মুমূর্ষু মানবতা

সংখ্যা:

তুমি কে কাঁদছো?

কে তুমি?

তোমার চোখে অশ্রু কেন, মুখে রক্ত কেন, ক্ষত বিক্ষত কেন তুমি?

কে তুমি, আকাশে বাতাসে তোমার ক্রন্দনধ্বনি শুনতে পাই? পদ্মা-ঝিলাম-ফোরাতের ¯স্রোতে তোমার রক্ত-অশ্রু দেখতে পাই?

তুমি কে? তুমি কি সেই, পৃথিবীর নগর-বন্দরে যার দেখা আমি পাই?

তুমি কি সেই, জালেমের জিন্দানখানা থেকে যার কান্না আহাজারি শুনতে পাই? সেই কি তুমি?

তবে চিনেছি তোমাকে। তুমি মজলুম, নিপীড়িত।

বুঝেছি তোমার অশ্রুর ভাষা। তুমি মুমূর্ষু মানবতার কথা বলতে চাও। তুমি বলতে চাও, অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং নিরাপদ বাসস্থানের অধিকার হারিয়ে কিভাবে তুমি আজ সর্বনিঃস্ব সেই কথা। তুমি মানবতার ধ্বজাধারীদের কথা বলতে চাও। বলতে চাও, ওরা চোখে ঠুলি এঁটে মুখে মানবতার বুলি কপচায়। ইরাক-আরাকানে, আফগান-ফিলিস্তিনে আমার মা-বোন যখন লাঞ্ছিত হয়, অশ্রু ঝরায়, প্রাণ হারায়, তাদের কান্না-আহাজারিতে আকাশ বাতাস যখন ভারী হয়ে ওঠে, তখন ওরা বলে- এটাই আমাদের মানবতা।

বুকে নয় মুখে ওদের মানবতা। ওদের মানবতা কামানের গোলায়, বন্দুকের গুলিতে। ওদের মানবতা বোমার পরমাণুতে। ওরা জালেম। এই একনামে বহুরূপে ওরা বিশ্বময় আধিপত্য বিস্তার করে চলেছে। ফিলিস্তিনে জেরুসালেমে ওরা ইহুদির বেশে আছে। কাশ্মির -আরাকানে ওরা আছে বৌদ্ধ ও ব্রাহ্মণ্যবাদীর বেশে। যেখানেই মুসলিম সেখানেই ওরা আছে। সেখানেই আছে ওদের মানবতা নামের অমানবতা, নৃশংসতা, বর্বরতা।

অন্ন কেড়ে নিয়ে ওরা অন্ন দান করে। বুকে ছুরি চালিয়ে ওরা রক্ষা করে। ওরা দ্বিগুণ সুদে ঋণ দেয়, বিনিময়ে কেড়ে নেয় সর্বস্ব, এমনকি ইজ্জত-আব্রুটুকুও।

ওরা সমাজের উঁচুতলার লোক, ওরা শাসকবেশী শোষক। দেশ যখন বন্যা কবলিত, দেশের দুই তৃতীয়াংশ মানুষ যখন দারিদ্রক্লিষ্ট ক্ষুধাপীড়িত, দ্রব্যমূল্যের যখন ঊর্ধ্বগতি এবং শিক্ষা-দীক্ষার চরম অধোগতি। নবজাতক থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথায় যখন হাজার হাজার টাকা রাষ্ট্রীয় ঋণের বোঝা, ওরা তখন সামান্য খেলাকে কেন্দ্র করে শতকোটি টাকা অপচয় করে।

এটাই এ যুগের মানবতা।

জানতে চাও কেন আজ মানবতার এই মুমূর্ষু দশা? জনে জনে কেন বদলায় মানবতার সংজ্ঞা-অভিধা?

তবে শোনো! এর একমাত্র কারণ হলো, আমরা আজ ইসলামের নির্দেশনা এড়িয়ে বাস্তুহারা জীবনে তৃপ্তি খুঁজে ফিরছি। ফলে জাহেলিয়াত আমাদের উপর জেঁকে বসেছে। আমাদের চিন্তা-চেতনা, বুদ্ধি-বিবেক লোপ পেয়েছে। আর এই জাহেলিয়াতেরই করুণ পরিণতি ভোগ করছে বিশ্বমানবতা। যেমনটা ভোগ করেছিলো ইসলামপূর্ব সেই বর্বর দিনগুলোতে।

জানতে চাও প্রকৃত মানবতা কী, মানবতার প্রকৃতি কেমন? শোনো তবে! প্রকৃত মানবতা হলো, অনাহারীর অন্ন যোগাতে পিঠে বোঝা বয়ে উমরের মতো ছুটে চলা। আজ প্রত্যন্ত বাংলা থেকে দুর্গম আফ্রিকা পর্যন্ত কতো অনাহারী, কিন্তু উমরের মতো বোঝাবাহী আজ কোথায়?

অথচ আমরা কি শুনিনি, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন- হে আদম সন্তান আমি তো তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম তুমি আমাকে খেতে দাও নি!

মানবতা হলো জীবনকে তুচ্ছ জ্ঞান করে নিপীড়িতের সাহায্যে মুহাম্মাদ বিন কাসিমের মতো ছুটে চলা। আজ সিরিয়া থেকে আরাকান পর্যন্ত কতো মজলুম! কতো আর্তনাদ! কিন্তু কোথায় মুহাম্মাদ বিন কাসিম? কে তাদের বাঁচাতে ছুটে যায়?

অথচ আমরা কি শুনিনি আল্লাহ তাআলার ইরশাদ?

তাই বলি, এখনো সময় আছে, এসো আবার নতুন করে শুরু করি। আবার নতুনকরে অশ্রুজলে স্নাত হই, পবিত্র হই। একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দৃপ্ত শপথ নিই।

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১