তিনটি কথা

সংখ্যা:

এক

বেশ কিছুদিন হলো সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে এক-আধটু ভাবছি। আমরা কোথা থেকে এলাম, কীভাবে এলাম, কেন এলাম, আমাদের যাত্রা কোথায় হবে, মানুষের সৃষ্টির মূল কারণ কী, পৃথিবীতে তাদের কাজ কী, রুহ কী, জিনজাতির নিবাস, ফেরেশতাদের নানা কর্মকাণ্ড নতুন আর কোনো প্রজাতি সৃষ্টির ব্যাপারে নিরীক্ষা…। এমন আরও নানা সৃষ্টিতাত্ত্বিক বিষয় আশয় নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে। মূলত পৃথিবীটা তো একটা ভালো লাগার মতোই জায়গা। বিরাট কোনো বিভূতি নিয়ে চিন্তা করা, কোনো বিষয় নিয়ে কল্পনা করা বা নতুন কোনো বস্তু নিয়ে গবেষণা করাটা দারুণ আনন্দের বিষয়। যদি সত্যিকার অর্থেই আপনি চিন্তা করতে চান।

আচ্ছা, তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার আগে আমরা বরং মহাবিশ্বের দুয়েকটি সায়েন্টিফিক ফ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা করি। বিজ্ঞান আমাদের বলছে- এই যে আমাদের গ্রহ, এ গ্রহটি মহাশূন্যে একটি ছায়াপথে অবস্থিত। ছায়াপথ সম্পর্কে কম-বেশি আমরা সবাই শুনেছি। ইংরেজিতে বলা হয় গ্যালাক্সি। সহজকথায় এটা হচ্ছে নক্ষত্রপুঞ্জ, যা আমরা মেঘমুক্ত রাতের আকাশে তাকালেই দেখতে পাই। শত-সহস্রর তারার মেলা আকাশজুড়ে। এই তারাগুলো কিন্তু ছন্নছাড়া নয়, এরা সবাই মহাকাশে নির্দিষ্ট একটা বলয়ের মধ্যে আবদ্ধ। এই বলয়টাকেই আমরা ছায়াপথ বলি। বিজ্ঞানীরা আদর করে আমাদের ছায়াপথের একটা নামও দিয়েছেন। নামটি হলো- মিল্কিওয়ে, বাংলায় বলি ‘আকাশগঙ্গা’।

আমাদের দৃষ্টিসীমায় যতোগুলো নক্ষত্র ধরা পড়ে আমরা ঠিক ততোগুলো দেখতে পাই। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিসীমার আড়ালেও সহস্রর-কোটি নক্ষত্র মহাকাশে যার যার কক্ষপথে ঘুরে বেড়াচ্ছে, অস্থির হয়ে আছে, নানা গতিবেগে স্থানান্তরিত হচ্ছে। অনেক, অসংখ্য সে সংখ্যা।

তবুও জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা একটি ধারণাগত হিসাব আমাদের সামনে পেশ করেছেন। তারা বলছেন, আমাদের দৃষ্টিসীমায় ধরা পড়া আকাশগঙ্গা ছায়াপথে যে সংখ্যক তারা বা নক্ষত্র আছে, আমরা যদি সেগুলো এই মুহূর্ত থেকে গুনতে শুরু করি তবে সব তারা গুনে শেষ করতে আমাদের মাত্র ছয় হাজার বছর সময় লাগবে! হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, ছয় হাজার বছর! ধারণা করা হয়, আকাশগঙ্গা ছায়পথে মোট নক্ষত্রের সংখ্যা ২০০ বিলিয়ন থেকে ৪০০ বিলিয়নের মতো।

অবাক হবেন না, বাকহারা হওয়ার মতো তথ্য এখনও বলিইনি। জ্যোতির্বিজ্ঞান আমাদের আরও জানাচ্ছে, আমাদের এই মহাবিশ্বে আকাশঙ্গার মতো এমন আরও ছায়াপথ বা গ্যালাক্সি আছে দুই বিলিয়নের ওপরে! দুই বিলিয়ন নক্ষত্রপুঞ্জ!! যার একেকটির নক্ষত্র গুনতে সময় লাগবে ছয় হাজার বছর। তাহলে দুই বিলিয়ন নক্ষত্রপুঞ্জের নক্ষত্র গুনতে আমাদের কতো সময় লাগবে? কেউ হিসাব করতে পারবেন?

