তৃতীয় খলিফা হজরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু ৬৫০ খ্রিষ্টাাব্দে তৎকালীন চীন সম্রাট (টেং সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা) জাও জোং-এর দরবারে একটি সরকারি মিশন প্রেরণ করেন। এই মিশনেরও প্রধান ছিলেন সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস। খলিফা এই মিশনের মাধ্যমে চীন সম্রাটকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং চীনে ইসলাম প্রচারের দাওয়াত পাঠান। চীন সম্রাট সানন্দে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ইসলাম প্রচারে সহযোগিতায় সম্মত হন। অতঃপর ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দে চীনের ক্যান্টনে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর তত্ত্বাবধানে প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের স্মৃতি-স্মারক ওই মসজিদের নাম রাখা হয়, ‘হুইসাং মসজিদ’। হুইসাং মসজিদের পাশেই হজরত আবু ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু ও আরও কয়েকজন সাহাবির সমাধি রয়েছে।

ভারতের কেরালা ও চীনে এই সব সাহাবির আগমনে আগে নবিজির মক্কিজীবনেই চট্টগ্রামে ইসলামপ্রচারকদের আগমন ঘটেছিল এবং ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে (৬৩৪-৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ) এখানে ব্যাপকভাবে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু হয়েছিল। চট্টগ্রামের পশ্চিম পাশে দক্ষিণ ভারতের কেরালায় যখন ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে (চিরামন পেরুমল জামে মসজিদ নির্মাণের কাল) এবং পূর্ব পাশের চীনে যখন ৬৫১ খ্রিষ্টাব্দে (হুইসাং জামে মসজিদ নির্মাণের কাল) ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছিল, তার পূর্বেই (৭ম শতাব্দীর প্রারম্ভে) যে চট্টগ্রামে ধর্মপ্রচারক সাহাবায়ে কেরামের আগমন ঘটেছিল তা আজ সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণিত। কারণ, সাহাবায়ে কেরামদের চীন সফর চট্টগ্রাম-কামরূপ-মণিপুর-ইউনান রুট এবং ফিরতি পথের ইউনান-আসাম-মণিপুর-চট্টগ্রাম রুট আবিষ্কার তৎকালীন চট্টগ্রামে ইসলাম ধর্মের প্রচার-প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মপ্রচারক আউলিয়া দরবেশ ও সাহাবায়ে কেরামদের মাঝে সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস, ওহাব বিন আবু কাফছা, সাঈদ, ওয়ায়েস করনি ও জাহাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমের অবস্থানেরও নিশ্চিত প্রমাণ। এই সাহাবিগণের ৬১৫-৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রাম আগমন ও ৬১৭-৬১৮ খ্রিষ্টাব্দে চীন গমনে এও প্রমাণিত হয়েছে যে, তাঁরা অন্তত দুই বছর কাল চট্টগ্রামে অবস্থান করেছেন। এর প্রধান কারণ, তৎকালে নৌবাণিজ্যে একচ্ছত্র অধিকারী আরবদের কাছে বর্তমানের চট্টগ্রাম বন্দর প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে এশিয়ার অন্যতম প্রধান বন্দর রূপে সুপরিচিত ছিল। এ বন্দরে নোঙর ফেলা ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা ছিল না।

কেরালা ও চীনা-সূত্র ছাড়াও বাংলাদেশের বেশ কিছু ইতিহাসবিদ এবং গবেষকদের লেখায়ও সমসাময়িক কালে চট্টগ্রামে ধর্ম প্রচারার্থে আগত সাহাবায়ে কেরামদের আগমনের তথ্য পাওয়া যায়।

গৌরবময় ইতিহাস সাক্ষী দেয়, হিজরি-পূর্ব সময়ে ৬১৭ খ্রিষ্টাব্দে মরুর দেশের বাদশাহ নাজ্জাশির দেয়া জাহাজে করে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের উদ্দেশে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের বিখ্যাত সাহাবি আবু ওয়াক্কাস মালিক ইবনে ওহাই ইবনে আবদে মানাফেরের নেতৃত্বে চার জন সাহাবি চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে এ অঞ্চলে আগমন করেন। তাঁরা হলেন হজরত তামিম আনসারি, হজরত কায়েস ইবনে হুজাইফা, হজরত উরওয়াহ ইবনে আছাছা ও হজরত আবু কায়েস হারিস রাদিয়াল্লাহু আনহুম। তাঁরা চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ভিড়িয়ে চার-পাঁচ বছর চট্টগ্রামে অবস্থানের পর চীন গমন করেন।

