আলেম সাংসদ ড. আবু রেজা নদভীর মুখোমুখি

সংখ্যা:

 

তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারিত হয়েছিল রাত সাড়ে নয়টা। মুঠোফোনে দুদিন আগেই সময়টা নেওয়া হয়েছিল। পল্টন মোড় থেকে জ্যাম ঠেলে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় পৌঁছুতে পৌঁছুতে ঘড়ির কাঁটা সাড়ে দশটার ঘর ছুঁইছুঁই। নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পরে গিয়ে তাঁর সাক্ষাৎ পাবো কি-না, দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। সঙ্গে এহসান সিরাজ (জীবন্তিকা সম্পাদক) ছিলেন। সাক্ষাতের ব্যবস্থা তিনিই করেছেন। বললেন, সময় খরচ করে যখন আসা হলো, একবার গিয়েই দেখা যাক।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার ন্যাম ভবনের নির্ধারিত অ্যাপার্টম্যান্টের সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেলের সুইচ টিপলাম। দরোজা খুলে দিলেন তাঁর পিএস। সহাস্যে স্বাগত জানালেন। জানালেন, স্যার আমাদের অপেক্ষা করে অন্য একটা মিটিংয়ে বসে গেছেন। মিটিং শেষ হওয়া অবধি অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অপেক্ষার প্রহর গুণতে বসলাম ড্রয়িং রুমের সোফায়।

তাঁর পুরো নাম প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আলেম পরিবারের সন্তান এবং নিজেও একজন তুখোড় আলেম। গত দুই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া আসনের সংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান সংসদের একমাত্র আলেম সংসদ সদস্য তিনি।

কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিস সমাপণ করে ১৯৮৮ সালে ভারতের নদওয়াতুল ওলামা লাখনৌ থেকে আরবি সাহিত্য ও ইসলামিক শিক্ষায় বিএ (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। একই প্রতিষ্ঠান থেকে পরের বছর দ্য সাইন্স অব ইসলামিক ল’-এর ওপর লাভ করেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। পরবর্তী সময়ে লাখনৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। নদওয়ায় থাকাকালে বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলার মাওলানা আবুল হাসান আলি নদভির একান্ত সাহচর্য ও স্নেহও লাভ করেন বলে জানতে পারি আমরা তাঁর কাছ থেকে।

চট্টগ্রামের বিখ্যাত মাদরাসা জামিআ দারুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়ায় ১৯৮৯ সালে শিক্ষাসচিব হিসাবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা। ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে দাওয়াহ ও ইসলামিক শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পান। অল্পদিনের ভেতরই তিনি একজন তুখোড় অধ্যাপক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য হবার পরও নিজের শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দেননি। এখনও তিনি প্রফেসর হিসেবে নিয়মিত ক্লাস নেন। পাশাপাশি নিজের নির্বাচনী এলাকার একেকটি মসজিদে একেক জুমা বারে জুমার নামাজের ইমামতি করেন।

আরবি ভাষা বিষয়ে উচ্চতর পড়াশোনার সুবাদে আরব বিশ্বের সঙ্গে তাঁর ভালো একটা যোগাযোগ ও সম্পর্ক আছে। আরব দেশগুলোর বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্তি সেই নব্বইয়ের দশক থেকেই। আমাদের আজকের সাক্ষাৎ আরব দেশের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্তি, আরব বিশ্বে বাংলাদেশকে উপস্থাপনের গল্প, আলেম হয়েও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়ানো ইত্যকার বিষয়ে আলাপ জমানোর জন্য।

অপেক্ষাটা বেশ দীর্ঘ সময়ই করতে হলো। রাত বারোটার দিকে পাওয়া গেল তাঁর সাক্ষাৎ। রাত গভীর হলেও আন্তরিক ও অমায়িক ভঙ্গিতে কথা বললেন আমাদের সঙ্গে। প্রথমেই জিজ্ঞেস করলাম, ‘একজন শিক্ষক আপনি, শিক্ষা এবং আরবি ভাষা ও সাহিত্যের সেবা করছিলেন, রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার কারণ কী?’

