নুহা তড়িঘড়ি করে প্রাইভেট কারে উঠে এলো। পাশ থেকে বখাটে ছেলেগুলো এখনো ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেই যাচ্ছে। নিত্যদিনের এই ঝামেলা এড়াতেই কলেজের আসা-যাওয়াটা তাকে গাড়ি নিয়ে করতে হয়। বাবাও ব্যস্ততার ফাঁক গলিয়ে নিয়ম করে ছুটির আগেই গাড়িটা পাঠিয়ে দেন। তা না হলে ব্যাক্তিগত গাড়িতে চলাফেরা নুহার একদম সয় না। নিজেকে যান্ত্রিক মনে হয়। কলেজের আর দশটা ছাত্রীর মতো তারও ইচ্ছে করে বন্ধুদের সাথে গলাগলি করে হাঁটতে, ফুচকা ভেলপুরি খেয়ে বাসায় ফিরতে। কিন্তু এর সবকিছুই তার কাছে অধরা স্বপ্নের মতো। সে জানে এর কোনোটাই তার জীবনে ঘটবে না। ছোট থেকেই সে বেড়ে উঠেছে ইট-পাথরের শক্ত দেয়াল অথবা দামি গাড়ির পুরু কাচের বেষ্টনীতে। মুক্ত আকাশের বিস্তৃত নীলিমা, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের হাতছানি কিংবা গ্রামের ধূলোমাখা মেঠো পথ, এর কোনো কিছুই কখনো তার জীবনকে আলোড়িত করেনি।
বাসার নিচতলায় গাড়িটা রাখতেই নুহা তিনতলার সিঁড়ির পথ ধরলো। আট তলা বিল্ডিং হওয়া সত্ত্বেও অন্যান্য বাসার মতো তাদের বাসায় লিফটের ব্যবস্থা নেই। বাবা ইচ্ছে করেই তা করেননি। তিনি বলেন- শহরের মানুষ এক জায়গায় শুয়ে বসে থাকে। ইচ্ছে থাকলেও পর্যাপ্ত হাঁটা বা শারীরিক কসরত তাদের খুব একটা হয় না। তার ওপর যদি লিফটের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে মানুষের পা দু’টোর কোনো কার্যকারিতাই থাকে না।
সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে নুহা ভাবছিলো, বাবার কথায় যুক্তি আছে বটে। মানুষ দিন দিন যেভাবে যন্ত্রের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে কোনো একদিন হয়তো যন্ত্ররা মানুষকে বশ করে নিজেদের কাজে তাদের ব্যবহার শুরু করে দেবে। ভাবনাটা কি আদৌ যৌক্তিক? নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করলো নুহা। কি জানি, হয়তো বা। যাকগে, এসব পরে ভাবা যাবে। এখন তাকে ফ্রেশ হতে হবে, তারপর কলেজে যাওয়ার আগে যে বিষয়টা নিয়ে স্টাডি করছিলো সেদিকে মনোনিবেশ করবে সে। দু’দিন থেকে উটকো একটা সমস্যা এসে দাঁড়িয়েছে। একদম স্বস্তি দিচ্ছে না নুহাকে। চলতে ফিরতে নিরবচ্ছিন্ন ভাবিয়ে যাচ্ছে।
