ভালোবাসি কালোবিন্দু

সংখ্যা:

 

কলমের ডগা থেকে যে কালোবিন্দুদল বেরিয়ে এসে রেখা তৈরি করে, শিল্পের সৌন্দর্য ছড়িয়ে এঁকে চলে লেখকের কল্পচিত্র- তার ভালোবাসা আমার আত্মার আকুতি। আমি তাকে ভালোবাসি। কালো হরফের বিন্দু বিন্দু জল যখন কাগজের কপাল কপোল আর নাকের সরু ডগা বেয়ে নেমে আসে, তখন প্রেয়সীর প্রেমময় মুখের চেয়েও বেশি মনছোঁয়া অনুভূত হয় তার মুখ।

কালো হরফকে আমরা কখনো মুক্তো বলি। কিন্তু যিনি কালোবিন্দুর মিছিলে আত্মার মানচিত্র আঁকেন, হৃদয়ের সবটুকু প্রেম-সুরভি মেখে যিনি সাজিয়ে তোলেন হরফের ফুলদানি, তার কাছে একটি কালো হরফের তুল্য হতে পারে না শতটি মুক্তোখণ্ডও। মুক্তো দিয়ে মানুষ কী করে! ধনলোভী না হলে মুক্তো হয়তো তার দৃষ্টিকে ছোঁবে, এর বেশি তো নয়! কিন্তু কালোবিন্দুর সাথে যাঁদের আত্মার প্রেম হয়, বিন্দুরেখার কালো হরফ শুধু তাঁদের দৃষ্টিকেই ছোঁয় না, হৃদয়-ঝরণায়ও সঙ্গীতের সুর তোলে, ডেকে আনে উচ্ছলতার ঢেউ।

সেই সঙ্গীতের মূর্ছনায় কালোকালির ফেরিঅলারা আত্মহারা হন, ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যান সব ভুলে। একের পর এক রচনা করেন কালির শিল্প, বিন্দু-উৎসব! বিন্দু বিন্দু জল ঢেলে পাঠকের আত্মার উদ্যানে ফুটিয়ে তোলেন কালের শুভ্র গোলাপ। কালোবিন্দুর মালা পরিয়ে তারা পাঠকের সামনে হাজির করেন অতীতের বুনোহাঁস, বালিহাঁস। মনের মধ্য থেকে যা খলবলিয়ে ডানা ঝাপটে শুধু পেছনে উড়ে। শুধু পেছনে। যেখানে দেখা যায় কালের ধূসর পদচিহ্ন। এই কালির বিন্দু দিয়েই তারা নির্মাণ করেন জাতির স্বপ্নপ্রাসাদ। বিন্দুর মুক্তো ছিটিয়ে ঝলমলে করে তোলেন জাতির ভাগ্যাকাশ। কালির বিন্দু, বিন্দুদল, মুক্তোরেখা-এসবেই সৃষ্টি হয় শত-হাজার পৃষ্ঠার দাস্তান।

জ্ঞানপিপাসু পাঠকের বিন্দুই সিন্ধু; জলথৈথৈ সিন্ধুনদ। কালোবিন্দুর মিছিল যখন শুদ্ধ শালীন আর সুন্দর শরবতরূপে পরিবেশিত হয়, পাঠক তা পান করে তৃপ্তচিত্তে বলে ওঠে- আহ, এই তো জমজম, জ্ঞানের জমজম!

একফোঁটা কালি একটি জলবিন্দু। বাক্যের পূর্ণতায় যা একপশলা বৃষ্টির মতোই পাঠককে ভিজিয়ে দেয়। সিক্ত পাঠকের বুক থেকে নিয়ে যায় এক আঁজলা শীতল-কোমল ভালোবাসা।

এই যে কতো কি! এসবই কালির কারিশমা। বিন্দুর অমূল্য দান। এই দানের ফলেই লেখকরা মনের মধ্যে কল্পনার ঘোড়া ছুটিয়ে আঁকেন আপন আত্মার মানচিত্র। নিজ সত্ত্বারই বর্ণনা দেন রঙধনুর হরেক রঙে। নিজেকে আঁকার, বর্ণনা করার এই কাজ তারা করেন, কারণ, তারা তখনই কালির প্রতি, কালোবিন্দুর প্রতি সীমাহীন ভালোবাসাাঁ উপলব্ধি করেন। আহা, বিন্দুর ঋণে বিন্দুরই অকিঞ্চিৎ দানের শোকর!

আর তাই, এই আমিও বিন্দুকে ভালোবাসি, ভালোবেসে বিন্দুর মিছিলে এঁকে চলি আপনাকে।

 

জামিয়া ফরিদাবাদ, ঢাকা

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১