জীবনের কষ্টনীল খসড়া

সংখ্যা:

 

টেবিলের ওপর নির্বিকার ঝুলে থাকা ক্যালেন্ডারের রঙিন পাতার বিন্দু বিন্দু ঘরগুলো ঘুরে ঘুরে জীবনের ধূসর পৃষ্ঠা থেকে মুছে গেল একটি বছর―যেন-বা মৃত্যুর পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। প্রতীক্ষিত অনন্তকাল, মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া সময়―কত দ্রুত ফুরিয়ে যায়। আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না, নিভৃতে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির কোলাহল আর মুগ্ধতায় ভরপুর এইসব প্রহর―জীবনে আর ফিরবে না।

কোথাকার একটু ঘোমট কান্না কিংবা দুপুরের বাতাসে নিঃশব্দে মিশে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস―আরও কত কী ছিল এই দিনগুলোতে; তবু সারাটি বছর বুকের ভেতর গুমড়ে কেঁদেছে কেউ না থাকার করুণ হাহাকার। বিস্ময়ে দেখেছি, প্রাপ্তির বদলে অপ্রাপ্তির রেখাই চোখের তারায় দীপ্ত প্রতিক্ষণ। ফিরে ফিরে আসা কষ্ট-বাতাস, ভোরের নির্মল অশ্রুজলের মতো উড়িয়ে নেওয়া সুখ। স্বপ্ন, শূন্যতা বা পূর্ণতার একটি বছর। জীবনের ক্ষুদ্র একটি অংশ কত সহজে মিলিয়ে গেল শূন্যে। এভাবে, এমন করেই কি ফুরিয়ে যায় প্রেম? কেউ না-থাকার শূন্যতা, নিত্যকার ঘটনা-পরিক্রমা, সংঘাত, সংকল্প আর সীমাবদ্ধতার ভেতর দিয়ে নির্লিপ্ত এক দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে দেখেছি চারপাশ। অজানা ভয়, শঙ্কা আর বিষাদ-ঘেরা ছিল সময়। প্লাটফর্মের শেষ ট্রেন ছেড়ে যাবার পর আসা যাত্রির মতো বিহব্বল দাঁড়িয়ে থেকে বিপন্ন চোখে দেখি সূর্যাস্ত, রোদহীন বিকেলের মতো বিষণ্ন আকাশ, বিবর্ণ গোধূলি―সবই হারিয়ে গেল। সময় পেছনে ফিরে দেখে না কখনো। টিকটিক শব্দের নির্লিপ্ত আলোড়ন তুলে হেঁটে যায় অবিরাম।

বকুলের সৌরভমাখা স্নিগ্ধ ভোর, প্রজাপতি-ওড়া নিঝুম দুপুর, সন্ধা-উত্তীর্ণ রাত্রি; প্রেম-কাতর বিকেল, মাঝরাতে মাথায় কিলবিল করা কবিতার কোমল পঙক্তি আর সার্বক্ষণিক ভালোবাসায় আটকে থাকা তুমি―আমাদের দেখা হবে না অনেকদিন। ভালোবাসা নিয়ে ভালো থেকো!

স্বপ্ন, সম্ভাবনা আর অঙ্গীকারে ভরপুর আরও একটি বছর। আশা, হতাশা আর নতুন পরিকল্পনার আগামী। ভালোলাগা, ভালো-থাকা আর ভালো-রাখার মধ্যে দিয়ে কেটে যাক বেঁচে থাকার দিনগুলো। এই-ই, আর কোনো চাওয়া নেই আমার, জীবনের কাছে। ভালো থেকো, জীবন।

 

জামিয়া ফরিদাবাদ, ঢাকা’র শিক্ষার্থী

জানুয়ারি 2019

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১