নবপ্রকাশের এক আবেগী পাঠক আমি। সুযোগ পেলেই ছুটে যাই বাংলাবাজারের ইসলামী টাওয়ারে। ইসহাক ভাইকে জিজ্ঞেস করি, নতুন বইয়ের ব্যাপারে। বই কবে আসছে? আমার ঘন ঘন এমন যাতায়াত এবং বইপত্রের খোঁজ-খবর নেওয়ার কারণে নবপ্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছেই পরিচিত এবং স্নেহধন্য হয়ে গেছি এতো দিনে।
শুরুর কথা বলি। আদীব হুজুরের ‘তুরস্কে তুর্কিস্তানের সন্ধানে’ বইটি পড়ে উসমানি খেলাফতের ইতিহাস জানার আগ্রহ আমার ভেতর দুর্বার হয়ে উঠেছিল। একদিন নবধ্বনির বিজ্ঞাপন-পাতায় দেখি তামীম রায়হান লিখিত একটি বই আসছে খুব শিগগির নবপ্রকাশ থেকে, ‘সুলতান কাহিনি’, যেটা নাকি উসমানি খেলাফতের উপর লিখিত। সেই থেকে অপেক্ষা করতে লাগলাম বইটির। নবপ্রকাশে গিয়ে বারবার খোঁজ নিতে লাগলাম, কবে আসছে বইটি?
কিন্তু অপেক্ষার প্রহর আর ফুরোয় না। নবধ্বনিতে প্রতি মাসেই বিজ্ঞাপন আসে, শিগগির আসছে ‘সুলতান কাহিনি’, কিন্তু শিগগির আর হয় না। এভাবে বেশ কয়েক মাস যাবার পর অবশেষে বইটি প্রকাশ হয়।
বই প্রকাশের খবর শুনে আমি দ্রুত গেলাম নবপ্রকাশে। ইসহাক ভাই, মুচকি হেসে বললেন, ‘তোমার বইটি এসেছে। সেই সঙ্গে সারপ্রাইজও আছে। বইটির প্রতি তোমার আগ্রহের কথা তামীম রায়হান ভাই জানতে পেরে তোমার জন্য অটোগ্রাফসহ একটা ‘সুলতান কাহিনি’ রেখে গেছেন। তিনি এখন এয়ারপোর্টে, কাতারের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।’
ইসহাক ভাইয়ের কথা শুনে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লাম। বইটা বুকে জড়িয়ে চোখের জল আটকে রাখতে পারলাম না। কোথাকার কোন এক কিশোর, জীবনে কখনো দেখেননি, নামও জানেন না হয়তো ভালোমতো, কিন্তু তারপরও তার জন্য এমন ভালোবাসা লেখকের!
চোখ থেকে টপটপ কওে অশ্রু পড়ছিল, এ অশ্রু আনন্দের। পরম প্রাপ্তির।
তারপর থেকে নবপ্রকাশ আমার অস্তিত্বে মিশে আছে। কিছুদিন পর ‘প্রিয়তমা’ বেরোলো। এখানেও ঘটল প্রায় একই রকম ঘটনা। বই বেরোনোর আগে নবধ্বনিতে কয়েক মাস ধরে বিজ্ঞাপন আসছিল—প্রিয়তমা আসছে। কিন্তু আসে তো আর না। আমার অপেক্ষাও ফুরোয় না। অবশেষে এলো প্রিয় বইটি। অভ্যাস মাফিক একদিন নবপ্রকাশে গেলাম। সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর ভাই বসা ছিলেন শো-রুমে। আমি চিনতে পারিনি। ইসহাক ভাই বললেন, ‘ইনিই তোমার প্রিয় লেখক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর।’ আর জাহাঙ্গীর ভাইকে বললেন, ও হচ্ছে আমীন, যার কথা আপনাকে বলেছিলাম।’ জাহাঙ্গীর ভাই তখন বেশ অনেকক্ষণ আমার সঙ্গে কথা বললেন। তারপর প্রিয়তমা বইটি আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘নাও আমীন! এটা তুমি পড়বা। তোমাকে হাদিয়া। জীবনে বড় লেখক হওয়ার স্বপ্ন দেখবা। ভালো থেকো…!’
আমি জীবনে দ্বিতীয় বারের মতো পরম ও অভাবিত প্রাপ্তিতে বিগলিত হলাম। সামান্য এক কিশোর পাঠকের জন্য নবপ্রকাশের লেখকদের এই ভালোবাসা আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নবপ্রকাশ আমার ভালোবাসার অপর নাম। পাঁচ বছর পূর্তিতে নবপ্রকাশের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।
লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া আবু বকর সিদ্দীক রা. উত্তর যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
ডিসেম্বর 2019