আরও অবাক করা তথ্য শুনতে চান? শুনুন তাহলে।

এরকম অগণিত ছায়াপথের সন্ধান পেয়ে বিজ্ঞানীরা অনুসন্ধানে ব্রতী হলো, এই ছায়াপথগুলো কি মহাকাশে বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নাকি এগুলোরও নির্দিষ্ট কোনো বলয় আছে। গত শতাব্দীর শেষদিকে তারা জানালো, এসব ছায়াপথগুলোরও নির্দিষ্ট একটি বলয় আছে। যেমন তারা আবিস্কার করলো, আমাদের এই ছায়াপথসহ আরও প্রায় শ’খানেক ছায়াপথ মিলে ‘ভার্গো’ একটি নামের একটি ছায়াপথপুঞ্জ গঠন করে আছে মহাকাশে।

২০১৪ সালে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এবার নতুন এক বিস্ময়কর সত্য উদ্ঘাটন করলেন। এই ভার্গো ছায়াপথপুঞ্জ আসলে ল্যানিয়েকেয়া (Laniakea) নামের এক অতিকায় মহাকাশীয় স্ট্রাকচারের অতি ক্ষুদ্র একটি অংশ। এই ল্যানিয়েকেয়া ভার্গোর মতো আরও শত সহস্রর গ্যালাক্সিপুঞ্জ নিয়ে নিজের আলাদা একটি স্ট্রাকচার গঠন করেছে। ল্যানিয়েকেয়ার ব্যাস, মানে এটার আয়তন প্রায় ৫০ কোটি আলোকর্ষের সমান এবং এতে প্রায় এক লক্ষ গ্যালাক্সি (ছায়াপথ) নিজেদের কক্ষপথে ঘুর্ণয়মান আছে।

ল্যানিয়েকেয়া নিয়ে যবনিকাপাতের আগে এবার আমি আপনাদের বলবো আমাদের প্রতিবেশী গ্যালাক্সির কথা। আমাদের গ্যালাক্সি আকাশগঙ্গার আশপাশে আরও অনেক গ্যালাক্সি রয়েছে। সবচে কাছের প্রতিবেশীর নাম এন্ড্রোমিডা। এন্ড্রোমিডা আমাদের থেকে সাড়ে বিশ লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। এটিও আমাদের আকাশগঙ্গার তো সর্পিলাকার আর এতে নক্ষত্র রয়েছে প্রায় এক লক্ষ কোটি! তবে চিন্তার বিষয় হলো, এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি প্রতি সেকেন্ডে ১১০ কিলোমিটার গতিতে আকাশগঙ্গার দিকে ধাবিত হচ্ছে। ধারণা করা হয়, ৪০০ কোটি বছরের মধ্যে গ্যালাক্সিদ্বয় প্রলয়ঙ্করী সংঘর্ষের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে গিয়ে মিল্কোমেডা নামক একটি নতুন গ্যালাক্সি গঠন করবে। অথবা বলতে পারি, আল্লাহ যখন ইচ্ছা করবেন তখন এই দুই গ্যালাক্সির গতি বাড়িয়ে দুটোর সংঘর্ষের মাধ্যমে হয়তো কেয়ামতও সংঘটিত করতে পারেন। প্রতি সেকেন্ডে ১১০ কিলোমিটার গতিতে যদি এক গ্রহ আরেক গ্রহের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটি গ্রহ-নক্ষত্র ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে তুলোর মতো উড়তে থাকবে। যেমনটি কুরআনের অনেক আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।

