শ্রাবণের শেষাশেষি। বৃষ্টি পড়ছে ঝমঝমিয়ে মুষলধারে। জং ধরা জানালা বেয়ে ছাট আসছে এন্তার। ঘরের সামনে কাঁচা মাটি। বৃষ্টির পানি তার উপর দিয়েই বয়ে যায়। উদাসীন চোখের সামনে দিয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় খড়কুটো, গাছের লতাপাতা। যেন শৈশবের খালে উপচেপড়া পানিতে ভেসে চলা কচুরি পানা। অজ্ঞাত স্থান থেকে ভেসে আসা সবুজ পাতার দুএকটা কলা গাছ।
পানি যেদিকেই মুখ ফেরায় সেদিকেই মাটি সরিয়ে তৈরি করে নিজের নালা পথ। মাটি আর পানির মিশেলে জন্ম নেয় ঘোলাটে কাদাময় একটা তরল পদার্থ। তারপর কলকলিয়ে গড়িয়ে পড়ে নিম্নভূমিতে, খালে, ডোবায়। এই দেখার স্বাদ সবসময় পাওয়া যায় না। বৃষ্টি বিঘ্নিত দিনে তাই বিরক্তি না লেগে, লাগছে মধুর। মন বলছে যাক না সব আবিলতা ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে। দিগন্তের সব আবিলতা মুছে গেলেই তো দেখা মিলে সচ্ছ নীলাভ আকাশের।
ছোপ ছোপ পানি জমছে কয়েক জায়গায়। কোত্থেকে যেন এলো নরম তুলতুলে দুটো পাতি হাঁস-ছানা। অল্প পানিতেই মাথা নুইয়ে পানি পানি খেলা করছে। নিষ্ফল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মাথা ডোবানোর। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। শিমুল তুলোর মতো পাখনা দুটি তাই উঁচু করে প্যাক প্যাক ডাক। তারপর চঞ্চু দিয়ে সারা গায়ে পানির স্পর্শ বিলিয়ে দেওয়া। এ তবে অবোধ প্রাণীর বাঁধভাঙা উল্লাস! নাকি বহুদিন পর স্বজন ফিরে পাওয়ার উচ্ছাস?
ঘনঘোর বরষায় এমন ছবি দেখি না কতদিন। কতদিন চোখে পড়ে না চির আপন এ রিমঝিম বৃষ্টি-বাদল। বেশ উপভোগ্য, বরং এমন দৃশ্য থেকে চোখ ফেরানোই দায়।
আজ সর্বত্র যেখানে নগর জীবনের জয়জয়কার, প্রতিনিয়ত গ্রামীণ ঐতিহ্য যেখানে নাগরিক সভ্যতায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে, সেখানে আবহমান বাংলার এ দৃশ্যটি অত্যন্ত সুখকর বৈকি। ক্যামেরা-লাইট সেট করে এমন মধুর মুহূর্ত দৃশ্যায়ন করতে কাঠখড় পোড়াতে হবে অনেক। কিন্তু এটা কেবলই আল্লাহর দান। না চাইতেই স্রষ্টার অপূর্ব করুণা।
সেপ্টেম্বর 2019

