সাহিত্যের কি কোনো ধর্ম আছে?
কারো কারো মতে সাহিত্য নিজেই একটি ধর্ম। এখানে ইসলামি, হিন্দুয়ানি ইত্যাদি কোনো বিশেষণ প্রযোজ্য নয়। আমার মতে বক্তব্যটা অগ্রহণযোগ্য। সাহিত্যেরও একটি ধর্ম আছে, থাকা উচিত। অন্তত ইসলামি সাহিত্য নামে ভিন্ন কিছু থাকা উচিত।
সাধারণ সাহিত্য এবং ইসলামি সাহিত্যের মাঝে মোটাদাগের কিছু পার্থক্য আছে। বিষয়টা কারো কাছে ধর্মীয় বিভাজনের মতো মনে হলেও কিছু করার নেই। এটাই বাস্তবতা। এখানে নিরপেক্ষতার অবকাশ নেই।
প্রশ্ন হলো কী সেই পার্থক্য? এক্ষেত্রে ব্যক্তি মুসলিম হওয়াই কি যথেষ্ট নয়? আমি বলবো বিষয়বস্তুও হতে হবে ধর্মীয় বা ধর্মসমর্থিত। তবে সবচে’ বড় পার্থক্যটা কী জানেন? সাধারণ সাহিত্যে বক্তব্যের মাধুর্য ও বিষয়ের চমৎকারিত্বই মুখ্য। প্রায়োগিক জীবনে সেটির বাস্তবায়ন আবশ্যক নয়। যেমন কেউ নিজ সাহিত্যে সততা সত্যবাদিতা ইত্যাদি মানবীয় সদগুণ ফুটিয়ে তোলে, অথচ প্রায়োগিক জীবনে সে একটা শঠ। তার যাবতীয় সততা সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ। সাধারণ সাহিত্যাঙ্গনে এটা চলে, চলতে পারে। কিন্তু ইসলামি সাহিত্যে এটা চলে না, চলবে না। ইসলামি সাহিত্যের একটি প্রধান অনুষঙ্গ হলো নিজের সাহিত্যকে চিন্তা-চেতনায় লালন করতে হবে, বাস্তব জীবনে পরিপালন করতে হবে। নিছক চিন্তাবিলাসের কোনো স্থান এখানে নেই। বক্তব্যের সমর্থনে সুরা শুআরার ২২৪-২২৭ নং আয়াত দেখুন। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন- ‘আর কবিগণ, তাদের অনুগামী হয় তো যতোসব বিপথগামী লোক। তুমি দেখোনি তারা প্রত্যেক উপত্যকায় উদভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ায়? আর তারা তো এমন কথা বলে যা তারা করে না। তবে সেই সকল লোক ব্যতিক্রম, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে…।’
প্রথমোক্ত আয়াত দ্বারা কাব্যচর্চা নিষিদ্ধ হয়েছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, কথার সাথে কাজের মিল না থাকা। পরের আয়াতে মোমিনগণের কাব্যচর্চার বৈধতা দেয়া হয়েছে। এখানে তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘সৎকর্ম করা।’ অর্থাৎ নিজেদের ভালো কথাগুলো আমলেও আনেন, কার্যে পরিণত করেন।
আর জানা কথা, সাহিত্যের একটি শাখা হলো পদ্য। সে যুগে পদ্যের ব্যাপক চল ছিলো বলে আয়াতে শুধু পদ্যের উল্লেখ এসেছে, নয়তো সাহিত্যের সব শাখায়ই এটা প্রযোজ্য।
তাছাড়া ইসলামে ভাষা-সাহিত্যে উৎসাহ দেয়া হয়েছে কেন? দাওয়াতের জন্যই তো! আর দাওয়াত প্রদানকারীকে সুরা সফে তো সতর্ক করা হয়েছে- ‘কেন তোমরা (অন্যকে) যা বলো, নিজে সেটা করো না?’
সুতরাং আমরা কি একটু ভেবে দেখবো?
লেখক : তরুণ সাহিত্যকর্মী, মিরপুর, ঢাকা
