শেষ বিকেলের কথা

সংখ্যা:

 

শূন্য নদীর পাড়। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। শীতল মৃদু দমকা হাওয়ায় শীত শীত অনুভূত হয়। বৃষ্টির পানিতে চশমার কাঁচ অস্বচ্ছ হয়ে যায়। বারবার জামার আস্তিনে মুছে কানের ওপর গুঁজে দিই চশমার ফ্রেম। বিরক্তি চলে আসলেও ভালোবাসার টান। এই ভালোবাসাকে বিচ্ছেদের দুঃখ দেওয়া যায় না। দুঃখ দিলে একটা জগত অসুন্দর হয়ে আসবে।

থৈ থৈ নদীর পানি। ট্রলার এসে ঢেউ সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে তটে আসে। নীড়ে ফেরা পাখির মতন। শীতলপাটির মতন বিছানো রাশি রাশি জল এঁকেবেঁকে তীরে ফিরে মৃদু ধাক্কা দেয়। ঢেউয়ের এ ধাক্কার শব্দ হৃদয়ে পৌঁছে ঘোর সৃষ্টি করে। ভাবনার ঘোর।

মাঝিরা নৌকা নিয়ে পানিতে জাল ফেলে। জাল ফেলার নিপুণতা আমাকে মুগ্ধ করে। ভাবি, ওহে মাঝি, নদীর বুকের হৃদয়টা আমাকে এনে দাও। স্বচ্ছ-নির্মল হৃদয়টা আমার করে দাও। নিঃসঙ্গতা, হাহাকার, একাকিত্বগুলো ঘুচে যাক। ব্যথা-বেদনাবহ জীবনে আর কত বাস করবো!

মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। দূরে নেতিয়ে যাওয়া কাশফুল। মৃদু কুয়াশা। পাখিদের আনাগোনা কম। তবুও একদল পাখি উড়ছে। একটা পাখি একা। একা একা পথ গুণে বোধহয় উড়ছে। হৃদয় বলে, ওটা তুই। ওটাই তোর অস্তিত্ব। দেখ একাকী জীবন দিব্যি চালিয়ে নিচ্ছে। জীবন তো একাই। কিন্তু সময়ের পরিসরে আমরা কারো হই। কারো জন্যে বাঁচতে চাই। কারো না হতে পারলে সুন্দর জগতটা ছিন্নভিন্ন করে দিই।

পঁচে যাওয়া ফুলের মতন হয়ে যাই। ফুল যেমন প্রথম জীবনে সুরভি ছড়ায়, সবার প্রিয়দের তালিকায় নিজের স্থান রাখে, তারপর পঁচে গেলে কেউ নাকে নেয় না। ফেলে দেয়। পঁচে যাওয়া ফুলের মতন বাঁচতে বাঁচতে নিজের জীবন হারিয়ে ফেলি। সুন্দর একটা জীবনকে নষ্ট করে দিই কারো হবার জন্য। কারো জীবনে সৌরভ ছড়াবার জন্য। কেউ হতে পারে, কেউ না। জীবন এমনই। বাঁচতে হলে একাকী জীবনে অভ্যস্ত হতে পারলে জীবন সুখের। জীবনে কেউ কারো নয়। সবাই নিজের।

গুড়িগুড়ি বৃষ্টি থেমে যায়। দিনের পর্দা ঠেলে ভিড় করে সন্ধ্যার আবরণ। সন্ধ্যা নামার পূর্বেই সন্ধ্যা নেমে যায় মেঘলা আকাশের টানে। সারাদিন জীবনের গায়ে সুতাকাটা মানুষগুলো ক্লান্ত শরীরে ফিরছে ঘরে। সন্ধ্যার গায়ে মাথা রেখে শান্তির অপার ডাকে সাড়া দেবে। কিংবা সংসার নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠবে। সুখ-দুঃখের যাতনায় পানসে জীবন বয়ে বেড়িয়ে চলতে থাকবে অবিরাম।

জীবনে সুখ, দুঃখ, কষ্ট, যাতনা না থাকলে জীবন সুন্দর না। কষ্টের পর, সুখ। সুখের পর দুঃখ আসবেই। কারও আগে কারও পরে। জীবন এসব ছাড়া পানসে। জগত এসব ছাড়া অসুন্দর।

 

সিরাজদিখাঁন, মুন্সিগঞ্জ

নভেম্বর 2019

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১