পথশিশুদের পথের কথা

সংখ্যা:

তখন রাত ৩টা। শীতের সময়। ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশ। চারদিক অন্ধকার। কুয়াশা তো নয় যেনো আকাশ থেকে  বৃষ্টি পড়ছে! দূরের কোনো কিছুই দেখা যাচ্ছে না। নিজের হাতটা দেখতে হলেও খুব কাছ থেকে দেখতে হবে। তবে ল্যাম্পপোস্টের ঘোলাটে আলোয় কিছুটা হলেও দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোনো সাড়া শব্দ নেই। নীরব-নিস্তব্ধ। যেনো জনমানবহীন শহর।

আমাদের গাড়ি সিলেট কিন ব্রিজ থেকে একটু দূরে এসে দাঁড়ালো। গাড়ি থেকে নামলাম আমরা। গন্তব্য এখনও বেশ খানিকটা দূর, কিন্তু এই পথটুকু এখন হেঁটেই যেতে হবে। দিনের বেলা হলে গাড়ি পাওয়া যেতো। এতো রাতে এখান থেকে গাড়ি মেলা অসম্ভব। অগত্যা আমরা হাঁটতে শুরু করলাম। আমরা বলতে আমি আর আমার বন্ধু। এই দু’জন। আমাদেরকে যেতে হবে কিন ব্রিজ পার হয়ে।

ব্রিজের কাছে আসতেই চোখ দু’টো ছানাবড়া হয়ে গেলো একটা দৃশ্য দেখে। থমকে দাঁড়ালাম। ব্রিজের গেটে দু’টো শিশু। একজন শুয়ে আছে গেটের রেলিংয়ে, আরেকজন বসে আছে পাশে। শীতে থরথর কাঁপছে দু’জনই। সারাদিনের ধুলো-বালিতে শরীর অপরিচ্ছন্ন। পরনের জামাটা ছেঁড়া, ময়লা লেগে আছে। বোধহয় কয়েক সপ্তাহ ধরে জামাগুলো পানির দেখা পায়নি। কিছুটা কৌতূহল নিয়ে তাদের কাছে গেলাম। জিজ্ঞেস করলাম- ‘এই শীতের মধ্যে তোমরা এভাবে শুয়ে আছো কেন? তোমাদের কি কেউ নেই? বাড়ি গিয়ে ঘুমাও না কেন?

একজন বললো- ‘(সিলেটি ভাষায়) কিতা করতাম ভাই। আমরার বাড়ি-ঘর নাই।  অনই থাহি। বাপ-মা নাই। আর আমরারে দেখার মতোও কেউ নাই।  সারাদিন ব্রিজের উপর রিকশা ঠেলে যা কামাই করি তা দিয়ে দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে কোনো রকম বেঁচে আছি। ভাইজান, একটা কথা কইতামনি? আমরার একটা ছবি তোলেন। আর তা পত্রিকায় দিয়েন। যেন সরকারের চোখে পড়ে। এটা দেখলে হয়তো আমরার মতো অসহায়দের লাগি কিছু করতে পারে। আর আমরাও এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাবো। একটু শান্তিতে থাকতে পারবো। ভাইজান, আমার পড়ালেখা করার যে ইচ্ছা আছিল, কিন্তু কেউ নাই তো এর লাগি পড়তে পাররাম না।’

কচি দুটো প্রাণ। এই কচি বয়েসেই নিজেদের জীবিকা যোগানোর ভার নিজেদের উপর এসে পড়েছে। অথচ এই বয়েসটা ছিলো তাদের খেলার বয়েস। হৈ হুল্লোড়ে সারা পাড়া মাতিয়ে তোলার বয়েস। স্কুলব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাবার সময়।

সুবিধাবঞ্চিত এইসব পথশিশুদের জন্য আমাদের কি কোনো কিছুই করার নেই?

 

লেখক : শিক্ষার্থী, জামেয়া রাহমানিয়া মৌলভীবাজার

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১