উত্তরে তিনি জানালেন, ‘জ্ঞান বিতরণের পাশাপাশি সমাজ সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা আমাদের আকাবিরে দেওবন্দ, নদওয়া ও তাবলিগি মুরব্বিদের একটা বিশেষ গুণ। পৈত্রিক সূত্রে এ গুণটা আমি পেয়ে এসেছি। আমার বাবা তাঁর নিজের গোলার ধান বিক্রি করে মাদরাসার শিক্ষকদের বেতন দিয়েছেন। রাজনীতি মানে সমাজের সেবা করা, প্রতারণা করা নয়। রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করা, ওয়াদা খেলাফ না করা, জনগণের জন্য কাজ করা, তাদের পাশে থাকা, তাদের সমস্যার সমাধান করা, জনকল্যাণমূলক কাজ করা ইত্যাদি বিষয় আছে। এবং এসব কাজ যথাযথভাবে করতে পারলে সমাজসেবায় অনন্য অবদান রাখা সম্ভব। বায়হাকির বর্ণনায় এক হাদিসে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি কারও অভাব পূরণ করবে, এবং উদ্দেশ্য থাকবে ওই ওই ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করা, প্রকৃতপক্ষে সে আমাকে সন্তুষ্ট করল। আর যে আমাকে সন্তুষ্ট করল, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করল। আর যে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করল, আল্লাহ তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন।” রাজনীতির যদি সঠিক ব্যাখ্যা করা হয় তাহলে রাজনীতি এবং সমাজসেবা একটা আরেকটার সঙ্গে অঙ্গা-অঙ্গিভাবে জড়িত; একরকম ইবাদতও বটে। এজন্যই মূলত আমার রাজনীতিতে আসা।’

কিন্তু আওয়ামী লীগের রাজনীতিকেই কেন বেছে নিলেন?

এর উত্তরে ড. আবু রেজা নদভী বলেন, ‘আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করি, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়, এটা আমাদেরই হাতে গড়া। আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আমার বিশেষ যোগাযোগ থাকার কারণে এ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণে প্রচুর অর্থকড়ি এসেছে আরব রাষ্ট্রগুলো থেকে। যে বিশাল ক্যাম্পাস গড়ে উঠেছে সেখানে, এসব আরব রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায়ই সম্ভব হয়েছে, এবং আলহামদুলিল্লাহ, আমার বিশেষ যোগাযোগ ও প্রচেষ্টা এখানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরিভাবে জামায়াতের লোকজন গ্রাস করে নেয়। আমাকে ট্রাস্টি বোর্ডসহ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদ থেকে বের করে দেয়। অবশ্যি নানা হীনচেষ্টার পরও অধ্যাপনা থেকে বাদ দিতে পারেনি। সে-সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সেমিনারে অংশগ্রহণের অজুহাতে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা এখানে সময়ে সময়ে আসতে থাকেন। আমি ছিলাম নির্যাতিত। কিছু বলতেও পারছিলাম না, সইতেও পারছিলাম না। জামায়াতের শীর্ষ নেতা গোলাম আজম, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী নানাভাবে চেষ্টা করছিলেন আমাকে জামায়াতের রোকন বানাতে। কিন্তু আমি সাফ জানিয়ে দিয়েছি, আমি একজন আলেম, আমাকে আল্লাহ তাআলা বিবেক-বুদ্ধি-জ্ঞান দিয়েছেন, আমি কী করব কী করব না, সেটা বোঝার ও সিদ্ধান্ত নেবার যথেষ্ট ক্ষমতা আমার আছে।

‘তারা যখন নানাভাবে আমাকে বুঝিয়ে বাগে আনতে পারল না, তখন আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। কারণ, চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার অবদান অনেক, এখানকার সবকিছু থেকে আমাকে বাদ দিলেও অধ্যাপনা থেকে তারা বাদ দিতে পারছিল না। আর অধ্যাপনার সুবাদে আমি এখানে যথেষ্ট প্রভাব খাটাবার ক্ষমতা রাখতাম। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে পুরোপুরিভাবে তারা গ্রাস করতে পারছিল না। আমার ওপর ক্ষিপ্ত হবার পর বেশ কয়েকবার তারা আমার ওপর আক্রমণ চালায়। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি এসব আক্রমণে প্রাণে বেঁচে যাই।