নুহা খুব মেধাবী ছাত্রী। ক্লাসে দ্বিতীয় হওয়ার রেকর্ড তার নেই। সহপাঠীদের ঈর্ষা-বিদ্বেষ কোনো কিছুই তাকে নিজ অবস্থান থেকে টলাতে পারেনি কোনো দিন। তাছাড়া নুহার আরেকটা বৈশিষ্ট্য আছে। সে খুব জেদী। নিজের পাকাপোক্ত অবস্থানটা অন্য কারো দখলে চলে যাবে এ সে কিছুতেই সহ্য করতে পারবে না। নুহার জেদ বেশি, নাকি মেধা- মাঝে মাঝে বন্ধুরা দ্বিধায় পড়ে যায়। যে কোনো বিষয়ে মাথা ঘামালে তার খুব একটা সময় লাগে না এর নাড়ি-নক্ষত্র বের করতে। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলোর সমাধান মেধা বা জেদ কোনোটা দিয়েই সম্ভব নয়। প্রাকৃতিকভাবে এই সমস্যাগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের সমাজে জেঁকে বসে আছে। মানুষ চাইলেও মূল থেকে এই সমস্যাগুলো উপড়ে ফেলতে পারে না।
ইতোমধ্যে মা এসে দুপুরের খাবারের জন্য ডেকে গেলেন। মায়েরা এত ধৈর্যশীল কিভাবে হন, মাঝে মাঝে অবাক লাগে নুহার। দিন-রাত নিরলস খাটুনির পর পরিবারের প্রতিটা সদস্যকে ডেকে ডেকে রোজ খাওয়ানো-পরানোর পরও যেন তাদের সামান্যতম ক্লান্তিবোধও নেই। ভাবতে ভাবতে জানালার সামনের পড়ার টেবিলের চেয়ার টেনে বসে পড়লো সে। খাওয়ার কথা ভুলে আকাশপাতাল ভাবনায় তলিয়ে গেলো।
হঠাৎ রিংটোনের আওয়াজে ভাবনায় ছেদ পড়লো। নিশ্চয় আয়েশা ফোন করেছে। হ্যাঁ, তাই। মোবাইলের স্ক্রিনে আয়েশার সহাস্য মুখ ভেসে উঠেছে। রিসিভ করতেই আয়েশার মিষ্টি কণ্ঠ ভেসে এলো- আসসালামু আলাইকুম।
এই মেয়েটার কিছু ব্যতিক্রম বৈশিষ্ট্য আছে যা নুহা অন্য অনেকের মাঝেই পায় না। যখনই দেখা হবে বা ফোন করবে সর্বপ্রথম মিষ্টি করে একটা সালাম দেবে। প্রথম প্রথম নুহার বিরক্তি লাগতো- যতোবার দেখা হবে বা কথা হবে ততোবারই সালাম দিতে হবে নাকি! কিন্তু যতো দিন যাচ্ছে ক্রমেই মেয়েটার প্রতি নুহার দুর্বলতা বাড়ছে। তার প্রতিটা আচরণ ও চালচলন তাকে মুগ্ধ করে। তার মার্জিত চলাফেরা, শালীন ব্যবহার ও উন্নত রুচিবোধ সর্বোপরি তার বিচক্ষণতা নুহাকে প্রভাবিত করে। কী যেন একটা যাদু আছে মেয়েটার মাঝে।
: কিরে চুপ করে আছিস কেন? কথা বল নুহা!
অপর প্রান্ত থেকে আয়েশার কথায় নুহার ভাবাবেশ দূর হলো।
: হ্যাঁ বল, কী বলবি!
: তোর কি মন মন খারাপ নুহা?
: না রে, একটু টেনশনে আছি। তুই ভালো আছিস?
: আছি, আলহামদুলিল্লাহ। তোর কী হয়েছে? কিসের টেনশন, আমাকে বল!
: তেমন কিছু না, ঠিক হয়ে যাবে আশা করছি।
: কী বিষয়, আমি কি হেল্প করতে পারি তোকে?
: ফোনে বলতে পারছি না রে! কাল ক্লাসের পর সময় হবে তোর? মানে আমরা কি কোথাও একটু বসতে পারি?
: কোথায় বসতে চাচ্ছিস তুই?
: কলেজের লাইব্রেরিতে? বেশ নিরিবিলি আছে ওইখানটা।
: ঠিক আছে তাই হবে, আল্লাহ হাফেজ!
