এক টুকরো সোনালি বিকেল

সংখ্যা:

মাদরাসা থেকে আমি তেমন একটা বের হই না। কষ্টকর হলেও এই চার দেয়ালের ভেতরেই থাকার চেষ্টা করি। এটাই এখন আমার পৃথিবী। কিন্তু তারপরও প্রয়োজনের তাগিদে কখনো বের হতে হয়। এই আবদ্ধ পরিবেশে যখন দম বন্ধ হয়ে আসে, হৃদয়-মন যখন বিষিয়ে উঠে, মন চায় তখন একটু বাইরে যাওয়ার, নদীর তীর থেকে একটু ঘুরে আসার। এই তো মাদরাসার পাশেই, বেশি দূরে নয়, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন বুড়িগঙ্গা নদী। যদিও মানুষের জুলুম-অনাচারের শিকার হয়ে নদী আজ আগের সেই রূপ-সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে, হারিয়ে ফেলেছে জোয়ার-ভাটার জৌলুস, তারপরও দেখতে খুব ভালো লাগে। নদীপাড়ের বহতা কোমল হাওয়া, নির্মল বাতাস হৃদয়-মনে অন্যরকম এক ভালোলাগা ছড়িয়ে দেয়। আর নদীর বুক চিরে ছুটে চলা রঙ-বেরঙের ছোট-বড় লঞ্চগুলোও দেখতে বেশ চমৎকার লাগে। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। পড়ন্ত বিকেলে যখন সূর্যের সোনালি আভা নদীর বুকে ছড়িয়ে পড়ে তখন সারাদিন কাজ-কর্ম করা ক্লান্ত-শ্রান্ত মানুষগুলো এখানে এসে ভিড় করে। একটু স্বস্তির জন্য, একটু সতেজ ও সজীব হওয়ার জন্য, নদীর উথাল-পাথাল ঢেউয়ের স্বর্গীয় স্বাদ উপভোগ করার জন্য। আজ আমিও তাদের একজন হয়ে গিয়েছিলাম সেখানে। তাই আজ মনটা বেশ ফুরফুরে। অনেক খুশি খুশি লাগছে। এই খুশি-আনন্দের আমেজটা ছড়িয়ে আছে হৃদয়ের ভাঁজে ভাঁজে, যেমন ছড়িয়ে থাকে শীতকালে মুক্তোঝরা শিশিরবিন্দু সবুজ-শ্যামল কচি ঘাসে।

 

জামিয়া ফরিদাবাদ, ঢাকা

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১