ভাবের পর্দায় ভালোবাসার কথামালা

সংখ্যা:

এক

জীবনটা এমনই সুখ-দুঃখে গড়া। কখনো বসন্ত, কখনো বাহার। কখনো আনন্দ, কখনো আহ্লাদ। কখনো যাতনা, কখনো বিষাদ। কখনো আনন্দের অশ্রুঝরা, কখনো দুঃখের, বিষণ্নতার। কখনো মুচকি হাসির আভা, কখনো গুমরে কাঁদার ব্যথা।

-বস্তুত আত্মার প্রশান্তি কেবল খোদাভীরুদের জন্য।

 

দুই

কারও জন্য হৃদয়ের গভীরে ভালোবাসা লালন করা—পবিত্র ভালাবাসা—সত্যিই আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত মহা নেয়ামত। সবচেয়ে বড় কথা, ভালোবাসার সম্পর্কে একনিষ্ঠতা থাকা আবশ্যক। একনিষ্ঠতা ছাড়া সবকিছুই তো ফিকে! আর পবিত্র বন্ধনের কথা তো বলাই বাহুল্য।

-আল্লাহ আমাদের নিয়তের পরিশুদ্ধি দান করুন। দান করুন একনিষ্ঠতা। আমিন।

 

তিন

সম্পর্ক ভাঙার জন্য নয়, মজবুত করার জন্য; নিজেকে প্রিয়জনের কাছে সমর্পণ করার জন্য। আমার প্রিয়জন কেউ আছে, আমাকে ভালোবাসার মতো কেউ আছে—এ কথা ভেবে মানসিকভাবে প্রফুল্ল থাকার জন্য।

 

চার

আচ্ছা, মানুষ প্রিয়জনের বুকের ধুকপুকানি ও হৃদয়ের আওয়াজ কখন শুনতে পায়? যখন পর¯পর খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে যায় তখন? যখন পরপর ভালোবাসার বাহুডোর আবদ্ধ হয়ে যায় তখন? যখন  একে অপরের সাময়িক বিরহও বরদাশত করতে পারে না তখন? ভালোবাসার কোন স্তরে উন্নীত হলে প্রিয়জন তার প্রিয়তমের আত্মার আকুতি ও হৃদয়ের মিনতি হৃদয়ের কানে শুনতে পায়?

-পৃথিবীর সকল পবিত্র ভালোবাসা চিরস্থায়ী হোক।

 

পাঁচ

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা।

মুমিনের সব ধরনের ভালোবাসা কেবল আল্লাহর জন্য। নিয়ত থাকবে তাঁর সন্তুষ্টি আর আরশের ছায়ার হাতছানি। আল্লাহর জন্য যারা একে-অপরকে ভালাবাসে তাদের ভালোবাসায় থাকে না কোনো আবিলতার কায়া। থাকে কেবল পবিত্রতা ও নির্মলতার ছায়া।

নিজের ভালোবাসাকে আল্লাহর জন্য করা, অন্যকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসা—স্বার্থের মোহ ছাড়া, প্রবৃত্তি তাড়িত না হয়ে, এ তো কেবল আল্লাহরই দান। তাঁর অনুগ্রহ ছাড়া এ ভালোবাসা অর্জন অসম্ভব।

এমন ভালোবাসার নিদর্শন হচ্ছে, একে অপরের সার্বিক কল্যাণ কামনা করা—অনাগত বিপদে একজন অপরজনকে সহায়তা করা। আরেকটা নিদর্শন, একে অপরের প্রতি অমোঘ টান রাখা। সৎকাজের আদেশ আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধে সংকাচ বোধ না করা।

 

ছয়

কাউকে যদি খুব বেশি ভালোবাসতে পারেন, তবে কৃতজ্ঞতা আদায় করুন আল্লাহ তাআলার! কারণ পবিত্র ভালোবাসার ক্ষেত্রে কারও অন্তরই নিজের আয়ত্তাধীন থাকে না। কেউ স্বেছায় কারও জন্য ভালোবাসার ফল্গুধারা বইয়ে দিতে পারে না! এ তো আল্লাহ তাআলার নিতান্ত অনুগ্রহ। ‘আর নিশ্চয় তিনি যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন, যাকে ইচ্ছা বঞ্চিত করেন।’

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১