ফোনটা রাখতেই মা এসে দ্বিতীয়বার তাগাদা দিয়ে গেলেন। নুহা লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে খাবারঘরের দিকে চলে গেলো।
কলেজের লাইব্রেরিটা বেশ বড়সড়। চারপাশের দেয়াল ঘেঁষে পনেরো বিশটা সেল্ফ সাজানো। ইতিহাস, বিজ্ঞান, রাজনীতি, গল্প-উপন্যাস ও ধর্মীয় বইসহ প্রচুর গবেষণাধর্মী বইয়ের সমাহার ঘটিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। নির্দিষ্ট দূরত্ব রেখে সমান্তরালভাবে বেশ কিছু চেয়ার-টেবিলও সাজানো আছে বই পড়ার জন্য। জায়গাটা খুব নিরিবিলি। বলা যায় নুহার সবচেয়ে পছন্দের জায়গা।
শেষ ক্লাসটা আজকে ফাঁকা। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আরিফ স্যারের এই ক্লাসটা ফাঁকা যায়। এ নিয়ে ছাত্রদের কোনো মাথাব্যথা নেই। থাকার কথাও না। স্যার খুব কাঠখোট্টা আর শুকনো মেজাজের মানুষ, তাই তার ক্লাসের প্রতি ছাত্রদের বিশেষ কোনো ইন্টারেস্টিং তো নেই-ই, বরং স্যার না থাকলে যেন সবাই হাঁফ ছেড়ে বাঁচে।
নুহা আয়েশাকে সঙ্গে করে লাইব্রেরিতে ঢুকলো। কর্নারের একটি টেবিলে বসলো দু’জন।
: হুম, বল এবার। কাল ফোনে কিছু একটা বলতে চেয়েছিলি! -আয়েশা উৎসুক চোখে জানতে চাইলো।
: আমার হয়তো আর কলেজে পড়া হবে না আয়েশা!
: এ কী কথা! পড়া হবে না মানে? কী হয়েছে আগে বলবি তো!
: বেশ কিছুদিন যাবত দুই-তিনটা ছেলে পিছু নিয়েছে, খুব ডিস্টার্ব করে। এদের আচরণ সুবিধের নয়। ড্রাইভার বাবাকে ইনফরমেশন দিয়েছে। বাবা ভিন্ন চিন্তা করছেন।
: ভিন্ন চিন্তা! কী ধরনের?
: বাসা চেঞ্জ করে ফেলবেন। কেরাণীগঞ্জের ওইদিকে আমাদের আরেকটা বাসা আছে, সেখানে স্থায়ী হবেন।
কথাগুলো বলতে বলতে নুহার চশমা ঝাপসা হয়ে এলো, কণ্ঠও ভারী হয়ে এসেছে। আয়েশার চোখ এড়ায়নি বিষয়টি। বড়লোক ঘরের মেয়ে হলেও মেয়েটার কোমলতা তাকে আলাদা একটা বিশেষত্ব দিয়েছে। আয়েশা বুঝতে পারছে না কিভাবে সান্তনা দেবে।
: কিছু মনে না করলে তোকে একটা বিষয় জিজ্ঞেস করতাম!
: কী কথা? -নুহা বিষণ্ন কণ্ঠে জানতে চাইলো।
: যতোটুকু জানি তোরা তো অনেক বড়লোক। অর্থবিত্ত, প্রভাব-প্রতিপত্তি কোনো কিছুরই তো কমতি নেই। তোরা ছেলেগুলোর বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে গেলি না কেন? মানে সবাই তো এটাই করে!
: বাবা তাই করতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হইনি। আমার জায়গায় যে কেউ থাকলে এটাই করতো। কিন্তু আমি জানি এটা কোনো সমাধান নয়। এতে হয়তো এই ছেলেগুলো নিবৃত হবে কিন্তু কাল যে আবার নতুন কোনো বখাটে এসে দাঁড়াবে না- এর কী নিশ্চয়তা আছে? জীবনটা কতো বড়। এভাবে রোজ রোজ মানুষের সাথে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে টিকে থাকা যায় না। তাছাড়া হার্ডলাইনে গেলে সবাই যে চুপসে যাবে সেটাও তো ভাববার কারণ নেই। ওদের দিক থেকেও তো উল্টো প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। তখন স্বাভাবিক চলাফেরার পথটাও রুদ্ধ হয়ে যাবে। এভাবে কি বাঁচা সম্ভব?