সামনের আলোচনার আগে আমাদের জানতে হবে ‘আলোকবর্ষ’ জিনিসটা কী। আমরা জানি, আলোর গতি স্বাভাবিকভাবে প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার। অর্থাৎ সূর্য থেকে যে আলো উদ্গীরণ হচ্ছে, সেটা কোনো বাধা ছাড়া আমাদের কাছে আসছে প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার বেগে। একটি বাস যেমন ছুটে চলে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে, ঝড়ো বাতাস বয়ে চলে ঘণ্টায় তিনশো কিলোমিটার বেগে। তেমনি আলোরও গতি আছে এবং এবং সেটা সেকেন্ডে পাড়ি দেয় ৩ লক্ষ কিলোমিটার।

এই হিসাবে চন্দ্র থেকে আমাদের দূরত্ব মাত্র ১.২৯ আলোক সেকেন্ড। অর্থাৎ চাঁদ থেকে আলো আসতে সময় লাগে দেড় সেকেন্ড। পৃথিবী থেকে মঙ্গলের দূরত্ব ১২.৭ আলোক মিনিট। সূর্যের দূরত্ব ৮.৩১ আলোক মিনিট। সুতরাং এখন আপনি নিজেই হিসাব করতে পারবেন পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব কতোটুকু। খুব সহজ হিসাব- ৮.৩১ মিনিট = ৪৯৮.৬ সেকেন্ড। এবার ৪৯৮.৬ সেকেন্ডকে ৩ লক্ষ দিয়ে গুণ করুন ১৪,৯৫,৮০,০০০ (চৌদ্দ কোটি পঁচানব্বুই লাখ আশি হাজার) কিলোমিটার মাত্র।

এখানে যেমন সেকেন্ড ও মিনিট দিয়ে হিসাব করা হলো, তেমনি মহাকাশের বিশাল ব্যাপ্তিকে এই হিসাবে আলোকবর্ষ দিয়ে মাপা হয়। যেমন এক সেকেন্ডে আলো ৩ লক্ষ কিলোমিটার পাড়ি দেয়, তাহলে এক ঘণ্টায় যতো কিলোমিটার পাড়ি দেয় তাকে বলা হয় এক আলোক ঘণ্টা। এক দিনে যে দূরত্ব পাড়ি দেয় তাকে বলা হয় এক আলোক দিন এবং এক বছরে আলো যে দূরত্ব পাড়ি দেয় তাকে বলা হয় এক আলোকবর্ষ।

জানি, এই হিসাব বুঝতে আপনার খানিকটা কষ্ট হচ্ছে এবং অবিশ্বাস্যও মনে হচ্ছে, মহাকাশের ব্যাপ্তির দিকে তাকালে নিজেকে আপনি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারবেন না। সুতরাং, চিন্তার ব্যাপ্তিকে আরও প্রসারিত করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আমাদের পৃথিবী থেকে আমাদের গ্যালাক্সি আকাশগঙ্গার অপরপ্রান্তের দূরত্ব কতো জানেন? ৫২ হাজার আলোকবর্ষ।

সবচে মজার ব্যাপার কি জানেন? এই যে আমাদের গ্রহ পৃথিবী, এটা যেমন নিজের কক্ষপথে নির্দিষ্ট গতিতে সদা ঘুর্ণয়মান, চাঁদ ঘুর্ণয়মান, সূর্য ঘুর্ণয়মান, মঙ্গল ঘুর্ণয়মান, সব গ্রহই ঘুর্ণয়মান। তেমনি আমাদের গ্যালাক্সি আকাশগঙ্গারও নিজস্ব কক্ষপথ রয়েছে। সেটাও তার সকল নক্ষত্র নিয়ে নিজের কক্ষপথে সদা ঘুর্ণয়মান। এমনকি ল্যানিয়েকেয়াও নিজের কক্ষপথে নিজস্ব সুপার স্পিডে চলমান।

