অরণ্যে পেতেছি সংসার

সংখ্যা:

 

জীবনানন্দের ‘আবার আসিব ফিরে’র সঙ্গে আদর্শিকভাবে আমার মতপার্থক্য থাকলেও কেন যেন মনে হয় বাংলাদেশের এই আশ্চর্য সুন্দর গ্রামগুলো নিয়ে আমার ভাবনার তরজমা তারই মতো। শিক্ষা অথবা কর্মের তাগিদে আমরা কখনো হয়তো ছেড়ে আসতে চেয়েছি গ্রামবাংলার মাটি ও মানুষের হৃদয়—দূর থেকে আকস্মিক আকর্ষণে আবার ফিরে আসার ঘটনাও ঘটে গেছে প্রতিনিয়ত। তবে আমি জানি না এরকম আকর্ষণ কি পৃথিবীর এ সুবিশাল মানচিত্রের মাঝে আধশোয়া একটি ছোট্ট আঙিনায় ভর করে থাকা গ্রামীণ পরিবেশ ছাড়া আর কোথাও আছে কিনা। থাকার সম্ভাবনাই হয়তো বেশী। তবে সন্দেহাতীতভাবে বলা যায়, আমি এবং আমাদের চারপাশে থাকা জনজীবনের গ্রাম নিয়ে যে অনুভূতির প্রকাশ, এরকম আবেগমাখা দরদ হয়তো আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। পাওয়া যাবে না সকালে শহরে আসা আলম কাকাদের দুপুর পেরোতেই গ্রামে ফিরে যাবার উদ্যত মুখখানির সচিত্র আবেদন। তারা বনবাদাড় আর মাঠ পেরিয়ে আসবে শহরে। তাদের দমবন্ধ মুগ্ধতা আবার অসুর কণ্ঠে ডাকতে থাকবে পেছন থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে। তাঁরা বোচকাবুচকি নিয়ে ফিরে যেতে থাকবেন তাদের সবচাইতে পরিচিত সৌম্যসুন্দর গ্রামের কাছে। সত্যিই অপূর্ব সুখ-সংসারের স্রষ্টা এবং প্রাকৃতিক শিক্ষায় উজ্জীবিত করে তোলা এক মহান পরিসরের নামই গ্রামীণ জীবন।

বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবার উদগ্র রসবোধ যখন আমাদের মনে সঞ্চার হয় তখনই আমরা অনুভব করি আমাদের চারপাশ জুড়ে দগদগে এসিড-পঁচা গন্ধ। হর্ণ-সাইরেন, দমবন্ধের মতো উড়তে থাকা ধোয়াশার মধ্য দিয়ে আমাদের চলন্ত বাস-ট্রাক এবং ঘর্মাক্ত দেহে দৌড়তে থাকা জীবিকার অন্বেষী আমরা যখন চলতে থাকি এই মহারাস্তার বুক দিয়ে, সব দিক থেকে তেড়ে আসে আক্রোশ, ক্রুদ্ধতা, আফসোসের বহুরৈখিক তাড়না—প্রকৃতির এ কেমন অবিচার! তা-ই হয় আমাদের বিড়বিড় করবার প্রতিপাদ্য। এখানকার মানুষও কেমন অপ্রাকৃত দেহধারণার বিজ্ঞাপন দিয়ে চলতে থাকে দিনেরাতে। প্রকৃতির সাথে তাদের তৈরি হওয়া দূরত্বের কারণেই হয়তো বিগড়ে ওঠে শত অস্থিরতা কিংবা সহিংস আচরণ। হিংসাত্মক নৈরাজ্য গিলে খায় আমাদের সমগ্র জাতিসত্তাকে।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, মাদরাসাতুল কাউসার আল ইসলামিয়া ঢাকা

সেপ্টেম্বর 2019

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১