আয়েশা বিষয়টা এভাবে কখনো ভাবেনি। নুহার কথায় গভীরতা আছে- তাহলে কী করবি ভেবেছিস? পড়ালেখা ছেড়ে দিবি? তা কী করে হয়!
: দেখি, ওখানে যাওয়ার পর আশপাশে ভালো কলেজে ভর্তি হওয়া যায় কি না।
: তাতে কি সমস্যা মিটে যাবে? আবার একই সমস্যা দেখা দিলে?
নুহা এই কথার কোনো উত্তর খুঁজে পেলো না। আজ মানুষ সভ্যতার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে গেছে। শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তিসহ জীবন চলার সর্বক্ষেত্রে মানুষের আকাশছোঁয়া সফলতা তাকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কিন্তু এসবের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্যটা কী, সেটাই শুধু মানুষের আবিষ্কার করা হয়নি। শিক্ষা কারো কাছে নিছকই রুটি-রুজির মাধ্যম, কারো কাছে প্রভাব প্রতিপত্তি আর সামাজিক মর্যাদার সোপান, কারো কাছে ক্ষমতার মসনদে যাওয়ার একমাত্র সেতুবন্ধন। যেদিন মানুষ শিক্ষাকে ‘শিক্ষিত’ হওয়ার উদ্দেশ্যে শিখবে সেদিনই শুধু সম্ভব মানুষের মানবিক মুক্তি, এছাড়া নয়।
নুহাকে বিড়বিড় করতে দেখে আয়েশাও নির্লিপ্ত থাকলো। উভয়ের নীরবতায় কেটে গেলো অনেকটা সময়। ছুটির ঘণ্টা কানে আসতেই উভয়েই তটস্থ হয়ে উঠে দাঁড়ালো।
: নুহা! তোরা বাসা ছেড়ে যাস না প্লিজ! দেখি আমি কিছু করতে পারি কি না! আমার মাথায় একটা আইডিয়া আছে। আশা করছি সফল হবো আমরা।
: কী আইডিয়া?
: চল আমরা ছেলেগুলোর সাথে নিজ থেকে দেখা করি। কেন বা কী উদ্দেশ্যে তারা এধরনের আচরণ করছে ডিরেক্ট কথা বলি।
: তোর মাথা ঠিক আছে আয়েশা? ওদের সাথে আমরা দেখা করবো?
: কী করার আছে বল! তুই তো হার্ডলাইনেও যাবি না। এই একটা পথই খোলা আছে। চেষ্টা করে দেখতে দোষ কী?
: না, তা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এর উল্টো ফল হতে পারে। দেখা গেলো এটাকে আমাদের দুর্বলতা ভেবে ছেলেগুলো আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলো।
: তাহলে কী করবি ভাবছিস?
: জানি না! আল্লাহই সব জানেন। আমাকে আর কিচ্ছু জিজ্ঞেস করিস না আয়েশা!
