অস্বাভাবিক

সংখ্যা:

ভেঙে পড়া আয়নার ঝনঝনে শব্দের মতো বিচিত্র কোলাহলে ডুবে যাওয়া সোনালি বিকেলের পর এই যে রক্তবর্ণ ছড়িয়ে নীরব সন্ধ্যা নেমে আসছে আকাশের গা বেয়ে, এই যে খানিক বাদে আমিও অস্তিত্ব বিলিয়ে সান্ধ্যআঁধারে মিশে যাবো চুপচাপ; মৃদু হাওয়ার পরশ, নদীর জলসঙ্গীত আর রাতের আলোঝলঝম শহরের সৌন্দর্যকে করবো অগ্রাহ্য– এইসব যতোই স্বাভাবিক মনে হোক, বাস্তবে এই সকলের মধ্যেই মিশে আছে গাঢ় নীল এক অস্বাভাবিকতা।

বুড়িগঙ্গার তীরবাঁধা এই দেয়ালে বসে প্রতিটি বিকেলের ঢেউভাঙা কলরব, সন্ধ্যার বিমূঢ় নীরবতায় যে আদ্যন্ত আমি মগ্ন হয়ে আছি পূর্ণ একটি মাস– এই কথা কেউ জানে না। শুধু অই যে কাকটি বসে আছে সে হয়তো দেখতে পেয়েছিলো বুড়িগঙ্গার কালোজলে ভাসতে থাকা নৌকোয় একটি যুগলের শেষ একত্রচিত্র– দুদিকে মুখ করে থাকা দুটি বিষণ্নতার মূর্তি।

সেই থেকে আজ অবধি– একটি মাস– সে আমার সমব্যথী। সে আমার আশপাশে ওড়ে। ওড়ার মধ্যে হঠাৎ ডানা ঝাপটা দেয়। এরপরেই সে বিস্মিত অথচ বোদ্ধার মতো লক্ষ করে– আকণ্ঠ ঘোরের ভেতরও আমি তার ডানা ঝাপটানোতে চমকে যাই না কারও আগমনের ভ্রমে। আমি বরং তার অই যে শাদা একটি পালক– বিজলিরেকার মতো যা জ্বলছে সূর্যের কিরণে– তার দিকেই তাকিয়ে থাকি। শুধু সেই বোঝে আমার এই অস্বাভাবিকতা আর কেউ অনুমানও করতে পারে না।

অথচ চোখের প্রায় পলক ঘেঁষে যাওয়া পাখির হঠাৎ ডানা ঝাপটানোয় চমকে না ওঠাই কি স্বাভাবিক?

 

লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া ফরিদাবাদ, ঢাকা

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১