এসব মহাজাগতিক নক্ষত্র আর ল্যানিয়েকেয়ারা কোথায় ছুটছে? বিজ্ঞান জানাচ্ছে এক অত্যাশ্চর্য তথ্য। প্রতিটি গ্রহ-নক্ষত্র নিয়ে ছায়াপথপুঞ্জগুলো মহাকাশের একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের দিকে তীব্র গতিতে ছুটে চলেছে। যেমন আমাদের আকাশগঙ্গা ঘণ্টায় ২২ লক্ষ কিলোমিটার বেগে ছুটে চলেছে সেই রহস্যময় কেন্দ্রের দিকে। কী আছে সেই রহস্যময় কেন্দ্রে? বিজ্ঞান জানাতে পারেনি। ল্যানিয়েকেয়ার কেন্দ্রে অবস্থিত এই রহস্যময় কেন্দ্র থেকে আমাদের ছায়াপথ আকাশগঙ্গার দূরত্ব ১৫ কোটি আলোকবর্ষ। প্রতিদিন ৫ কোটি ২৮ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আমরা সেই রহস্যময় কেন্দ্রের দিকে সদা ধাবমান। হয়তো সেখানেই অপেক্ষা করছে পৃথিবীসহ এ মহাজগতের শেষ পরিণতি।

 

দুই

এবার আমি আপনাকে প্রশ্ন করবো- এই যে আল্লাহ তায়ালা এতো বিশাল মহাকাশ সৃষ্টি করলেন, সেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন নক্ষত্র সৃষ্টি করলেন, সেগুলো নির্দিষ্ট বলয়ে চলার জন্য সবার জন্য আলাদা আলাদা কক্ষপথ নির্মাণ করে দিলেন, একটা নক্ষত্রও তার কক্ষপথ থেকে এক চুল পরিমাণ এদিক সেদিকে যায় না; এতোসব আয়োজন তিনি কেন করলেন?

সাচ্চা ধার্মিক আদমি হয়তো বলবেন- এগুলো মানুষের জন্যই আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। তাহলে আমি পাল্টা প্রশ্ন করবো- আজ থেকে একশো বছর আগ পর্যন্ত মানুষ তো জানতোই না যে মহাকাশে ছায়াপথের গতিবেগ বলে কিছু আছে। এগুলো যে একেকটা আলাদা আলাদা স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রহ, এ তথ্যও মানবপ্রজাতি জানতে পারলো এই মাত্র কিছুদিন আগে। আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘নাসা’ এখন পর্যন্ত জানাতেই পারলো না পৃথিবীর সবচে কাছের গ্রহ মঙ্গলে (মার্স) প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি নেই। সেখানে মানবপ্রজাতি বসবাস করতে পারবে কি-না সেই তথ্যও এখন পর্যন্ত তারা উদ্ঘাটনে ব্যস্ত। যদিও আশানুরূপ কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত।

তাহলে? যে জিনিস সম্পর্কে মানুষের কোনো জ্ঞানই নেই সে জিনিসকে মানুষের জন্য সৃষ্টি করবেন কেন আল্লাহ? এই কোটি কোটি গ্রহ-নক্ষত্রের সঙ্গে মানুষের না আছে ধর্মীয় কোনো সম্পর্ক, না আছে বেঁচে থাকার মৌলিক উপাদানের কোনো সম্পর্ক। তাহলে কীভাবে আমরা দাবি করতে পারি যে, এসবই মানুষের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে? এসব দিয়ে মানুষের উপকারটাই বা কী?

