গল্প বলি শোনো প্রিয় নবিজির

সংখ্যা:

 

তিমির অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগ। কোথাও আলোর দিশা নেই। একেবারেই অন্ধকার। নিকষ কালো আঁধার। চারপাশ ছেয়ে গেছে বর্বরতা আর হানাহানিতে, যুদ্ধ আর বিগ্রহে। মানুষ যেন মনুষ্যত্বহীন পশু।

ঠিক তখনই, আকাশের প্রাচীর ভেদ করে মক্কার মাটিতে দেখা দিলো এক আলোর রেখা। বলছি শোনো,   প্রিয় নবিজির কথা। সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম।

সর্বশেষ আর সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল তিনি। তিনি সমগ্র মানবজাতির জন্য উত্তম এবং সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর আচার-আচরণ, নিয়ম-নীতির মাঝে ছিল এতোটাই উদারতা, যে, বির্ধমী মানুষও তাঁকে খুব ভালোবাসতেন। তাঁর অনাড়ম্বর সহজ-সরল জীবনযাপন, তাঁর উদারতা, দুস্থ অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা এতটাই অকৃত্রিম ও আকর্ষণমণ্ডিত ছিল, জাহেলি যুগের সকল বর্বরতাকে কাটিয়ে তিনি তৈরি করেছিলেন এক সোনালি সময়। যেখানে ছিল না কোনো পাপাচার, কোনো অসার ক্রিয়াকলাপ। ছিল কেবলই উদারতা আর মহানুভবতা।

বিশিষ্ট ঐতিহাসিকদের মতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের মক্কা বিজয়ের পরের সময়টা ছিল ইসলামি ইতিহাসের জন্য মহাগৌরবের। যাকে বলে ইসলামের সোনালি যুগ।

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ছিলেন খুবই দয়ালু। কোনো দরিদ্র মানুষের দুঃখ-কষ্ট দেখলে তিনি কষ্টে জর্জরিত হতেন। তার কষ্ট দূর করার চেষ্টা করতেন। রাস্তায় কোনো কাটাবিদ্ধ বস্তু দেখলে বাচ্চাদের পায়ে বিঁধবে বলে তা সরিয়ে দিতেন। বৃদ্ধ-অসহায়দের সাহায্য করতেন। তাদের সম্মান করতেন। তাদের অসহায় জীবন-কষ্ট দেখে তিনি দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে কেঁদে উঠতেন। তেমনি খুশির দিনেও সকল ধনী-গরিবের মাঝে ভেদাভেদ না রেখে আনন্দে কাটাতেন।

একবার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম ঈদের নামাজের জন্য ঈদগাহে যাচ্ছিলেন। পথে এক শিশুকে দেখে তিনি থমকে দাঁড়ালেন। শিশুটি কাঁদছে। তার কাছে গিয়ে তিনি তাকে আদর করলেন। বুকে জড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি কাঁদছ কেন?’

শিশুটি বলল, ‘আমার বাবা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে মারা গেছেন। আমার মাও নেই। পৃথিবীতে আমার কেউ নেই।’ শিশুটির কথা শুনে আমাদের প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের মন দুঃখে ভারাক্রান্ত হয়ে হাহাকার করে উঠল। তিনি আর ঈদগাহে গেলেন না। শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এলেন। আম্মাজান হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বললেন, ‘তোমার জন্য একটি পুত্র এনেছি। নাও, এবার তোমার ছেলেকে। তাকে ভালো জামা-কাপড় দাও, খাবার দাও।’ হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা গভীর মমতায় ছেলেটিকে বুকে জড়িয়ে নিলেন, নিজের ছেলের মতো। তারপর তাকে গোসল করালেন। নতুন জামা-কাপড় পরিয়ে দিলেন তার গায়ে। নতুন জামা-কাপড় পেয়ে ছেলেটির মুখে হাসি ফুটে উঠল। সে তার মা-বাবা হারানোর দুঃখ ভুলে গেল। ঈদগাহে অন্যান্য শিশুরা তাকে দেখে অবাক হয়ে গেল। তারা বলল, ‘এসব তুমি কোথায় পেলে?’

ছেলেটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কথা বলল। তখন শিশুরা বলল, ‘ইশ, আমরা যদি রাসুলুল্লাহর এমন আদর পেতাম আর এরকম সুন্দর জামা পেতাম!’

ঈদ মানেই আনন্দময় উৎসব। ঈদ মানে মুসলিম জাতির পবিত্র আনন্দধারার দিন। কিন্তু সবাই কি পারে সেই আনন্দ আর হাসিখুশি নিয়ে ঈদ কাটাতে? আমরা আমাদের চারপাশে তাকালে দেখি কত মানুষ অসহায়ভাবে কাটায় ঈদের দিন। অথচ আমাদের প্রিয়নবি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মানুষের মধ্যে ধনী-গরিবের কোনো ভেদাভেদ না রেখে সবার তরে আনন্দ বিলিয়ে দিতেন। তিনি বলেন, দরিদ্রকে যা দেয়া হয়, আল্লাহ তার চেয়ে অনেক বেশি দান করেন দাতাকে।

ঈদের দিনে ধনীদের ওপর গরিবের একটা হক রয়েছে। তা হলো সাদাকাতুল ফিতর। আল্লাহ তাআলা এই কাজটিকে ওয়াজিব হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থকে বর্র্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম সাদাকাতুল ফিতরকে অত্যাবশ্যক করেছেন। এবং সালাতের আগেই তা দিয়ে দিতে নির্দেশ করেছেন।’

দুস্থ-অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো নবিজির অন্যতম আদর্শ। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চলুন না, আমরা নবিজির এই আদর্শকে আঁকড়ে ধরি, হাসি ফোটাই অনাহারী অর্ধাহারী আর দুস্থ মানুষের মুখে, তাদের নিয়েই যাপন করি এবারের ঈদ; বরং আগামীর প্রতিটা আনন্দময় দিন!

 

ঈদসংখ্যা, মে ২০১৯

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১