সৌদি যুবরাজ ও তাঁর অপরাধ-চিত্র

সংখ্যা:

 

মুহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। গণমাধ্যমের ভাষায় সংক্ষেপে যাঁকে ‘এমবিএস’ বলে ডাকা হয়। সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ-বাদশাহ—ক্রাউন প্রিন্স হবার পাশাপাশি একই সঙ্গে তিনি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও উপপ্রধানমন্ত্রী। এ তো কেবল তাঁর অফিসিয়াল পরিচয়—এর বাইরে বলতে গেলে সৌদি আরবের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তিনিই। অথচ বছর কয়েক আগেও বহির্বিশ্বের মানুষজনের খুব একটা জানাশোনা ছিল না তাঁর ব্যাপারে। তখন অবশ্যি এতটা ক্ষমতার অধিকারীও ছিলেন না তিনি।

২০১৫ সালের আগে তাঁর বাবা সালমান বিন আবদুল আজিজ ছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে তখনকার বাদশাহ—আবদুল আজিজের আরেক ছেলে—আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ মৃত্যুবরণ করলে সৌদির সিংহাসনে বসেন বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ। বাদশাহ সালমান ক্ষমতাগ্রহণের পর থেকেই মুহাম্মদ বিন সালমান খুব দ্রুত ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।

মুহাম্মদ বিন সালমানের জন্ম ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ আগস্ট। বর্তমান বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের তৃতীয় স্ত্রীর প্রথম সন্তান তিনি। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করার পর রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হন। ২০০৯ সালে বাবা সালমান বিন আবদুল আজিজের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। সালমান তখন রিয়াদের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১৩ সালে বাগিয়ে নেন দেশটির মন্ত্রী পদমর্যাদার গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। বাবার বিশেষ উপদেষ্টা পদে নিয়োগপ্রাপ্তির পর বাবাকে তিনি খুব দ্রুত নিজের কর্মকাণ্ডের ওপর বিশ্বস্ত ও আস্থাশীল করে তোলেন। ফলশ্রুতিতে ২০১৫ সালে যখন ৭৯ বছর বয়সি বৃদ্ধ সালমান সিংহাসনে বসেন, তৎক্ষণাত তিনি বাবার কাছ থেকে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রতিরক্ষা মন্ত্রিত্বের পদ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হন। এর মাস কয়েক পর ২০১৫-এর এপ্রিলে সালমান তাঁকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্সের মর্যাদায় ভূষিত করেন। ক্রাউন প্রিন্স ছিলেন তখন সালমানের ভাতিজা মুহাম্মদ বিন নায়েফ।

অল্প কিছুদিনের ভেতর বাদশাহ সালমান বিশ্বস্ত পুত্রকে আরও দায়িত্ব দেন। মুহাম্মদ বিন সালমান একই সঙ্গে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান পদমর্যাদা লাভ করেন। এসব দায়িত্বের কল্যাণে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থাকে খুব দ্রুত নিজের আয়ত্বাধীন করে ফেলেন বিন সালমান। ২০১৭-এর জুনে এসে ভোজবাজির মতো ঘটে গেল তাঁর সর্বোচ্চ পদোন্নতি। বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের বিশেষ আদেশে ক্রাউন প্রিন্স মুহাম্মদ বিন নায়েফকে হটিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ-বাদশাহি নিশ্চিত করে নেন তিনি।

মুহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসার পর থেকে ধর্মীয় ঐতিহ্য মণ্ডিত সৌদি সমাজে নানা ধরনের বিকৃতি ঘটানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। ইতিমধ্যে অনেকগুলো বাস্তবায়নও করেছেন। দেশের অভ্যন্তরে যারাই তাঁর এ কাজের বিরোধিতা করেছে, তাদের ওপর নেমে এসেছে নির্যাতনের খড়গ। পাশাপাশি ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রের সঙ্গে অবরোধ আরোপের মাধ্যমে বিরোধ বাঁধিয়েছেন। এবং ইসলাম ও মুসলিম স্বার্থের বিরোধী দেশগুলোর সঙ্গে বাড়িয়েছেন সৌদি আরবের ঘনিষ্টতা। তাঁর নানাবিধ এসব কর্মকাণ্ডের সামান্য ফিরিস্তি নিম্নে তুলে ধরা হলো।

 

