আজকাল কি যে হয়েছে স্মৃতির পাতায় কিচ্ছুটি থাকছে না। সব মিইয়ে যাচ্ছে অজানায়। স্মৃতি হাতড়াই, সব না-ছুঁই না-ছুঁই। এ যেন আছোঁয়া জল। আজকাল নতুনকেই ভাবতে ভালোবাসি। নতুনের ভিড়ে হারিয়ে যাই। নতুনত্ব মানুষকে প্রেরণা দেয়, উদ্বুদ্ধ করে নতুন কিছু করবার, নতুন কিছু ভাববার। কখনো পুরনো স্মৃতি মনে করে করে কাতর হই। একাকিত্বে খুব মনে পড়ে অতীতকথা। ছেলেবেলার ছেলেখেলা, খুনসুটি, ছেলেমানুষি মনে পড়তেই মুষড়ে পড়ি। করোটিতে দাবড়ে বেড়ায় অজস্র স্মৃতিকথা। চিনচিনিয়ে ওঠে অসহ্য যাতনা। তবে নতুনকে ঘিরেই বেঁচে আছি আজকাল। অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে বাড়ার প্রেরণাটা কখনোবা থমকে দাঁড়ায়। সুগম পথটাও চকিতে হয়ে পড়ে দুর্গম। অদম্য শক্তি আর দুন্দান্ত গতিতে পা বাড়াই শুধুই ব্যর্থ চেষ্টা। তবুও নতুনকে আগলে বেঁচে আছি।
স্মৃতি অমন বিস্মৃতি কেনবারংবার প্রশ্নবিদ্ধ হই বিবেকের কাছে। জানবার ঔৎসুক্য ঘিরে ধরে আমায়। আমি ব্যগ্র হয়ে জিজ্ঞেস করি
ওহে ভুলামন, তুই তো বলতে পারতিস কী এর কারণ?
আমি জানি না, কেন হারাই? হারাতেই থাকি অহর্নিশি। পেছনে অমূল্য কি তবে কিছুই নেই? বোধকরি ছিলো না কিছু। কেন যেন অনুভবে খুয়া যাচ্ছে সব। আমি অতীতকে হারাতে চাই না। নতুনের সাথে জুড়তে চাই। স্মৃতির পাতায় লেপটে থাকুক অতীতটাও।
ভবিষ্যতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত দেখতে চাই বলে অতীতকে তো অবজ্ঞা করতে পারি না যখন এতটুকুন সুখ বলে কিছু থাকবে না তখন অতীতের দুঃখগুলোই প্রবোধ দেবে, দেবে সান্ত¦না। দুদ- শান্তি পাবো তখন। যদি অতীতকেই ভুলে যাই তবে তো আমি আত্মভোলা
নিজেকে চিনতে বেগ পেতে হয় নি কভু। এই তো ছুঁয়ে দেখলাম হ্যাঁ ঠিকই তো আছি। আমি বৈ ভিন্ন কেউ নয় এ চর্মচক্ষে চেয়ে দেখলাম, ছুঁয়ে দেখলাম হাতের আলতো ছোঁয়ায়। আমি তো ঠিকই আছি। তবে স্মৃতিটা অমন প্রতারণা করছে কেন
কিছুকাল পরে বর্তমানটাও অতীত হবে। হয়ে যাবে বিলীন; এ আমি চাই না। জীবনের স্বল্প পরিসরে কীইবা অর্জন আমার তাও কিনা যাবার পথে উঁহু, এ মানতে পারি না। বিধাতা, ভাগ্যরেখা মুছে তো যায় নি আমার। স্মৃতির পাতাকে বিমোচিত করো, প্রভু। নন্দিত করো অনিন্দ্য শিল্পে। সমৃদ্ধ করো অজানার জ্ঞানে, নতুনের গুণে। স্মৃতির ঝাঁপিতে যা কিছু সঞ্চিত, সব যে কেমন উড়োউড়ো করছে, তুমি রক্ষে করো দয়াময়।
ফরিদাবাদ, ঢাকা