৬১৭ খ্রিষ্টাব্দের পরে আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সময়ে তাবেয়িদের একটি দলও চট্টগ্রাম সফর করেন। তাঁদের সময়কাল নির্দিষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। তবে তাঁদের সাত জনের নাম পাওয়া যায়। তাঁরা হলেন মুহাম্মদ মামুন, মোহাইমিন, আবু তালেব, মুরতজা, আবদুল্লাহ, হামিদউদ্দিন এবং হোসাইন। সাত জনের এই প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচার ও প্রসারের কাজে ব্যাপক সময় দেন। তাঁরা চট্টগ্রাম অঞ্চলে নওমুসলিমদের নিয়ে প্রথম পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করেন দেয়াং পাহাড় নামক কোনো স্থানে। এর পরবর্তী সময়ে আর পাঁচটি দল খণ্ড খণ্ডভাবে চট্টগ্রাম আগমন করেন।

আরাকানের ইতিহাস তলিয়ে দেখলে আমরা জানতে পারি, রাজা হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে (৬০৬-৬৪৩ খ্রিষ্টাব্দে) আরব দেশ থেকে একটি ছোট্ট প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে ইসলাম প্রচার করতে আসেন। তাঁদের কথাবার্তা ও চরিত্রমাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে এই অঞ্চলের অধিবাসীগণ ব্যাপকহারে ইসলাম গ্রহণ করেন।

এ ছাড়া ড. কেএন ভট্টশালী আরাকানি রাজাদের ইতিহাসগ্রন্থ ‘রাত জা তু’-এ এর একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন এভাবে—‘কানরা দজাগির বংশীয় রাজা সত্য ইঙ্গত চন্দয়ত-এর আমলে (৭৮৮-৮১০খ্রিষ্টাব্দ) আরাকান উপকূলের রণবী দ্বীপের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকটি কুল বা বিদেশি জাহাজ বিধ্বস্ত হয়। রাজা জাহাজের মুসলিম আরোহীদের উদ্ধার করে বসবাসের ব্যবস্থা করেন।’ এ বর্ণনা থেকেও প্রতীয়মান হয় যে, যারা আরাকানে গিয়েছিলেন তাঁরা নিশ্চয় চট্টগ্রাম হয়ে গিয়েছিলেন।

১৯৮৭ সালে লালমনির হাট জেলার মসতের পাড় মৌজায় একটি টিলা খননের সময় একটি মসজিদের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হয়। যেখানে এর নির্মাণকাল উৎকীর্ণ ছিল ৬৯ হিজরি। যারা লালমনির হাটে এসেছিলেন নিশ্চয় তাঁরা বাংলার দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্র পথেই এসেছিলেন। আরবগণ দক্ষিণ চীন সাগর পাড়ি দিয়ে চীনের ক্যান্টন বন্দর, বর্তমান চট্টগ্রাম, প্রাচ্যের জাভা, সুমাত্রা প্রভৃতি বন্দরসমুহে বাণিজ্য করতেন। উপরোক্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আল্লামা জয়নুদ্দিন তাঁর তুহফাতুল মুজাহিদিন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, নবিজির যুগে চট্টগ্রামে ইসলাম আসে। শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলায়হি সিলেট বিজয়ের সময় যে বুরহানুদ্দিনের আলোচনা পাওয়া যায়, তিনি এই আরবদেরই বংশধর। প্রখ্যাত গবেষক ড. হাসান জামান রচিত ‘সমাজ, সংস্কৃতি, সাহিত্য’ গ্রন্থে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের যুগে এই অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের কথা প্রশ্নাতীতভাবে উল্লেখ আছে। মাওলানা আবদুল হাই লৌখনভি স্বীয় গ্রন্থ নুজহাতুল খাওয়াতের ও মাওলানা আশরাফ আলি থানভি-সহ উপমহাদেশের নামকরা ঐতিহাসিকগণ উপরোক্ত মতের সমর্থনে অনেক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছেন। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিকদের মাঝে যাঁরা চট্টগ্রামে সাহাবাগণের আগমনের স্বীকৃতি দেননি, তাঁরা আবার ঠিক কোন সময়ে এ দেশে ইসলাম এসেছে তার ব্যাপারেও সঠিক কোনো ধারণা দিতে পারেননি।