‘আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই স্বাধীন হয়েছিল আমাদের প্রিয় এই বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে আপামর জনতা নেমে এসেছিল বীরবিক্রমে। স্বাধীন করেছিল এই ভূমি। তাই আওয়ামী লীগের প্রতি আমার আলাদা একটা দুর্বলতা ছিল আগ থেকেই। কিন্তু আওয়ামী লীগকে ইসলামের বিরুদ্ধ-শক্তি হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করত জামায়াতে ইসলামী। আমি চিন্তা-গবেষণা করে দেখলাম, এটা জামায়াত ও বিএনপির রাজনৈতিক একটা চাল। তারা আওয়ামী লীগকে ইসলামের বিরুদ্ধ-শক্তি হিসেবে দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হীনভাবে চরিতার্থ করতে চাচ্ছিল। জামায়াত-বিএনপির তুলনায় আমি আওয়ামী লীগে ইসলাম-বিরোধিতার কিছুই পেলাম না। তাই রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত যখন গ্রহণ করি, দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেই বেছে নিই। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যখন আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলাম, তখনও জামায়াত-শিবির আমাকে হত্যার জন্য আক্রমণ চালিয়েছিল। আল্লাহর অশেষ দয়ায় সে যাত্রায়ও প্রাণে রক্ষা পাই।’

ড. আবু রেজা নদভীর সঙ্গে আরব বিশ্বের ভালো একটা সম্পর্ক আছে, ইতিমধ্যেই আমরা তা বলেছি। তিনি কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মুসলিম স্কলার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আন্তর্জাতিক ইসলামি সংস্থা রিয়াদের (কেএসএস) ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আরব ভিত্তিক বেশ কয়েকটা আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। শিক্ষা, উন্নয়ন ও গবেষণার কাজে আরবসহ বিশ্বের ৪৬টা দেশে নিয়মিত সফর করেন। সামাজিক ও শিক্ষা সংক্রান্ত স্বীকৃতির জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১০০টিরও অধিক স্বর্ণপদকে ভূষিত হয়েছেন।

নব্বইয়ের দশক থেকে তিনি নিয়মিত সফর করছেন আরব রাষ্ট্রগুলোতে। আরবের নেতৃবর্গের পাশাপাশি বড় বড় ওলামায়ে কেরামের সুহবতেও ধন্য হয়েছেন তিনি। সৌদি আরবের বিখ্যাত আলেম শায়েখ বিন বাজের সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। সৌদি সফরে গেলে বিন বাজের সান্নিধ্য গ্রহণ করতেন।

ড. আবু রেজা নদভী বলেন, ‘শায়েখ বিন বাজের কাছে গেলেই আমি ইলমি আলোচনা শুরু করতাম। বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে নিজের জানার পরিধিকে বিস্তৃত করতাম। চট্টগ্রামের দারুল মাআরিফের জন্য আর্থিক ও অন্যান্যভাবে নানা প্রকারের সহযোগিতা করেছেন। আমাকে খুব স্নেহ করতেন। ব্যক্তিগতভাবে আমার অনেক উপকার করে দিয়েছেন। সে-সময়ের সৌদি ধর্মমন্ত্রীর কাছে আমার বিষয়ে লেখা একটি চিঠিতে খুব প্রশংসা করেছেন তিনি। চিঠিটা আজও আছে আমার সংরক্ষণে।’