আমি কিন্তু লেখার শুরুতেই বলেছি, আমি সৃষ্টিতত্ত্ব-মহাবিশ্ব নিয়ে শুধু চিন্তা করছি। মহাকাশ এবং মহাবিশ্ব নিয়ে আমার চিন্তার ব্যাপ্তি একেবারেই শিশুতোষ। সুতরাং এসব প্রশ্নের সঠিক জবাবটা কী, সে ব্যাপারে আমার তেমন ধারণা নেই। অবশ্য আমার ধারণায় বিজ্ঞানের কিছু যায় আসে না। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান কিন্তু এসব ব্যাপার স্যাপারের মোটামুটি একটা কাঠামো দাঁড় করে ফেলেছে। স্টিফেন হকিংয়ের ‘বিগব্যাং থিউরি’ দিয়েই তারা বিচার করছে এ মহাবিশ্বের যাবতীয় গোলকধাঁধার। অর্থাৎ সৃষ্টির আদি মূলত মহাজাগতিক বিভিন্ন ঘুর্ণয়মান পদার্থের ঘর্ষণের ফল এবং প্রাণের অস্তিত্ব শুরু হয়েছে বিভিন্ন নাক্ষত্রিক বর্জ্যরে সমষ্টি থেকে।

স্বভাবতই এ বৈজ্ঞানিক থিউরি আমাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এর বিপরীতে একজন মুসলিম হিসেবে আপনি কী ব্যাখ্যা দাঁড় করাবেন সেটাই হচ্ছে ভাববার বিষয়। আমি সেসব বিষয় নিয়ে আপনাকে খুব একটা ভাবতে বলছি না যদিও, তবু আপনি প্রশ্ন করতে পারেন- এই বিরাটাকার তথ্যগুলো আমি আপনাদের কেন জানাচ্ছি? জানাচ্ছি এই কারণে, যাতে করে পাঠকমাত্রই আল্লাহর সৃষ্টির বিশালতা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হতে পারেন। কী প্রকৌশল এবং টেকনোলজি দিয়ে তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন, সে বিষয়ে সামান্য জ্ঞান রাখা একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য বলেই আমি বিশ্বাস করি।

 

পরিশিষ্ট : মুসলিমবিশ্বে একসময় সৌরজগত এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। সবচে বেশি হয়েছে আব্বাসি খেলাফতের সময়কালীন। স্পেনীয় এবং তুর্কি খেলাফতকালীনও কিছু গবেষণা হয়েছে, তবে বাগদাদে আব্বাসিদের প্রতিষ্ঠিত ‘বায়তুল হিকমাহ’ (হাউজ অব উইজডম) গবেষণার যে ধারা সৃষ্টি করেছিলো, সে তবকা পর্যন্ত আর কেউ পৌঁছতে পারেনি।

আধুনিক এই সময়ে ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থায় জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। নেই বলতে একেবারেই নেই। অথচ ইতিহাসের অনেক মুসলিম ইমাম-স্কলার জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে প্রভূত গবেষণা করে গেছেন। ইবনে আল-হায়সাম আল হাজেন, আল খারেজমি, আল বাত্তানি, সিন্দ ইবনে আলি, সিন্দ ইবনে কাসির আল-ফারগানিসহ অনেক স্কলার জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং বিশ্বের জ্যোতির্বিদ্যায় প্রভূত অবদান রেখে গেছেন। একসময় পুরো বিশ্বে মুসলিমরাই ছিলো জ্যোতির্বিদ্যার সবচে বিজ্ঞ জাতি। বিশ্ব আজও এই স্কলারদের সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করে থাকে।

আমাদের ইসলামি বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার উচ্চতর পাঠে জ্যোতির্বিজ্ঞান অন্তর্ভুক্তি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ। বিশেষত বড় বড় মাদরাসাগুলোতে এ বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। কেননা ইসলামের অনেক কার্যোপকরণ অন্তঃস্থিত রয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানে। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষ নজর দেবেন বলে আশা করি।

পুনশ্চ : জ্যোতির্বিদ্যা বা জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং জ্যোতিশশাস্ত্র এক জিনিস নয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান হলো গ্রহ-নাক্ষত্রিক ও মহাকাশীয় জ্ঞান। আর জ্যোতিশশাস্ত্র হলো নানা কুষ্ঠি বিচার করে হাত দেখার বিদ্যা।

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১