 

আরব বণিকগণ

ইসলামের সোনালি যুগের ও তার নিকটবর্তী যুগের মুসলমানগণ যেই উদ্দেশ্যে যেখানে গিয়েছেন, ইসলামের জীবনাদর্শের কথা মানুষের সামনে তুলে ধরতেন। আরব বণিকগণও তাঁদের কর্তব্য ও দায়িত্বের কথা ভোলেননি। ব্যবসার উদ্দেশ্যে তাঁরা বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করতেন। মানুষের সামনে তুলে ধরতেন ইসলামের মর্মবাণী।

আরব ভূ-খণ্ড ছিল একটি উপদ্বীপ। তার তিন দিকের স্থলভাগের অধিকারী ছিল তৎকালীন দুই বৃহৎ পরাশক্তি রোম ও পারস্য। এ দুই পরাশক্তিকে ডিঙিয়ে স্থলপথে বাণিজ্য পরিচালনা আরবদের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়ে সামুদ্রিক পথকে বেছে নিতে হয় তাদের।

আরবদের এই নৌ-বাণিজ্যের সময় বঙ্গোপসাগরে চট্টগাম বন্দর ছিল খুবই সুবিধাজক প্রোতাশ্রয়। আরবরা এখান থেকে সুগন্ধি ও মসলাজাত দ্রব্যাদি আমদানি করে ইউরোপের বাজারে বিক্রি করতেন। আরবগণ যেমন তাঁদের বাণিজ্য-জাহাজ নিয়ে সমুদ্র চষে বেড়াতেন, ঠিক তেমনি চট্টগ্রামও তৎকালে জাহাজ নির্মাণশিল্পের জন্য বিশ্ব জুড়ে খ্যাতি সম্পন্ন ছিল। চট্টগ্রামের সেই যুগে নির্মিত জাহাজ অধ্যাবদি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। চট্টগ্রামের নাবিকগণও তাঁদের জাহাজ নিয়ে বহিঃসমুদ্রে গমন করতেন। ফলে আরবদের সাথে সখ্য গড়ে ওঠে চট্টগ্রামের। তাই বলা হয় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের কল্যাণে এ অঞ্চলে ইসলামের আবির্ভাব আদি যুগেই হয়েছে।

চট্টগ্রামের স্থানসমুহের অনেকগুলোই আরবি বিভিন্ন শব্দ থেকে এসেছে। যেমন বাকলিয়া, আলকরণ, সুলক বহর ইত্যাদি। এমনকি বিখ্যাত কর্ণফুলী নদীর নামটিও আরবদের দেওয়া। আরবের বিখ্যাত কবি ইমরুল কায়েসের একটি বিখ্যাত কবিতায় ব্যবহৃত ‘করণফোল’ শব্দ থেকে এ কর্ণফুলী নামের উৎপত্তি। কবিতাটি এই—

اذا قامتا تضوع المسك منهما

نسيم الصبا بريا القرنفول

অর্থ : চলার পথে যখন তারা মেশকের খুশবু ছড়ায়

পূর্বদেশের মিষ্টি হাওয়া লবঙ্গের সুবাস বিলায়

চট্টগ্রামি ভাষায় ব্যবহৃত প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ শব্দের শিকড় আরবি। চট্টগ্রামের ভাষা একান্তই আরবি নির্ভর ও আরবি-মিশ্রিত ভাষা। সংস্কৃতের তৎসম ও তদ্ভবের মতো কখনো মৌলিক, কখনো যৌগিক। অথবা অপভ্রংশ। ডক্টর সুনীতি ভূষণ কানুনগো মহাশয় চট্টগ্রামী কথ্যভাষায় আরবির প্রচুর ব্যবহার, এ অঞ্চলে ব্যবহৃত বেশকিছু আরবি এবং আরবি-মিশ্রিত শব্দের উল্লেখ করেছেন।

