এক.
তোমাকে কীভাবে ভুলি
তোমাকে ভুলতে গেলে একটি একরোখা কাঠঠোকরা ঠুকরে-ঠুকরে বিক্ষত করে খেয়ালবৃক্ষের নির্জন ধ্যান।
তোমাকে ভুলতে গেলে গোলাপেরা চলে যায় না-ফোটার একদফা-একদাবি অনশনে।
কদর্য কাঁটা নিয়ে জেগে থাকে পুষ্পের বোঁটা।
ভুলতে গিয়ে ভুলে-ভুলে ঢুকে পড়ি নলখাগড়ার বনে।
রাত ছেড়ে ঘুম নেয় ছুটি।
তোমাকে ভুলতে গেলেই একটি মাছরাঙা ছোঁ মেরে তুলে আনে স্মরণের পুঁটি।
কোত্থেকে উড়ে আসে একঝাঁক স্মৃতিবাহী চিল।
মনে হয়, আকাশে নীল নেই, শুধু দুঃখ অনাবিল।
তোমাকে ভুলতে গেলে সহজ হিশাবেও বারবার বারবার লেগে যায় জট।
মনে হয়, কোথাও অক্সিজেন নেই, স্বস্তি নেই, শুধু যানজট।
তোমাকে ভুলতে যাই। পারি কি?
চোখে ভাসে একটি কোমল কামড়, দাঁতের আঁচড়-ফোটা গাল।
তোমাকে ভুলতে গেলে শহরের মোড়ে-মোড়ে আচানক জ্বলে ওঠে রেড সিগনাল।
দুই.
তোমাকে খুলে রাখতে চাই, যেভাবে নামাজান্তে খুলে রাখি টুপি, অনায়াসে,
কিন্তু অসহ্য টান পড়ে বুকের বাঁপাশের দু’ইঞ্চি গভীরে।
তোমাকে তুলে রাখতে চাই, যেভাবে রাতের মুতালায়া শেষে বন্ধ করে রাখি হেদায়া, মুখতাসারুল কুদুরি,
অথচ, শুতে গেলেই চাল ভেঙে হুড়মুড় নেমে আসে স্মৃতির শ্রাবণ।
বিস্মৃতির ধুলো-আর্দ্র বোর্ডে তোমাকে আটকাতে গিয়ে মনে হয়, পিনটা গেঁথে ফেলেছি শরীরের স্পর্শকাতরতায়।
গেলো বৃষ্টিরাতে তোমাকে নিয়ে লিখে ফেলেছি সর্বশেষ কবিতা, এই দায়মুক্তি নিয়ে খাতা-কলমে মগ্ন হলে ফের তুমিই নেমে আসো স্বরবৃত্তের সাবলীল সহজলভ্যতায়।
দীর্ঘকালীন বিরক্তিকর ব্যামোর মতো তোমাকে ঝেড়ে ফেলতে চাইলে মনে হয়, নাপা এক্সট্রা ভেবে তোমাকেই গিলে খাচ্ছি তিনবেলা, নিয়মিত।
সব সূত্রে ব্যর্থ হয়ে তোমাকে যখন যতনে তুলে রাখতে যাই চোখে, মনে হয়, অশ্রুবিন্দুর মতো নেমে গেছো তুমি গালের গড়পড়তায় গভীর-গন্তব্যহীন দাগ টেনে।
চাইলেও আর ফেরানো যাবে না দৃষ্টির আয়ুরেখায়।