নুহার কণ্ঠে হতাশা ঝরে পড়লো। সুবিশাল পৃথিবী, বিস্তীর্ণ আকাশ সবকিছু যেন চুপসে যাওয়া বেলুনের মতো সঙ্কুচিত হয়ে আসছে তার সামনে। জীবনের ভরদুপুরেই যেন তার আকাশে সন্ধ্যাতারা জ্বলে উঠেছে। কলেজের সামনের পথ ধরে উভয়েই আনমনা হাঁটছে। নীড়হারা পাখির মতো, পথভোলা পথিকের মতো।
হঠাৎ উটকো হাওয়ার মতো দুই-তিনটা ছেলে এসে নুহা আর আয়েশার পথ আগলে দাঁড়ালো। হতাশায় ডুবে থাকায় প্রথমটাতে ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি আয়েশা-নুহা। সম্বিত হয়ে চেনা ছেলেগুলোকেই দেখতে পেয়ে চমকে উঠলো নুহা। অজানা আশঙ্কায় সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠলো তার। কী করা উচিত, ভাবছিলো। তাড়া খেয়ে নিরীহ বিড়াল যখন সর্বশেষ নিজের স্বরূপ পরিবর্তন করে রুখে দাঁড়ায় তখন তার চেহারায় যে ভয়ঙ্কর ভাব ও দৃঢ়তা ফুটে উঠে তা দেখে জগতের সবচেয়ে হিংস্র প্রাণীটিরও পিলে কেঁপে ওঠে। গতিপথ পরিবর্তন করে লেজ গুটাতে বাধ্য হয়। নুহারও তেমন কিছু করার ইচ্ছা আজ। স্বরূপে ফিরে শক্ত হাতে প্রতিবাদ করবে সে। এদের বিষদাঁত উপড়ে দেবে।
এদের মধ্যে একটা ছেলে এই কলেজেই পড়ে। দেহগঠনে খানিকটা লম্বাটে। অনুমান ঠিকঠাক হলে এ-ই এদের লিডার। নুহা জড়ানো পায়ে এগিয়ে গেলো লম্বাটে ছেলেটার দিকে। কিভাবে শুরু করা যায় সেটাই ভাবছে।
: আমরা অন্য একটা উদ্দেশ্যে আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। নুহা কিছু বলার আগেই ছেলেটা বলতে লাগলো, বিশ্বাস করুন আমাদের আজ কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই।
: অন্য উদ্দেশ্য? কী সেটা? নুহার আওয়াজে এখনো প্রতিবাদের দৃঢ়তা লেগে আছে।
: আমরা আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি। ভুল স্বীকার করতে এসেছি। জানি আমরা ক্ষমা পাওয়ার মতো অপরাধ করিনি। তবুও ভুল বুঝার পর মানুষ তো আর সেই ভুলকে আঁকড়ে থাকতে পারে না।
এতোটুকু বলে ছেলেটা অনুতাপে মাথা নামিয়ে নিলো। শেষ কথাটা বলার সময় কণ্ঠটাও কেমন ভারী শুনালো। ছেলেটা কি কাঁদছে?
নুহা বেশ অবাক হলো। খানিকটা করুণা হলো ছেলেটার প্রতি। কিন্তু হঠাৎ ছেলেগুলো এভাবে পাল্টে গেলো কেন সেটাই ভেবে পাচ্ছিলো না সে। তাই কৌতূহলপরবশ হয়ে জানতে চাইলোÑ হঠাৎ ভুলটা কিভাবে বুঝতে পারলেন? আমরা তো কিছু বলিনি!
: রিমিকে নিশ্চয় চেনেন আপনি। এই কলেজেই ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে। আমার বোন।
: রিমি আপনার বোন?
: হ্যাঁ, আমার বোন। কাল আমাকে বললো, ওকে নাকি কয়েকটা ছেলে ডিস্টার্ব করছে। নানা বাজে মন্তব্য করে অপমান করে। রিমি আমার কাছে এর প্রতিকার চাইলো। ওর কথা শুনে ভাবনায় পড়ে গেলাম। সারা রাত ভাবলাম। বারবার মনে হচ্ছিলো, আমার বোনের এই নিরাপত্তাহীনতার জন্য অন্য কেউ নয়, আমিই দায়ী। আমিই…!
কণ্ঠ জড়িয়ে আসায় অসমাপ্ত কথাগুলো না বলেই উল্টোপথে নিরুদ্দেশ হাঁটা দিলো ছেলেটি। পেছন পেছন তাকে নিঃশব্দ অনুসরণ করল বাকি ছেলেগুলো। নির্বাক হয়ে নিশ্চল দাঁড়িয়ে রইলো আয়েশা আর নুহা। এ যেন দৈব পরিবর্তন।