এই জন্যই অন্য জেলার লোকেদের কাছে এই ভাষাটা দুর্বোধ্য টেকে। এখনো অনেক গবেষক চট্টগ্রামি ভাষার দুর্বোধ্য শব্দসমুহকে আরাকানি, সংস্কৃত ও নৃ-গোষ্ঠীদের শব্দ বলে অভিহিত করে থাকেন। যার সত্যতা বহুলাংশেই অতিশয় ক্ষীণ। এ প্রসঙ্গে গবেষক ডক্টর শামসুল আলম সাঈদ লেখেন, ‘আরাকানি শব্দ এ ভাষাতে অতিশয় কম, এমনকি মগ-চাকমা ভাষাতেও সে দশা।’ সম্প্রতি চট্টগ্রামের আদি কথ্যভাষা নিয়ে (গাঁও-গেরামের ভাষা) গবেষণাকারী গবেষক মাওলানা ওসমান গনি প্রমাণ করেছেন যে, চট্টগ্রামের প্রচুর শব্দের উৎপত্তি হয়েছে মূল আরবি শব্দমালা থেকে। যার অনেকগুলো হুবহু আরবি এবং অনেকগুলো দেশি ভাষার সঙ্গে সংমিশ্রিত হয়ে বা অপভ্রংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভেই চট্টগ্রামে আরব-মুসলমানদের আগমন ঘটেছিল, তেমনি এখানে তাদের সুদীর্ঘ কাল অবস্থানের ফলে স্থানীয় এবং ধর্মান্তরিত মুসলমানদের সহাবস্থানে আরবি-বাংলার মিশ্রণে চট্টগ্রামি ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। পরবর্তী কালে ব্যাপকভাবে ফার্সি, পতুর্গিজ, ইংরেজিসহ বহু ভাষার শব্দাবলির এই ভাষায় অনুপ্রবেশ ঘটলেও এ অঞ্চলে আরবি ভাষার প্রাধান্যই ব্যাপকতম।

চট্টগ্রাম অধিবাসীদের অধিকাংশের শিরাঙ্ক, নাশাঙ্ক, মুখমণ্ডলে আরবীয় ছাপ, শেখ, সৈয়দ বংশীয়দের আধিক্য, আচার-আচরণ, তাহজিব-তমদ্দুন, সাহিত্য-সংস্কৃতিতে আরব-প্রভাব-সহ এ-জাতীয় বিষয়গুলো নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে যে চট্টগ্রামের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সপ্তম শতাব্দী থেকে একাদশ শতাব্দীর মধ্যে একটি আরব-রাজ্য স্থাপিত হয়েছিল এবং আরব বণিকগণ দীর্ঘ সময় এ অঞ্চলে অবস্থান করেছিলেন। এ দীর্ঘ সময়ে তাঁরা ইসলাম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

 

সুফি-সাধক

প্রচলিত কিংবদন্তি মতে চট্টগ্রাম বারো আউলিয়ার দেশ। চট্টগ্রাম শহরে বা চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য সুফি-সাধকের সমাধি দৃষ্ট হয়। সুতরং চট্টগ্রামের সুফিদের বারো আউলিয়ায় সীমিত করা সমীচীন নয়। ইসলাম প্রচারের সুমহান লক্ষ্যে এ অঞ্চলে এসেছেন অসংখ্য সুফি-দরবেশ। শেষরাতের নৈশব্দিক প্রহরে তাঁদের জিকিরের ঝংকারে, বুকে বিক্ষুব্ধ ঊর্মিমালার উত্তাপ আর শ্মশ্রুসিক্ত অশ্রুপাতের ফলে এ জনশূন্য বিয়াবান আবাদ হয়েছে। তাঁরা এক হাতে শরিয়তের সুরাহি অপর হাতে খোদাপ্রেমের ঐশী পানপাত্র নিয়ে আগমন করেছিলেন। এ অঞ্চলে তাঁদের আগমন ছিল মহান সৃষ্টিকর্তার এক বিশেষ অনুগ্রহ, প্রপূর্ণ আশিস। তাঁরা হাজার বছর ধরে বাংলার মাটিতে ইসলামের বিশ্বাস, পবিত্রতা, সাম্য, মানবতা, নীতি-আদর্শ, উদারতা, প্রেম, ভালোবাসা, মুক্তি, স্বাধীনতা, সম্মান, আত্মমর্যাদা, ধৈর্য, সবর, শোকর, অল্পেতুষ্টি, ক্ষমা, বিনয়, নম্রতা ইত্যাদি গুণ চর্চা করেছেন এবং মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন।