আরব বিশ্বে বাংলাদেশকে কীভাবে উপস্থাপন করেন জানতে চাইলে আলেম এ সাংসদ বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপি সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল, আরব বিশ্বের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক থাকার সুবাদে তারা সেখানে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে নানা রকমের অমূলক কুৎসা রটিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুকে ইসলামের বিপক্ষ-শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তাই আরবে একটা ভুল ধারণার প্রচলন ঘটেছিল বাংলাদেশ সম্পর্কে। আমার আরব সফরগুলোতে সে ভুল ধারণাগুলো ভাঙানোর চেষ্টা করি। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ধর্মীয় শিক্ষা ও ইসলামি অঙ্গনের বিকাশে নানামাত্রিক যে কাজগুলো করেছে এবং করে যাচ্ছে, সেগুলো উল্লেখ করে বাংলাদেশে ইসলামের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির কথা তুলে ধরি। এবং আশাতীত সাড়াও পাই।’

আরব বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার সুবাদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরব সফরে প্রায় নিয়মিতই সফরসঙ্গী হিসাবে থাকেন ড. আবু রেজা নদভী। ফলে বিদেশের এইসব সফরে প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে তাঁর। জিজ্ঞেস করেছিলাম সে সম্পর্কে—বিদেশ সফরে কীভাবে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রীকে?

উত্তরে ড. নদভী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত জীবনে নামাজি-কালামি ও ধর্মপরায়ণা হিসেবে জেনে এসেছিলাম অনেক আগ থেকেই। আরব সফরগুলোতে তাঁর সঙ্গে থেকে সেটা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করেছি।

‘তাঁর সঙ্গে কুয়েত সফরের একটা স্মৃতি বলি। কুয়েতে প্রচুর বাঙালি প্রবাসী থাকেন। প্রধানমন্ত্রী কুয়েতের সে-সফরে গিয়ে অভিযোগ পেলেন, বাঙালি প্রবাসীরা প্রচুর মাত্রায় সেখানে অনিয়ম করেন। তিনি খুব ব্যথিত হলেন শুনে। তারপর প্রবাসী বাঙালিদের আয়োজিত একটা অনুষ্ঠানে গেলেন। বাঙালিরা প্রধানমন্ত্রীর জন্য ফুলসহ বিভিন্ন উপহার সাজিয়ে রেখেছিল সেখানে। তিনি তাঁর বক্তৃতায় খুব মনঃক্ষুণ্নতা প্রকাশ করেন এবং নীতি-নৈতিকতার ওপর এত চমৎকার বক্তৃতা দেন যে, আমি বিস্মিত হয়ে যাই। প্রধানমন্ত্রী সেদিন বাঙালি প্রবাসীদের কোনো উপহার গ্রহণ করেননি, বলেছিলেন, আগামী বার কুয়েত সফরে এসে যদি শোনি আপনারা নীতি-নতিকতায় উন্নতি করছেন, অনিয়ম থেকে দূরে থাকছেন তখন এসব উপহার গ্রহণ করব। এখন নয়।

‘ওই সফরে কুয়েতের আমির প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগত যেসব উপহার দিতে চেয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তা বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, এসব উপহার আমার লাগবে না, যদি একান্তই কিছু দিতে চান, বাংলাদেশের নদী খননের জন্য ড্রেজারের ব্যবস্থা করে দিন। ওতে আমার জনগণ উপকৃত হবে।

‘প্রধানমন্ত্রীর এই যে অভিভাবকত্বসুলভ আচরণ এবং জনগণের জন্য এই যে তাঁর চিন্তা—বিদেশ সফরগুলোতে এগুলোই আমাকে আপ্লুত এবং অভিভূত করে।’

রাত তখন অনেক হয়ে গেছে। তাঁর বিশ্রামের প্রয়োজন, আমাদেরও ফিরবার তাড়া। আলাপচারিতায় ইতি টানতে হলো। তাঁর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা নেমে এলাম ন্যাম ভবনের লিফটে চড়ে। ঘড়ির কাঁটা তখন একটার ঘর পেরিয়ে গেছে। সংসদ এলাকার রাস্তায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও রিকশা পেলাম না। অগত্যা হাঁটতে শুরু করলাম ফার্মগেট মোড়ের দিকে। মোড় বেশি দূর না।

 

 

ঈদসংখ্যা, মে ২০১৯

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১