সবুজের সজীবতা গাছের ডালে, পাতায় পাতায়; যেখানে বাস করি সেখানে সবুজের হাতছানি ডাক দেয় প্রতিনিয়ত। ফুলের বর্ণীল সমারোহের কথা না-ই বলি। সুরমার তীর ঘেঁষে যে শহর গড়ে উঠেছে সেখানকার চোখ-স্নিগ্ধ-করা স্বপ্নালু অট্টালিকা, চা-বাগানের বর্ণনাতীত স্মিতহাস্য—যে হাসি ঠোঁটে নয়, হৃদয়ে ফোটে। সন্ধ্যার সোনালি সূর্য বিদায়ের মুহূর্তে সমুদ্রতটে দাঁড়ানো প্রাণকে যে মোহমন্ত্র দিয়ে যায়, সেটাও বর্ণাতীত। মাগরিবের আজানের সঙ্গে সঙ্গে এই শহরে যে সোনালি বিকিরণ শুরু হয়ে চারিদিকে জ্বলে ওঠে লালনীল বাতি, একেও সোনালি সূর্যিই জ্ঞান হয়। শহরের হালচাল এতটা মোহরূপ হলে, গ্রাম—যেখানে প্রকৃতির সুনিপুণ ছন্দে সবুজেরা কবিতা আবৃত্তি করে প্রতি মুহূর্তে, হাওরের বুকে শাপলার সফেদ হাসির কথা বাদ দিলেও সেই গ্রাম কতটা মুগ্ধকর হবে! এই বর্ণনা সবাই দিতে পারে না। আমি তো অবশ্যই না
একদা বসন্তের রুপালি অপরাহ্নের মৃদু সমীরণে বসে ভেবে ভেবে শুধু এতটুকু বলতে থাকি, আহা জগত কত সুন্দর। আসলেই এই জগতের প্রেমে না পড়ে উপায় নেই। এই সুন্দর জগতে অবলা নারী, অঢেল টাকা-পয়সা, সন্তান-সন্ততি, মায়াবী শিশু, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি আর আকাশচুম্বী বাড়ি—উপভোগের কোন বস্তুটি নেই এই জগতে?
তাই তো আমি প্রতিক্ষণে লীন হয়ে আছি জগতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। মাথার ঘাম পায়ে ঝরিয়ে আমি প্রতিদিন কোশেশ করি উপভোগের সামগ্রীগুলো নিজের করে নিতে। বাড়ি চাই, গাড়ি চাই, যশ-খ্যাতি, জাগতিক সকল অভিজাত্য চাই আমি। জগতের এই মায়া আমার কায়া হয়ে গেছে যেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পার্থিবজীবন কেবল খেল তামাশা আর ধোঁকার সামগ্রী মাত্র।’
ঘুমোতে গিয়ে বালিশে মাথা রেখে এক রাতে হাঁপিয়ে উঠি—আল্লাহ তাআলা কী করতে বলেছেন আর আমি কী করছি! খেলতামাশাকে জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়ে ফেলেছি। ক্যারিয়ার গড়ার নামে ধোঁকার সামগ্রীকে বানিয়েছি জীবনের পোষাক। যেন জগত একটাই, একটাই জীবন!
নভেম্বর 2018

