তাবলিগে এক অপরাহ্ন

সংখ্যা:

আসরের জামাতে তিন রাকাত মাসবুক হলাম। ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে নিলে আমি সোজা দাঁড়ালাম বাকি নামাজ আদায়ের জন্য। মসজিদে তাবলিগ জামাত এসেছে। পত্র-পল্লবে সুশোভিত পল্লির ছোট্ট এক বাজারের মধ্যখানে আমাদের মসজিদ। সুযোগ-সুবিধা ভালো তাই এখানে ঘন ঘনই তাবলিগ জামাত আসে। নামাজে দাঁড়িয়ে শুনলাম জামাতের এক ঘোষকের ঘোষণা- বাকি নামাজের পর মসজিদে ঈমান ও আমলের জরুরি কথা হবে, সকল ভাই বসি। ইনশাল্লাহ অনেক ফায়দা হবে।

ছুটে যাওয়া তিন রাকাত নামাজ শেষ হতে হতে ইমাম সাহেবের তাসবিহ ও দোয়া শেষ হয়ে গেলো। ঘোষকের আহ্বানে খুব কম মুসল্লিই সাড়া দিলেন। আমি নামাজ পূর্ণ করে মসজিদ থেকে বের হবার মনস্থ করে উঠে দাঁড়ালাম। এমন সময় কানে নরম স্বরের একটা আওয়াজ ভেসে এলো। মনে হলো কেউ আমাকেই ডাকছে। পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি জামাতের আমির সাহেব। মুচকি হেসে অনুরোধ করলেন তাদেরকে কিছু সময় দেয়ার জন্য। তার অমায়িক মুচকি হাসির আকর্ষণেই বোধহয় এই অনুরোধ আমি ফিরিয়ে দিতে পারলাম না। বসে গেলাম তাদের মজলিসে।

গোল হয়ে বসেছে সবাই। জামাতে যারা এসেছে, সবাই শিক্ষিত এবং সরকারি চাকুরে। কথা-বার্তায় সীমাহীন ভদ্রতা। মাসিক জামাতে তিন দিনের জন্য আমাদের মসজিদে এসেছেন। তাবলিগের অপরাহ্নিক কার্যক্রম শুরু হলো। গাশতের জন্যে কিছু লোককে নির্ধারণ করা হলো। তারা আশপাশের লোকদেরকে মসজিদে আসার দাওয়াত দেবেন। আমিও তাদের দলে। বাকিরা মসজিদে বয়ান শুনবেন।

আমরা গাশতের সাথীরা মসজিদ থেকে বেরিয়ে আবার গোল হয়ে দাঁড়ালাম। সংক্ষিপ্ত মোনাজাত শেষে সারিবদ্ধ হয়ে চলতে লাগলাম মানুষের দ্বারে দ্বারে। ঈমান ও হেদায়েতের বার্তা নিয়ে। সামনে যাকেই পাচ্ছেন, মুতাকাল্লিম ভাই তাকেই দাওয়াত দিচ্ছেন। মুতাকাল্লিমের কথা বলার স্টাইল ও যোগ্যতা অসাধারণ। সংক্ষেপে ঈমান-আমল ও জান্নাত-জাহান্নামের চমৎকার বর্ণনা দিতে পারেন। তার এই সম্মোহনী শক্তির কারণেই বোধহয় কয়েকজন লোক তৎক্ষণাৎ মসজিদমুখী হয়ে গেলো।

অসম্ভব ভালোলাগার এক অপরাহ্ন কাটিয়েছিলাম সেদিন। গভীর এক প্রশান্তি অনুভব করেছিলাম হৃদয়ের তলদেশে। প্রশান্তির এই স্মৃতি কোনোদিন ভুলবার নয়।

 

লেখক : শিক্ষার্থী, ঝেরঝেরিপাড়া জামিয়া, সিলেট

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১