ধর্মীয় মূল্যবোধ বিবর্জিত কর্মকাণ্ডের বিস্তার এবং বিরোধিতাকারীদের গ্রেপ্তার

সৌদি আরব হারামাইন শরিফাইনের দেশ। মুসলিম বিশ্বের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দুই নগরী এ দেশেই অবস্থিত। এখানকার আচার-সংস্কৃতি তাই অনেকটাই ইসলাম-বান্ধব। ইসলাম-বান্ধব এ সমাজটাকে ধর্মীয় রক্ষণশীলতার তকমা দিয়ে এখানকার সুন্দর অনাবিল পরিবেশটাকে দূষণীয় করার উদ্যোগ নেন মুহাম্মদ বিন সালমান। দেশটিতে প্রকাশ্যে সিনেমা দেখার কোনো ব্যবস্থা ছিল না, সালমান সিনেমা হল তৈরির মাধ্যমে পাপ কাজের এ পথকে সুগম করে দিয়েছেন। নারী-স্বাধীনতার নাম করে পর্দাপ্রথাকে করেছেন শিথিল। এবং আরও নানা রকম শরিয়াহ-বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিস্তার ঘটিয়েছেন, যা সৌদি সমাজ কল্পনাও করেনি কখনও।

তাঁর এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামান্যতম প্রতিবাদ করারও সুযোগটুকু নেই। ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব যারাই প্রতিবাদ করতে গেছেন, তাদেরকেই বরণ করতে হয়েছে বন্দিত্ব। কাবা শরিফের অন্যতম ইমাম শায়খ সালেহ আল তালিবের কথাই ধরা যাক। মুহাম্মদ বিন সালমানের শরিয়াহ-বিরোধী এসব কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে গত বছরের আগস্টে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। ব্যস, আর যায় কোথায়! সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেপ্তার। সৌদি কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কীভাবে কাটছে তাঁর জীবন, কেউ জানে না। আলেমদের ওপর এ নিপীড়ন অবশ্যি নতুন নয়। অতীতে আরও অনেক অমিততেজা আলেম সৌদি রাজপরিবারের শরিয়াহ-বিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এভাবে বন্দি হয়েছেন। বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড নিয়ে তাঁদের জীবন কাটছে কারাগারের ভেতর।

 

ইয়েমেনে ধ্বংসযজ্ঞ

২০১৫ সালে প্রতিবেশি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে মুহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। দেশটির হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো মুক্ত করার প্রত্যয়ে বিমান হামলা শুরু করে। লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টায় মার্কিন সহায়তায় সৌদি-আরব আমিরাত জোট এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে ১৬ হাজারের বেশি বার বিমান হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক, হাসপাতাল, স্কুল ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে নির্বিচারে বোমা হামলা চালানোর অভিযোগ এনেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

দীর্ঘদিনের এই বিমান হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হোদেইদাহ বন্দর অবরোধ করে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের অস্ত্রের মূল জোগান এই বন্দর হয়ে ইয়েমেনে প্রবেশ করত। কিন্তু সৌদি জোট হোদেইদাহ বন্দর অবরোধ করায় দেশটিতে জরুরি মানবিক ত্রাণ সহায়তাও পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ। এদের মধ্যে অনেকের প্রাণ গেছে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে। লাখ লাখ মানুষ হয়েছেন বাস্তুচ্যুত।

 

লেবাননের প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য

নিয়মিত সফরের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে গিয়ে চাঞ্চল্যকর বন্দীদশার মুখোমুখি হয়েছিলেন ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি। ২০১৭ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তাঁর ফোন জব্দ করা হয়। পরদিন সৌদি আরবের সরকারি একটি টেলিভিশনে তিনি ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন।

সেই সময় ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সৌদিতে পৌঁছানোর পরদিন বাদশাহ সালমান ও যুবরাজের সঙ্গে দেখা করার জন্য হারিরিকে তলব করা হয়। দেখা করার পর তিনি টেলিভিশনে আকস্মিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠ করেন।

সার্বভৌম একটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর লেবাননে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সার্বভৌমত্ব ছিনতাইয়ের অভিযোগ আনে লেবানন। প্রধানমন্ত্রী হারিরির পদত্যাগ প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে মুক্তি দিতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানান লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল আওন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়।

লেবাননকে অস্থিতিশীল করে তোলার জন্য ইরান সমর্থিত হেজবুল্লাহকে দায়ী করে প্রায় দুই সপ্তাহ সৌদি আরবে অবস্থান করেন হারিরি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর মধ্যস্থতায় বৈরুতে ফিরে ৪৭ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নেন।

