হঠাৎ গায়ে কলমের ছোঁয়া পেয়ে ও আঁৎকে উঠল। অভিমানী বালিকার মতো যেন ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল, ‘কেন এলে আমার কাছে এতো দিন পর! না এলেও তো পারতে! তোমার কত শত ব্যস্ততা! যাই বলো না কেন, তোমার ওসব বাহানা, অলসতা আর ফাঁকিবাজি—আমি কি আর বুঝি না!’
আমি আদুরে গলায় ওকে বললাম, ‘বারে! আমি তো তোমাকে এনেছিই তোমার গায়ে কলম দিয়ে শব্দচাষ করে বেড়াব বলে। আর তুমি কি না বলছ…!’
ওর অভিমানী দীর্ঘশ্বাস আমাকে থামিয়ে দেয়। এরপর দিতে থাকে একের পর এক ওর আক্ষেপ আর অভিমানের ফিরিস্তি—‘হ্যাঁ, দু’তিন বছর আগে তো সেই একই কথা বলতে আমাকে। মনে আছে তোমার, যে-বার প্রথম তুমি ঢাকা আসবে, আমাকে নিয়ে ছিল তোমার কত স্বপ্ন! কত আশা! কত পরিকল্পনা! সেদিন অন্যান্য জিনিসপত্রের সাথে আমিও জায়গা পেয়েছিলাম তোমার ব্যাগে; খুব যত্নের সাথে। ভেবেছিলাম, এই বুঝি আমার কালো রেখা টানা ধবধবে সাদা পৃষ্ঠাগুলোর অবহেলিত জীবন শেষ হতে যাচ্ছে। কিন্তু কই! যাদুর শহর ঢাকায় এসে আমাকে একেবারেই ভুলে গেলে। সেই অন্ধকার ব্যাগেই আমাকে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘকাল। অবহেলায় দিন দিন পোকামাকড়ের খাদ্যে পরিণত হয়েছিলাম আমি। এভাবেই কাটিয়েছি কয়েক বছর।
‘কিন্তু লাভ হলো কী! আমাকে অবহেলা করে তুমি হারিয়েছ তোমার স্বপ্ন, আশা, আকাঙ্ক্ষা। মাঝেমাঝে আসতে চেয়েছিলে আমার কাছে, জানি, কিন্ত চাকচিক্যময় শহরের ফাঁদে পড়ে গিয়েছিলে। যাকগে, তবে এসেই যখন পড়েছ, মিনতি করছি, আর যেয়ো না! স্বপ্নের পথ পাড়ি দেবার জন্য তোমার আমাকেই দরকার। প্রতিদিন একটু হলেও সঙ্গ দিয়ো ছোট্ট এই ডায়েরিকে।’
ফেব্রুয়ারি 2019