হয়তো এঁদের কারও নাম ইতিহাসের সোনালি পাতায় স্বর্ণালি অক্ষরে খুদিত হয়ে আছে আবার কারও নাম বিস্মৃতির ধুলোয় ধূসরিত হয়ে হারিয়ে গেছে কালের অতল গহ্বরে। আসুন, ওই সব সুফি-সাধক সম্পর্কে কিছু গল্প করি, যাঁদের অক্লান্ত চেষ্টায় ও নিরলস সাধনায় চট্টগ্রামে ইসলামের পিদিম দীপ্ত আভায় উদ্ভাসিত হয়েছিল।

 

শাহ মোহছেন আউলিয়া রহ.

বারো আউলিয়ার মধ্যে শাহ মোহছেন একজন। চট্টগ্রামে প্রাপ্ত আরবি ভাষায় লিখিত পীর ও সুফি সম্পর্কিত বিভিন্ন পাণ্ডুলিপিতে শাহ বদরে আলমের সাথে শাহ মোহছেনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরবীয় শেখ এবং জনশ্রুতিতে বদর শাহ-এর ভাগিনা ছিলেন। কথিত আছে যে, বদর শাহ রহ. সফরসঙ্গী শাহ মোহছেন আউলিয়া ও কাতালপীরকে নিয়ে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে বর্তমান আনোয়ারা থানার গহিরা গ্রামের পশ্চিমে সমুদ্র উপকূলবর্তী ইছাখালী গ্রামের কডির হাটে খানকাহ তৈরি করে ধর্ম প্রচারে ব্রতী হন। কালের বিবর্তনে কডির হাট সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পরবর্তী কালে কাতালপীর চট্টগ্রামের কাতালগঞ্জে চলে যান এবং মোহছেন আউলিয়া শঙ্খ নদীর উপকূলে ঝিউরি গ্রামে অবস্থান করতে থাকেন। মোহছেন আউলিয়ার ঝিউরি গ্রামের খানকা ও মসজিদে প্রাপ্ত সুলতানি আমলের শিলালিপি ও মোগল আমলে দেয় মদদ-ই-মা-মাশ হিসেবে প্রাপ্ত জমি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত করে চতুর্দশ শতকের মধ্যবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের অভিভাবক পীর বদর শাহ-এর অন্যতম ভ্রমণসঙ্গী শাহ মোহছেন আউলিয়া রহ. চট্টগ্রামে এবং পরবর্তী সময়ে দেয়াং এলাকায় ইসলাম প্রচার করেন। বর্তমানকার আনোয়ারা থানার বড়উঠান, ঝিউরী, বটতলীসহ কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরের এক বিস্তীর্ণ এলাকা দেয়াং নামে পরিচিত ছিল। বদর শাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মোহছেন আউলিয়া দেয়াং এলাকার ঝিউরী গ্রামে তাঁর খানকা নির্মাণ করে ইসলাম প্রচারে ব্রতী হন। তাঁর ভক্তদের আগ্রহে সেখানে খানকা নির্মাণ করে তিনি আধ্যাত্মিক সাধনায় লিপ্ত হন। অগণিত ভক্ত তাঁর খানকায় ভিড় জমাতে শুরু করে। ঝিউরি গ্রামে তিনি অবস্থানকালে শঙ্খ নদী উপকূলে গড়ে উঠেছিল এক আধ্যাত্মিক সাধনালয়। তাঁর মানবপ্রেম ও বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে দলে দলে লোকজন তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ ও ইসলামের ছায়াতলে সমবেত হতে থাকেন। মোহছেন আউলিয়াকে কেন্দ্র করে ঝিউরি গ্রামসহ আনোয়ারার পার্শ্ববর্তী পটিয়া ও দক্ষিণে শঙ্খ নদী পর্যন্ত ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং মুসলিম জনবসতি গড়ে ওঠে।

 

বায়েজিদ বোস্তামি রহ.

