ভালোবাসার খোঁজে লায়লি-মজনু

সংখ্যা:

‘তোমরা যে বলো দিবস রজনী ভালোবাসা, ভালোবাসা, সখী ভালোবাসা কারে কয়?’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

একদিন এক সুন্দর সকালে কোনো এক বিচিত্র কারণে মনের মধ্যে একটি প্রশ্নের উদয় হলো- ‘আচ্ছা, বাংলা সাহিত্যে ‘ভালোবাসা’ শব্দটি কবে কোথায় ব্যবহৃত হয়েছিল? প্রাচীন যুগে? মধ্য যুগে? নাকি আধুনিক যুগে?’ এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য প্রথমেই বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের স্মরণ নিতে হলো। তালাশ করে দেখা গেল চর্যাপদে সরাসরি কোথাও ‘ভালোবাসা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি। তবে এর আঠাশ নম্বর পদে ‘পেম্ম’ শব্দটি আছে যা প্রেম অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া, ভিন্ন দুইটি পদে দুইবার ‘বাস’ শব্দটি এসেছে, যা ‘অনুভব করা’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

চর্যাপদে ভালোবাসার খোঁজ না পেয়ে মধ্যযুগের কাব্যে তল্লাশি চালাতে হলো। মধ্যযুগের আদি নিদর্শন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য হাতের কাছে ছিলো না। তাই দ্বাদশ শতক থেকে পঞ্চদশ শতকের মধ্যে বাংলা সাহিত্যে ‘ভালোবাসা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে কি না সেই প্রশ্নের উত্তর এই প্রবন্ধটি লেখা পর্যন্ত অজানাই থেকে গেল। তবে আশা করছি কেউ না কেউ অসম্পূর্ণ এই তল্লাশি সম্পূর্ণ করতে আগ্রহী হবেন। সে যাই হোক, সংগ্রহে ছিল মধ্যযুগের বিখ্যাত কবি দৌলত উজির বাহরাম খাঁ বিরচিত অমর প্রেমগাঁথা লায়লি-মজনু। ভাবলাম, ভালোবাসা খোঁজার জন্য এর চেয়ে ভালো জায়গা আর কী হতে পারে! শুরু করলাম লায়লি-মজনু কাব্যে ‘ভালোবাসা’ শব্দটির তালাশ। আশ্চর্য হয়ে লক্ষ করলাম, বিশাল এই কাব্যে ‘ভালোবাসা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র একবার, তাও সেটা নর-নারীর প্রেম অর্থে নয়। সেই চরণটি হলো-

‘দেখিয়া ধর্মের সাজ ভালোবাসে মহারাজ

প্রসাদ করিলা দুই সিক।’

এছাড়া পুরো কাব্যটিতে আর কোথাও ‘ভালোবাসা’ শব্দটি নেই! যদিও প্রেম অর্থে অনেকবার প্রেম, পীরিত, কাম, প্রেমরস, রতি ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।

যাইহোক, আপাতত এটুকু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে যে, বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদে ‘ভালোবাসা’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি, তবে মধ্যযুগের ষোড়শ শতকে ‘ভালোবাসা’ শব্দটির ব্যবহারের নজির ছিল।

অবশেষে ভালোবাসার সন্ধান তো পেলাম, উপরি লাভ হলো এই যে, লায়লি-মজনু কাব্যটিতে মনের সুখে অবগাহন করা হলো। সত্যিই, দৌলত উজির বাহরাম খাঁ এক অদ্ভুত শক্তিমান কবি। তার সম্বন্ধে কিছু কথা বলার লোভ সামলাতে পারছি না।

 

দৌলত উজির বাহরাম খাঁ ও তার লায়লি-মজনু

‘সেই সত্য যা রচিবে তুমি, ঘটে যা তা সব সত্য নহে। কবি, তব মনো ভূমি, রামের জন্মস্থান অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।’ -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বাংলা ভাষায় লায়লি-মজনু কাব্য রচনা করে দৌলত উজির বাহরাম খাঁ যে দুঃসাহসের পরিচয় দিয়েছেন তার জন্য তাঁকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। কেননা, ইউসুফ-জুলেখা, লায়লি-মজনু, শিরি-ফরহাদ-এই তিনটি কাব্য মুসলিম বিশ্বের নিজস্ব সম্পদ। ফারসি ‍ও সেখান থেকে হিন্দিতে অনূদিত এই প্রণয়কাব্যগুলোর মধ্যে লায়লি-মজনু ও শিরি-ফরহাদ কাব্য দুটো আধ্যাত্মবাদে রাধা-কৃষ্ণের প্রণয়োপাখ্যানের সাথে তুলনীয়। কাজেই বাংলা ভাষায় এইসব কাব্য অনুবাদ করে গ্রহণ করতে গিয়ে পাছে সেই আধ্যাত্ম মাহাত্ম নষ্ট হয় এই ভয়েই বোধ হয় মধ্যযুগে এই প্রণয়োপাখ্যানগুলো বাংলায় খুব বেশি রচিত হয়নি। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে কবি দৌলত উজির কেবল লায়লি-মজনু বাংলা ভাষায় রচনাই করলেন তা নয়, বরং ফারসি ও হিন্দি কাব্যের আধ্যাত্মরস ছেটে ফেলে নিছক মানব-মানবীর প্রেমকাহিনিতে পরিণত করে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করলেন।

মধ্যযুগীয় বাংলা কাব্যের একটি সমৃদ্ধ ধারা মঙ্গলকাব্য রচিত হয়েছিল দেব-দেবীর মাহাত্ম্য বর্ণনার প্রয়োজনে। কাজেই সেসব কাব্যে দেব-দেবীর অলৌকিকত্ব ও অতি-প্রাকৃতিক ক্ষমতার বিবরণ এসেছে সঙ্গত কারণেই। সেই সাথে সেইসব দেব-দেবীকে টেক্কা দেওয়ার মতো উপযুক্ত প্রতিপক্ষও তো প্রয়োজন ছিল; যাদের পদাবনত করে সেই দেব/দেবীর জয় হবে ও জগতে তাদের মাহাত্ম্য প্রকাশিত হবে। আর সেই প্রতিপক্ষের গুরু ভার বইতে হত কোনো না কোনো মানুষকেই। ফলে সেই মানুষগুলোকেও হতে হত অবিশ্বাস্য রকম অতিমানবীয় গুণাবলীর অধিকারী। সেইসব বিবরণ শুনেও শ্রোতা-পাঠকবৃন্দ সেসবের যৌক্তিকতা নিয়ে মাথা ঘামাত না। কেননা, মঙ্গলকাব্যগুলোকে কেবল কাব্য নয়, বরং পুণ্য অর্জনের অনুষঙ্গ ও উপায় বলে বিশ্বাস করা হত। মধ্যযুগের মঙ্গলকাব্যের যে কোনোটির প্রধান মানুষ চরিত্রকে সচেতনভাবে পাঠ করলেই এর সত্যতা মিলবে।

মঙ্গলকাব্যধারার পর মুসলমান কবিরা প্রথম মানুষকে উপজীব্য করে কাব্যরচনা শুরু করলেন, রচিত হতে থাকল বিভিন্ন মানব-মানবীর প্রণয়োপাখ্যান। কিন্তু মঙ্গলকাব্যের সময় থেকে সেই অতিমানবীয় গুণাবলীর যে ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে বাংলা সাহিত্যে, তা থেকে কি এত সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়? গুড়ের পায়েশ খাওয়ার পর কি দুই চামচ চিনিতে প্রস্তুত চায়ের স্বাদ মুখে লাগে? লাগে না। ফলে সম্পূর্ণ মানবীয় প্রেম-কাহিনি রচনা করতে যেয়েও মুসলমান কবিগণ সেই অতিশয়োক্তি থেকে বের হতে পারেন না। এর প্রমাণ মিলবে ‘লায়লি-মজনু’ কাব্যে যখন কবি দৌলত উজির বাহরাম খাঁ নিজের বংশপরিচয় বর্ণনায় তাঁর পূর্বপুরুষ হামিদখানের গুণকীর্তন করেন। হামিদ খান ছিলেন নৃপতি হুসেন শাহের উজির। কবি বর্ডুত হামিদ খানের দানধ্যানের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, মানুষ, পশু-পাখি কেউই তাঁর দান-ধ্যান থেকে বাদ যায়নি। কবির ভাষায়-

প্রধান উজিরতান         সুনাম হামিদ খান

তাহান গুণের অন্ত নাই।

অন্নশালা স্থানে স্থান        মসজিদ সুনির্মাণ

পুষ্করণী দিলেক ঠাঁইঠাঁই।।

অনুদিনমহামতি           পিপীলিকা মক্ষী প্রতি

শর্করাদি দিলেন্ত খাইবার।

কাক পিক পক্ষী আদি      শিব সেজা চতুষ্পদী

যোগাইলেন সভান আহার।।

বাতুল আতুর যথ              পালিলেন্ত অবিরত

দানধর্ম করিলা বিশেষ।

নটক গাইনজনে          সত্য যথ কৃতি ভনে

প্রকাশ হইল সর্বদেশ।।

 

কবিতার পূর্বপুরুষের দান-ধর্মের কথা শত মুখে বলবেন, এতে আর আশ্চর্যের কী? তবে এরপর যখন তাঁর এই সুখ্যাতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে নৃপতি হুসেন শাহ হামিদ খানকে বিভিন্ন পরীক্ষায় ফেলেন তার বিবরণ পাঠে বিস্মিত হবেন না এমন মানুষ দুর্লভ। হুসেন শাহ হামিদ খানের সাতটি পরীক্ষা নিলেন। প্রথমে তাঁকে বাঘের সামনে ফেলে দেওয়া হলো। বাঘ তাঁকে দেখে মাথা নত করে ফেলল! দ্বিতীয় বার তাঁকে পাথরে বেঁধে সাগরে ফেলে দেওয়া হলো, তিনি সেখানে সুখে নামাজ পড়লেন! তৃতীয় বারে তাঁকে বেঁধে হাতির সামনে রাখা হলে হাতি তাঁকে সালাম করে সরে পড়ল! এরপর তাঁকে জতুগৃহে রেখে আগুন দিয়েও পুড়িয়ে মারতে পারা গেল না! পঞ্চম বারে খড়্গ দিয়ে আঘাত করা হলো, খড়গ ভেঙে খানখান হলো! এরপর তাঁর প্রতি তীর নিক্ষেপ করা হলো, অথচ একটা তীরও তাঁকে আঘাত করল না! শেষবার বিষ দিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হলো, সে চেষ্টাও বৃথা গেল! পাঠক, আপনাদের কি রাসপুতিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে? হামিদ খান এই কাব্যের নায়কও নন, তাঁর গুণকীর্তনেই যদি কবির কবিত্ব শক্তি এরকম কল্পতরুর ডাল-পালা বেয়ে আকাশ ছুঁতে চেষ্টা করে, তবে মূলকাব্যের নায়ক কয়েস তথা মজনুও তার প্রেমাস্পদ প্রেয়সী লায়লির রূপ-গুণ সৌন্দর্য দৌলত উজির বাহরাম খাঁ কত সযতনেই না রচনা করেছেন, আপনি কি তা কল্পনা করতে পারেন?

 

ঘটনা-সংক্ষেপ

লায়লি-মজনুর আখ্যানটির ঘটনাস্থল আরব, পাত্র-পাত্রীও আরবীয়, অথচ মজার ব্যাপার হলো এই কাহিনি-কাব্য কিন্তু আরব থেকে উদ্ভুত নয়। আরবি সাহিত্যের ইতিহাসও এ বিষয়ে নীরব বলে জানা যায়। পারস্যে ফার্সি ভাষায় লায়লি-মজনুর কবিতা-কেচ্ছার প্রচলন ছিল। স্বভাবতই ইসলাম প্রচারিত হবার সময় সংস্কৃতির স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় এই কাহিনি ভারতীয় উপমহাদেশে প্রসিদ্ধি লাভ করে। তবে দৌলত উজিরের লায়লি-মজনু কাব্যকে ফার্সি কবি নিজামি গঞ্জাাব বা দিল্লির আমির খসরুর কাব্যের অনুবাদ বলা চলে না। তিনি লায়লি-মজনুর কাহিনিকে ভিত্তি করে স্বাধীনভাবেই তাঁর কাব্যটি রচনা করেছেন। তাই তাঁর কাব্যে মরু-আরবের আবহকে ছাপিয়ে বাংলার জীবনের ছাপই লক্ষ করা যায়।

কাব্যের মূল চরিত্র দুই প্রেমিক-প্রেমিকা। আমিরপুত্র কয়েস ও সুমতি কন্যা লায়লি। পাঠশালায় পড়ার সময়েই একে অপরের প্রেমে নিমজ্জিত হয়। তাদের প্রেমের খবর লায়লির পরিবার জানতে পারে ও লায়লিকে গৃহবন্দি করে রাখে। কয়েস তাকে এক নজর দেখার জন্য কত উপায়ই না অবলম্বন করে। অন্ধ ভিখারী সেজে খাদে পড়ে যায়, ভিক্ষুকবেশে লায়লির বাড়িতে ভিক্ষা করে। এভাবে এক আধবার একটুখানি দেখা হয়। কিন্তু সে খবর লায়লির ‍পিতার কানে পৌঁছলে তিনি গুণ্ডা লেলিয়ে কয়েসকে প্রহারে প্রহারে রক্তাক্ত করেন। দুঃখে, ক্ষোভে, বিরহে পাগল হয়ে যায় কয়েস, লায়লির প্রেমে সে হয়ে যায় মজনু (আরবি ‘মাজনুন’ শব্দের অর্থ পাগল, সেখান থেকেই মজনু নামের উৎপত্তি)। তাকে ভালো করার জন্য লায়লির কুকুরের গলার ডোর এনে মজনুর গলায় পরানো হয়, তার কান্না বন্ধ করার জন্য লায়লির পায়ের ধুলো এনে মজনুর চোখে সুরমার মতো লাগানো হয়। অশ্রু তো থামে, কিন্তু হৃদয় ছিন্ন ভিন্ন হয়। গলায় কুকুরের ডোর রেখে বাকি সব পরিধেয় ছিঁড়ে ফেলে দেয় মজনু। মজনুর এই অবস্থা দেখে তার পিতা বিয়ের পয়গাম নিয়ে যায় লায়লির বাড়ি। কিন্তু লায়লির পিতা কিছুতেই এই পাগল ছেলের সাথে নিজের মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হন না। যে ছেলে লায়লির কুকুরের মুখে চুম্বন করে দশমুখে কুকুরের গুণকীর্তন করতে থাকে তার সাথে কে-ই বা কন্যার বিয়ে দিতে চাইবে? হায়! সে যদি জানতো এই প্রেমালাপ কুকুরের জন্য নয়, লায়লির জন্যই! কয়েস মজনু হয়ে বনে বনে ঘুরে বেড়ায়, ধ্যানে মগ্ন হয়ে শান্তি খুঁজে বেড়ায়, কিন্তু সবই বৃথা। মজনু বলে-

মরমে ডংশিল মোরে বিরহ ভুজঙ্গ

অতি বিষে নির্বিষ হইল মোর অঙ্গ।

অসার সংসার মধ্যে ভাব মাত্র সার

ভাব বিনে ভাবকের গতি নাহি আর।

শরীরে আছে মোর যাবত জীবন

তাহান প্রেমের ভাব না হোক খুন।

এ দিকে বিরহ-তাপে ক্ষীণতনু লায়লিকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন্য তার পিতা-মাতা নানাভাবে চেষ্টা চালাতে লাগলেন। লায়লিকে বুঝানোর জন্য তার এক বান্ধবী হেতুবতীকে নিয়োগ দেওয়া হলো (আরবকন্যার নাম হেতুবতী ‍কিভাবে হলো সেই প্রশ্ন পাঠকের মনে জাগতে পারে)। হেতুবতী ছিলো কূটনামিতে সেরা। কিন্তু সে পর্যন্ত লায়লিকে বিবাহে সম্মত করাতে ব্যর্থ হলো। অবশেষে লায়লিকে জোরপূর্বকই বিয়ে দেওয়া হলো ইবন সালামের সাথে। কিন্তু বাসর রাতেই কটূ বাক্যে কঠিন অপমান করে তাকে তাড়িয়ে দেয় লায়লি। মজনুর বিরহ-শোকে তার দিন কাটতে থাকে।

 

নজদ বনে (যেখানে মজনু পাগল হয়ে ঘুরছিল) সেখানে নয়ফলরাজ এলেন শিকার করতে। মজনুর দুর্দশা দেখে তিনি লায়লির পিতার কাছে মজনুর বিয়ের পয়গাম পাঠালেন। সেই সাথে হুঁশিয়ার করলেন যে, এ প্রস্তাবে রাজি না হলে বলপ্রয়োগ করে হলেও লায়লিকে মজনুর সাথে বিয়ে দেবেন তিনি। লায়লির পিতার আত্মসম্মানে ঘা লাগল। ফলে শুরু হলো লড়াই। লড়াইয়ে হেরে গেলেন লায়লির পিতা। এদিকে লায়লিকে দেখে নয়ফলরাজ নিজেই তার রূপে বিমুগ্ধ হয়ে যান। লায়লিকে পাওয়ার বাসনায় তিনি মজনুকে প্রস্তাব করেন যে, লায়লি ছাড়া মহলের অন্য যে কোন রমণীকে বেছে নেওয়ার জন্য। কিন্তু মজনু জবাব দেয়-

প্রবেশ করিয়া মোর নয়ান অন্তর

লায়লিকে নিরক্ষিয়া দেখ নৃপবর।

তবে সে দেখিবে তুহ্মি লায়লির রূপ

রূপে অপসরা হেন জানিবে স্বরূপ।

এভাবে কাজ হবে না বুঝতে পেরে নয়ফলরাজ মজনুকে বিষ প্রয়োগে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ভাগ্যের খেলায় পরিবেশনের ভুলে নিজেই সে বিষ খেয়ে মারা যান। এ খবর পেয়ে লায়লির পিতা কন্যাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান আর মজনু আবার চলে যায় নজদ বনে।

নজদ বনে মজনু বিরহে বিরহে শুকিয়ে যেতে থাকে, চেহারা বিকৃত হয়ে যায়। লায়লির পিতা নজদ বনের পাশ দিয়ে সপরিবার সাম দেশে যাওয়ার সময় লায়লি লুকিয়ে চলে আসে সেই বনে, মজনুর নিকট। সেই বনেই তাকে গ্রহণ করতে বলে। কিন্তু যেই প্রেমের কথা দেশব্যাপী রাষ্ট্র হয়ে গেছে, লুকিয়ে মিলিত হয়ে সে প্রেমের অপমান করতে রাজি হয় না মজনু। ফিরিয়ে দেয় তাকে।

এরপর বিরহে বিলাপেই দিন কাটতে থাকে দুজনের। ধীরে ধীরে নিভে যেতে থাকে লায়লির জীবন-প্রদীপ। মৃত্যুকালে লায়লি তার মায়ের কাছে কাতর মিনতি জানায়, যেন তার মৃত্যুসংবাদটি মজনুর কাছে পৌঁছানো হয়।

তারপর…

তারপর লায়লির মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ছুটে আসে মজনু। প্রিয়তমার কবর আঁকড়ে ধরে হাহাকার করতে করতে জীবনাবসান হয় হতভাগ্য এই প্রেমিকের। মৃত্যুই দু’জনার প্রেমকে অমর করল বিশ্বের আশেকদের মন-মন্দিরে। আর অবসান ঘটাল দুটো বিরহ-তাপিত মনুষ্যপ্রাণের যন্ত্রণা। কবি দৌলত উজিরের ভাষায়-

কবরেতে দুইজন     বক্ষে বক্ষে সর্বক্ষণ

মজিয়া রহিব মন সুখে।

দুনিয়াতে পাইল দুখ   কবরেতে হৈব সুখ

নিজ প্রিয় লইবেন বুকে।।

 

এভাবেই শেষ হলো লায়লি-মজনুর ভালোবাসার কাহিনি, নাকি শুরু হলো? সে বিচার ভবিষ্যত পাঠকবৃন্দই করবেন। আমি আপাতত এইখানেই ভালোবাসার খোঁজ শেষ করলাম। আল্লাহ হাফেজ।

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১