তোমার কীর্তির চেয়ে তুমি যে মহৎ
বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই তার শ্রদ্ধেয় নামটির সাথে আমি পরিচিতি হয়েছিলাম। আমার জান্নাতবাসী আব্বার মুখে গফরগাঁওয়ের মাওলানা রিয়াজ উদ্দীন রহ. মাওলানা শামসুল হুদা পাঁচবাগী রহ., মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. এবং মাওলানা আবদুর রহমান রহ. প্রমুখের নাম খুব শ্রদ্ধাভরে উচ্চারিত হতে শুনতাম। অবসর সময়ে আব্বা তাদের জীবনের নানা গল্প আমাদেরকে শোনাতেন। শুনতে শুনতে আমরা যেমন […]
মাওলানা মুহিউদ্দন খান রহ.: মহাকালের অমর বাতিওয়ালা
০১ তখন হেফজখানায় পড়ি। আমাদের হাফেজ সাহেব হুজুরকে দেখতাম প্রত্যেকমাসে ‘মদীনা’ নামের নতুন মলাটের একটি করে বই আনতে। কয়েকদিনের মাথায় আবিষ্কার করলাম, কিতাব বিভাগের সিনিয়র কিছু ছাত্র এবং কয়েকজন হুজুরও ওটা রাখেন। আমার কৌতূহলের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটতে লাগলো; ভাবলাম খোঁজ নেয়া দরকার ওতে কী আছে। হাফেজ সাহেব হুজুরের ডেস্কের ওপরই থাকতো বইটা সবসময়। হুজুরের অগোচরে একদিন […]
ঐতিহ্যবাহী হাতির মাহুতের গল্প
শত শত তারা দেখো, দূর হয় না আঁধার এক চন্দ্র আলো করে জগত সংসার জ্যোৎস্না রাতের মাতাল করা আলোয় আম্মা গুনগুন করে শ্লোক বলতে থাকেন। খোকা আম্মার কোলে দুলুনি খেতে খেতে ভাতের প্লেটের মতো ঝকঝকে চাঁদমামা দেখতে থাকে। হরিণের পিঠের মতো নক্ষত্রভরা নীল আকাশ দেখতে দেখতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে। খোকারও ইচ্ছে করে আকাশের চাঁদ […]
মাওলানা মুহিউদ্দীন খান : তার লেখা ও বলার ভঙ্গি আমাকে বিমোহিত করতো
(মুফতি ইমাদুদ্দীন। প্রথিতযশা আলেম-দায়ি। একজন সুলেখকও। রাজধানীর ফরিদাবাদ জামিয়ার মোহাদ্দিস। সিরাত ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক। মুহিউদ্দীন খানকে নিয়ে তার ও তার ফাউঘেণশনের আলাদা কিছু ভাবনা ও পরিকল্পনা আছে। আছে কিছু স্বপ্ন ও ভালোবাসা। নবধ্বনি’র ফেব্রুয়ারি ’১৭ সংখ্যার কথা মাথায় রেখে এক বিকেলে উপস্থিত হয়েছিলাম হুজুরের খেদমতে। বেশ খানিক সময়ের আন্তরিক আলোচনায় উঠে আসে খান সাহেব সম্পর্কে […]
কেউ কেউ লেখালেখি করে
লেখালেখি বিষয়ে বিস্তর লিখেছি, অনলাইনে এবং অফলাইনে। বেঁচে থাকলে আরও লিখবো। কেননা এ ধরনের ‘সদুপদেশ প্রদান’ কখনো দায়িত্ববোধ থেকে আসেনি; কখনো নিজ গরজে, কখনো পত্রিকার সম্পাদকের দাবি মেটাতে, কখনোবা মনের রাগ মেটাতে লিখেছি। রাগের কথা কেন এলো সে ইতিহাস বলি। আমার বন্ধু-বান্ধবদের অনেককেই দেখি লেখক হওয়ার জন্য পনেরো দিন বা মাসকালব্যাপী নানা ধরনের লেখক […]