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ সেনানিবাসের নিকটবর্তী একটি সমাধি ‘বায়েজিদ বোস্তামির মাজার’ হিসেবে প্রসিদ্ধ। এই সমাধির অবয়ব সর্বপ্রথম ১৮৩১ সালে পাহাড়ের উপরিভাগে একটি দেয়ালঘেরা আঙ্গিনার মাঝে আবিস্কার করা হয়। আঙ্গিনার ঠিক মাঝামাঝি সমাধিটি অবস্থিত। পরবর্তী সময়ে সমাধিস্থলটি আধুনিক কাঠামো দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। সমাধি-পাহাড়ের পাদদেশে একটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মোঘল-রীতির আয়তাকার মসজিদ রয়েছে। স্থাপত্যশৈলী থেকে ধারণা করা হয় মোঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে মসজিদটি নির্মিত। সমাধির সামনে সমতলে একটি বিশালাকার দীঘি আছে। সমাধিক্ষেত্র, মসজিদ এবং দীঘি নিয়ে দরগাহ কমপ্লেক্সটি গঠিত। দীঘিতে প্রচুর পরিমাণে কালো নরম শেলযুক্ত ‘বোস্তামি কাছিম’ ও গজার মাছ রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী মাজার প্রতিষ্ঠাকালে এই অঞ্চলে প্রচুর দুষ্ট জিন এবং পাপিষ্ঠ আত্মার পদচারণা ছিল। বায়েজিদ বোস্তামি এই অঞ্চল ভ্রমণকালে এইসব দুষ্ট আত্মাকে শাস্তিস্বরূপ কাছিমে পরিণত করেন এবং আজীবন পুকুরে বসবাসের দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

ঐতিহাসকদের মতে, বায়েজিদ বোস্তামি নামের কোনো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব কখনো বাংলাদেশে এসেছেন, তার নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী কোনো প্রমাণ নেই। চট্টগ্রামে তাঁর নামে পরিচিত মাজারটি হচ্ছে একটি প্রতিকৃতি বা অনুকৃতি মাত্র। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক হামিদউল্লাহ খান মনে করেন, বায়েজিদ বোস্তামি চট্টগ্রামে আসেননি। আবার কোনো ঐতিহাসিকের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তিনি সিন্ধু দেশের আবু আলি সিন্ধি নামক এক সাধকের শিষ্য ছিলেন। এই সূত্রে তিনি যদি সিন্ধু এসেও থাকেন চট্টগ্রামে তাঁর আগমন অসম্ভব কিছু নয়। তবে এ ব্যাপারে সকলে একমত যে, তিনি এখানে ইন্তেকাল করেননি। পারস্যের বিস্তাম নগরে ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর ইন্তেকাল হয়।

 

শাহ বদর রহ.

বারো আউলিয়ার অন্যতম ছিলেন শাহ বদর আউলিয়া। তিনি অপর এগারোজন দরবেশের সঙ্গে চট্টগ্রাম এসেছিলেন বলে কথিত আছে। এ দরবেশগণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে সমাহিত আছেন। বারোজন দরবেশের মধ্যে বদর আউলিয়াকেই প্রধান হিসেবে সম্মান দেখানো হয়। বদর আউলিয়া চট্টগ্রামে ইসলাম প্রচার করেন। ঐতিহ্য অনুসারে, চট্টগ্রাম জেলার মানব বসতির সাথে বদর আউলিয়ার নাম জড়িত। চট্টগ্রামের অধিবাসীরা তাঁকে তাদের অভিভাবক হিসেবে গভীর শ্রদ্ধা করে।

বৌদ্ধ, হিন্দু ও চৈনিকগণ বদর আউলিয়াকে পরমেশ্বর অথবা আত্মার অধস্তন হিসেবে ভক্তি করে। অন্যদিকে মুসলিমগণ তাঁকে আউলিয়া বা দরবেশ হিসেবে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