হারিরিকে জোরপূর্বক পদত্যাগ ও আটকে রাখার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেও সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানকে দৃষ্টিকটু এই নাটকের মূলহোতা হিসেবে দেখা হয়।

 

রিটজ-কার্ল্টন শুদ্ধি অভিযান

যুবরাজ ক্ষমতায় আসার পর তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা হয়েছেন চরম নিগ্রহের শিকার। ২০১৭ সালে দেশটির কয়েকশ’ ধনী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে নিরাপত্তাবাহিনী। সৌদির দুর্নীতিগ্রস্ত উচ্চপদস্থ আমলাদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালানোর নাম করে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের কয়েক সপ্তাহ ধরে রিয়াদের বিলাসবহুল রিটজ-কার্ল্টন হোটেলে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় এদের অনেকের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে। মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিলাসবহুল এই হোটেলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার অন্তত ১৭ জনকে পরে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে একজন বন্দী অবস্থায় মারা যান।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুবরাজ তাঁর জন্য সম্ভাব্য রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে চিহ্নিতদের সরিয়ে দিতেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছেন।

 

উপসাগরীয় সঙ্কটের নেপথ্য নায়ক

২০১৭ সালের ৫ জুন প্রতিবেশি কাতারের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন চারটি দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং উপসাগরীয় এই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করে। কাতারের সঙ্গে স্থলসীমান্ত বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব। শুধুমাত্র আকাশ ও সমুদ্র পথ অবরোধের বাইরে রাখা হয়।

কাতারের সঙ্গে সৃষ্ট কূটনৈতিক সঙ্কটের নেপথ্য নায়ক হিসেবে কাজ করেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ও আরব আমিরাতের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান (এমবিজেড)। কাতারকে একঘরে করে রেখে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদকে বিভক্ত করা ছাড়া তেমন কোনো অর্জন নেই তাঁদের ঝুলিতে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্টারসেপ্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবরোধ আরোপের উদ্দেশ্য ছিল কাতারে সৌদি এবং আমিরাতের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা। আরব আমিরাতের সেনাবাহিনীর সহায়তায় সৌদি সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বে স্থলসীমান্ত পাড়ি দিয়ে কাতারে ঢুকে ১০০ কিলোমিটার দূরের রাজধানী দোহার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সৌদি জোটের মূল উদ্দেশ্য।

অবরোধ আরোপের পর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন সৌদি ও আমিরাতের দুই যুবরাজ। মার্কিন গোয়েন্দাবাহিনী ও পররাষ্ট্র দফতরের সাবেক দুই কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছিল ইন্টারসেপ্ট। কিন্তু তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের চাপে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এমবিএস। সেই সময় কাতারে আক্রমণ চালানো হলে তা সৌদি-মার্কিন সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে উদ্বেগে ছিলেন টিলারসন।

 

বেড়েছে শিরশ্ছেদ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও রিপ্রাইভ নামের একটি সংস্থা।

রিপ্রাইভ বলছে, মুহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার প্রথম আট মাসে ১৩৩ জনের শিরশ্ছেদ করা হয় সৌদিতে। তিনি ক্ষমতায় আসার পর প্রত্যেক মাসে গড়ে ১৬ জনের শিরশ্ছেদ করা হয়। এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে চলতি বছরে শিরশ্ছেদের অতীত সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে সৌদি আরব।

 

জামাল খাশোগজির অন্তর্ধান

এমবিএসের সাবেক স্ত্রীকে তালাকের একটি নথি সংগ্রহের জন্য গত ২ অক্টোবর সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগজি ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করেন। তার পর থেকে আর তাঁকে দেখা যায়নি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় হিট স্কোয়াডের সদস্যরা এই সাংবাদিককে কনস্যুলেট ভবনে হত্যা করেছে বলে ধারণা তুরস্কের। প্রথমে অস্বীকার, তারপর নানা নাটকীয়তার পর সৌদি আরব হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে বলে, বিশেষ জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুর্ঘটনাক্রমে খাশোগজি নিহত হয়েছেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন  মুহাম্মদ বিন সালমান।

একসময় সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছিলেন খাশোগজি। কিন্তু যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার কর্মসূচির সমালোচনা করায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। গত বছরের মার্চে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাশোগজি বলেছিলেন, ‘আমরা আজ কথা বলতে পারলেও সৌদি সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা কারাবন্দী অবস্থায় রয়েছেন।’

 

ইন্টারনেট অবলম্বনে লিখেছেন হামমাদ রাগিব

জানুয়ারি ২০১৯

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১