মৃত্যুর জন্য জুবায়ের মহিউদ্দীনের তিনটি অণুগল্প
১. গড-গিফটেড মৃত্যুপয়গাম ও বজ্রপাত অসহনীয় পর্যায়ের গ্রীষ্মের তাপদাহকে বুড়ো আঙুল দেয়া এই বৃষ্টি চারদিকে কেমন একটা উৎসবমুখর পরিস্থিতির জন্ম দিয়ে রেখেছে। ছোটবেলায় পাশের বাড়িতে ছাদ ঢালাই দেওয়ার মেশিনের মতো একটা আওয়াজ উঠেছে পুরো বৃষ্টিধারাতে। আনন্দ, চিৎকার, হুল্লোড়। গাছের ডালগুলোও উদ্দাম নৃত্য দেয় বৃষ্টির সাথে নেমে আসা শহুরে কালবৈশাখীর শুভাগমনে। আকাশে মেঘে মেঘে আলিঙ্গন […]
মুমূর্ষু মানবতা
তুমি কে কাঁদছো? কে তুমি? তোমার চোখে অশ্রু কেন, মুখে রক্ত কেন, ক্ষত বিক্ষত কেন তুমি? কে তুমি, আকাশে বাতাসে তোমার ক্রন্দনধ্বনি শুনতে পাই? পদ্মা-ঝিলাম-ফোরাতের ¯স্রোতে তোমার রক্ত-অশ্রু দেখতে পাই? তুমি কে? তুমি কি সেই, পৃথিবীর নগর-বন্দরে যার দেখা আমি পাই? তুমি কি সেই, জালেমের জিন্দানখানা থেকে যার কান্না আহাজারি শুনতে পাই? সেই কি তুমি? […]
আমি আর সে
কোথাও কেউ নেই। অন্তত এক মাইলের ভেতরে একটা পাতার নড়াচড়াও নেই। গা ছমছম নীরবতা যাকে বলে। তরতর করে হাঁটছি। তরতর করে আঁধারও এগুচ্ছে। আস্তে আস্তে ছাইরঙ জলের ভেতর চারদিকের গাছপালা ডুবছে। আস্তে আস্তে তিনিও এগুলেন। চাঁদ। এখন আর আঁধার নেই। আঁধার যতো ঘন হচ্ছিলো জোছনা ততো গলছিলো। যেন মোম আর আগুন। তবে পথও ততো দুর্গম […]
ছেলেটার জ্বর
ছেলেটার প্রচণ্ড জ্বর। তারপরও সে কাঁথা গায়ে দিতে পারছে না গরমে। অথচ পাশেই কাঁথা মুড়ি দিয়ে দিব্যি ঘুমিয়ে আছে মেয়েটা। কী আজীব! মেয়েটার কেবল মুখটাই বাইরে। বাকি পুরো শরীর কাঁথা মুড়ানো। নকশা করা পাতলা কাঁথা। ডিম লাইটের অস্পষ্ট আলোয় অদ্ভুত সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে। কেমন গুটিসুটি শুয়ে আছে! খাটের রেলিংয়ের সাথে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসে […]
জুনায়েদ জামশেদ : বদলে যাবার আগে
১৯৮৭ সালের কথা। পাকিস্তান তখনও পপ ব্যান্ডের সাথে পরিচিত না। নিতান্ত শখের বশে ক’জন তরুণ মিলে প্রতিষ্ঠা করে দেশের প্রথম পপ ব্যান্ড ‘ভাইটাল সাইন’। একটা দেশাত্মবোধক গানের হৃদয়স্পর্শী কথামালায় সুর ঢেলে তারা জায়গা করে নেয় গোটা পাকিস্তানবাসীর অন্তরে। দিল দিল পাকিস্তান- গানটি প্রথম গাওয়া হয়েছিলো দেশের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে। পাকিস্তানবাসীর মনজয়ী এই কাফেলার মূল নায়কই হলেন […]