চট্টগ্রামের পুরাতন দুর্গ-এলাকা আন্দরকিল্লার অন্তর্গত বর্তমানের বখশীর হাটের নিকটবর্তী বদরপট্টি বা বদরপটি নামে পরিচিত স্থানে বদর আউলিয়ার সমাধি অবস্থিত। প্রাচীরবেষ্টিত মাজার কমপ্লেক্সটির পূর্ব দিকে রয়েছে একটি প্রবেশপথ, সমাধিসৌধ ও একটি পাকা কুয়া। চতুর্ভুজাকার সমাধি-সৌধটি অত্যন্ত পুরু ও শক্ত প্রাচীর দিয়ে নির্মিত। ওপরের ছাদটি সামান্য ঢালু এবং একটি বড় গম্বুজ দ্বারা আচ্ছাদিত। মাজারের পশ্চিম প্রাসাদে বেলেপাথরের একটি শিলালিপি রয়েছে। শিলালিপিতে নাসখ রীতিতে পাঁচ লাইনের আরবি লিপি উৎকীর্ণ।

 

চট্টগ্রামে ইসলামের সমৃদ্ধি

খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতক হতে দশম শতাব্দীর মধ্যে এ অঞ্চলে ইসলামের ‘উদয়’ হয়। পরবর্তী কালে বখতিয়ার খিলজি কর্তৃক বাংলা বিজয়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ইসলামের রবির স্নিগ্ধ কিরণ আস্তে আস্তে সম্প্রসারিত ও বিস্তৃত হতে থাকে। এখনও নানা মাধ্যমে এখানে ইসলামের দাওয়াত বিস্তৃত হচ্ছে। বর্তমানে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার ও প্রসারে যে ধারাগুলো অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

১. ইসলামি প্রতিষ্ঠান : বিভিন্ন ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলামের অনুশাসনের বাস্তবায়ন ও ইসলামি শিক্ষায় দীক্ষিত করার ফলে এ অঞ্চলে উত্তরোত্তরভাবে ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটে চলছে।

২. সুফি-সাধক : ইতিহাসের অনুসরণে সুফি-সাধকগণ এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছেন। বর্তমান কালেও অতীতের সোনালি ইতিহাস নিখুঁত ছবির মতো ভেসে ওঠে। এসব সুফি-সাধক জ্ঞান প্রচার, লিখনী, ওয়াজ-মাহফিল ইত্যাদির মাধ্যমে ইসলাম বিকাশে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন।

৩. তাবলিগ জামাত : এ অঞ্চলে ইসলামের ক্রমবিকাশে তাবলিগ জামাতের ভূমিকা অবিস্বরণীয়। ইসলামের প্রাথমিক ধারণা ও বাস্তব জীবনে ইসলামি অনুশাসনের প্রয়োগ ও অনুশীলনের এঁদের ভূমিকাও অনন্য।

 

তথ্যসূত্র : চট্টগ্রামে ইসলাম, ড. আব্দুল করিম। আহাদিসুল খওয়ানিন, হামিদুল্লাহ খান বাহাদুর। নুজহাতুল খওয়াতির, আবদুল হাই লখনৌভি। ইতিহাস প্রসঙ্গ, সোহেল মো. ফখরুদ-দীন। চট্টগ্রামে মুসলমান আগমনের ইতিকথা, সোহেল মো. ফখরুদ-দীন। সুফিবাদের বিকাশ ও হজরত শাহ সুফি আমানত (র.), সৈয়দ ইসমাইল হোসেন। সমাজ, সংস্কৃতি, সাহিত্য, ড. হাসান জামান। চট্টগ্রামের ইতিহাস, আহমদ শরীফ। দি হিস্ট্রি অব ইসলাম ইন চায়না। দি লার্জ মুসলিম পপুলেশান ইন ওয়েস্টার্ন চায়না। সাহাবায়ে রসুল হিন্দুস্তান মেঁ, আকবর আলি খান কাদেরি। তুহফাতুল মুজাহিদিন, জয়নুল আবেদীন। মোছলেম বঙ্গের সামাজিক ইতিহাস, মওলানা আকরম খাঁ। বাংলার মুসলমানদের ইতিহাস, আব্বাস আলী খান। বাংলাদেশে ইসলাম, আবদুল মান্নান তালিব। আরাকানের মুসলমানদের ইতিহাস, ড. মাহফুজুর রহমান আখন্দ। আরব নৌবহর, সৈয়দ সুলায়মান নদভি; অনুবাদক : হুমায়ুন খান। ইসলাম ইন কেরালা। উইকিপিডিয়া। বাংলাপিডিয়া।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম

 

ঈদসংখ্যা, মে ২০১৯

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১