তোমাকে নিয়ে আজ লিখতে বসেছি। তোমাকে নিয়ে আমি লিখতে পারি না মা, আমার কলম স্তব্ধ হয়ে যায়। আজ লিখবোই, পাক্কা নিয়ত করে বসেছি। কী লিখবো? মায়ের ভালোবাসাকে কি ভাষা দেয়া যায়? যায় না। মা মা-ই।
আমি যখন অসুস্থ হই, তোমাকে খুব অস্থির লাগে। এতো অস্থির তুমি হও না কখনো। সারাক্ষণ আমার পাশে বসে থাকো। আমার মাথায় হাত বুলাও, কখনো বুকে আগলে নাও সেই ছোটোবেলার মতো। আর আমার জন্য কতো দোয়া করো। সারারাত নির্ঘুম চোখে কাটাও। রাতের শেষ প্রহরে, যখন বুঝো আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, আমি কিন্তু ঘুমোইনি, জায়নামাজে বসে আরশওয়ালার দরবারে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে ভিখ মাগো- ‘আমার কলিজার টুকরোকে দ্রুত শিফা দাও আল্লাহ…!’
তোমার নিঃস্বার্থ নিষ্পাপ এই ভালোবাসা, এই রোনাজারি দেখে আমার চোখে জল আসে, আমিও কেঁদে কেঁদে সারা হই নীরবে। আমার এই কান্না সুখের কান্না। প্রভুর দেয়া নেয়ামতের শোকরানা। আমাকে দেয়া প্রভুর যতো নেয়ামত, তার সর্বোৎকৃষ্ট তুমি মা।
আমার একটুমাত্র অসুস্থতার জন্য তোমার কী অস্থিরতা, কী রোনাজারি জায়নামাজে! জগতে আর কে আছে এমন নিঃস্বার্থ আমার?
মনে মনে ভাবি, যদি সারাটা বছর এমন অসুস্থ থাকতাম, তবে তোমার হাতের ছোঁয়া, আদর, যত্ন সবসময়ই এমন নিবিড়ভাবে পেতাম!
একথা তোমাকে বলে যে কতো বকুনি খেয়েছি তার হিসাব নেই।
আমি তোমাকে ভালবাসি মা। তোমাকে পাশে রেখেও তোমাকে হারানোর ভয়ে আমি কেঁদে কেঁদে অস্থির হয়ে যাই। কেন জানো মা? আমি যে তোমাকে আমার নিজের চেয়েও হাজার গুণ বেশি ভালোবাসি।
নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা
