‘মক্কা শহরে ছদ্মবেশী এক খ্রিষ্টানের দিনলিপি’। বইটির মূল নাম mon vozage a la mecque। অনুবাদ করেছেন ইশতিয়াক আহমাদ। বইয়ের মূল লেখক জুলেস জার্ভিস কোর্তেলোমো একজন বিখ্যাত ফরাসি আলোকচিত্রী। একদিন তাঁর মনে জেগে ওঠে মুসলমানদের তীর্থ ভূমি মক্কা ভ্রমণের বাসনা। সাথে যোগ হয়, পবিত্র কাবা গৃহ, যাকে ঘিরে মুসলমানদের বেঁচে থাকা, যার জন্য হাজারও জীবন উৎসর্গিত সেই গৃহকে ফ্রেমে বন্দী করার সাধ। তখনও কোনো আলোকচিত্রী তা ফ্রেমে আবদ্ধ করতে পারেনি। ‘সেই ভাগ্যবান আলোকচিত্রী তাকেই হতে হবে’—এই বাসনা নিয়ে শুরু হলো ভ্রমণের প্রস্তুতি।
কিন্তু যাবেন কীভাবে, তিনি যে অমুসলিম!
কীভাবে ঢুকবেন মক্কা শহরে? সেখানে যে অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ!
ছদ্মবেশ ধরতে হবে. মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। সেই সঙ্গে মুসলমানদের রীতি-রেওয়াজ নকলের চেষ্টা করতে লাগলেন। চলে গেল অনেকদিন। একসময় তিনি সেই রীতি-রেওয়াজ আয়ত্ত করতে সক্ষম হলেন। তারপর এক কাফেলার সাথে রওনা হয়ে গেলেন। ছদ্মবেশী মুসলিম তিনি। পথে বহু বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হলেন।
পাঠক সত্যিই শিউরে উঠবেন আঠারো শতকের সেই সমুদ্রভ্রমণের কাহিনি পড়ে। কখনো ভয় কখনো উৎকন্ঠা, কখনো আশা কখনো-বা হতাশা। তবে লেখক যে সত্যিকারার্থেই বিচক্ষণ ও সৎ মানুষ ছিলেন সেটা গোপন থাকবে পাঠকের কাছে। অসম্পূর্ণতা বা ত্রুটি যারই হোক, বলেছেন অকপটে। বাদ দেননি নিজ মাতৃভূমির প্রসঙ্গও। বলেছেন মুসলমানদের বিশ্ব বাজারে পিছিয়ে থাকার কারণ।
লেখকের জন্য সবচেয়ে কঠিন ছিল তাঁর ‘স্বপ্ন’ পূরণ করা। কারণ মক্কায় তখন ক্যামেরা অনুমোদিত ছিল না। একজন ভিনদেশি অমুসলিমের পক্ষে সেই নিয়ম অমান্য করা কতটা কঠিন ও ভয়ংকর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। লেখকের সেই স্বপ্ন পূরণের দুর্দান্ত কাহিনি সত্যিই উপভোগ্য ছিল।
সর্বোপরি পাঠক আঠারো শতকের আরব ইতিহাস ও তৎকালীন আরব সমাজ ও পরিবেশের সাথে পরিচিত হবেন। বইটি পাঠ্য তালিকায় থাকতে পারে।
সবশেষে অনুবাদকের প্রশংসা না করলে অবিচার হয়ে যাবে। পুরো বইয়ে দু-এক জায়গা ছাড়া মনে হয়নি যে অনুবাদ পড়ছি। অনুবাদকের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। নবপ্রকাশকে ধন্যবাদ, চমৎকার এই বইটি উপহার দেওয়ার জন্য।
লেখক : জামিয়াতুল মাআরিফ আলইসলামিয়া, ৮৮/৯ উত্তর যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
ডিসেম্বর 2019

