প্রিয় শিক্ষক-এর স্মৃতিতে

সংখ্যা:

 

তিন বছর যাবৎ স্যার এর অনেক কথাই শুনছিলাম আর বেশ কয়েকটা ক্লাস করার সুযোগও জুটে যায় কপালে। ক্লাস করতাম আর অবাক হয়ে ভাবতাম, নাহ্! কথাগুলো মোটেও মিথ্যা ছিলো না। বরং একটু কমই বলেছিলো ওরা। সেই থেকে অপেক্ষার শুরু। অপেক্ষা শুরু কোচিং এর,অপেক্ষা শুরু বৃহস্পতিবারের, অপেক্ষা শুরু ইংরেজি ক্লাস এর সেই সাথে স্যারের একটু সান্নিধ্যের….।

দীর্ঘ ৩ বছর পর অবশেষে সেই বিশেষ দিনটি এসেছিলো।এখনও বেশ মনে আছে দিনটির কথা। ০২-০১-২০১৪ ছিলো তারিখটি। এই বিশেষ দিনটিতেই স্যারের ব্যাক্তিগত ছাত্রীর খাতায় উঠেছিলো আমার নামটি।স্যারের স্টুডেন্ট হিসেবে অভিঙ্গতাটি অনামিক।সেইদিন থেকে আজ পর্যন্ত এতোগুলো বছর অনেকটা গর্ব নিয়েই বলে আসছি “আমিও তাপস স্যার এর ছাত্রী”। আমার স্যার এর নাম “সুমন মোহন্ত তাপস”।”তাপস স্যার” নামেই তিনি সুপরিচিত।

সেইদিনগুলোর­ কথা মনে পড়লে সত্যিই একটা অনুভূতি কাজ করে যা একদম ই অন্যরকম আর অনেকটা বিশেষ।অনেকটা ক্লান্তি নিয়ে আমরা সবাই যখন স্যারের কাছে যেতাম তখন তিনি মিষ্টি একটা হাসির সাথে যেভাবে আমাদের স্বাগত করতেন সেটি সারাদিনের ক্লান্তি মেটানোর জন্য যথেষ্ট। যেমন তার text books পড়ানোর method ছিলো অনবদ্য তেমনিভাবেই জীবন এর শিক্ষাটাও দিয়েছিলেন খুব সহজভাবেই। স্যারকে আমি কখনওই উদাসীন দেখিনি। স্যার সব সময়ই খবই সন্তুষ্ট ছিলেন আর আমাদেরও তাই শিখিয়েছিলেন।তাইতো স্যার নিজেকে সুখী মানুষ হিসেবে দাবি করতে পেরেছিলেন।

স্যার এর কাছ থেকেই শিখেছিলাম কিভাবে নিজের যা কিছু আছে তা নিয়ে ভালো থাকা যায়। ব্যর্থতা আর হতাশায় জীবনের অর্থ যখন হারিয়েই ফেলেছিলাম তখন স্যারের কথাগুলোর প্রেরণার জোরেই খারাপ সময়টাকে কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।আজ আমিও সুখী মানুষ। সারা পৃথিবীতে এমন অনেক টিচারই খুঁজে পাওয়া যাবে যারা তাদের কোনো না কোনো স্টুডেন্ট এর কাছে তার প্রিয় শিক্ষক। কিন্তু আমাদের “তাপস স্যার”ই নিঃসন্ধে একমাত্র স্যার যিনি তার সকল স্টুডেন্টস এর কাছেই তাদের “প্রিয় শিক্ষক এবং ব্যাক্তি”। স্যার তার সব স্টুডেন্টস এর কাছেই সর্বগুণ সম্পূন্ন একটা ব্যাক্তিত্ব।আর এই ব্যাক্তিত্ব সবাইকে ভাবায় “একটা মানুষ কিভাবে এতোটা ভালো হতে পারে”।স্যারের সাথে সাথে তার পুরো পরিবারই যেনো আর্দশ যা বিশ্বে বিরল।স্যার তার সব স্টুডেন্টসদেরই সমানভাবে ভালবাসে।কিন্তু আমি কেনো জানি ঈর্ষান্বিত বোধ করি।মনে হয় স্যার সবাইকেই ভালবাসুক কিন্তু আমাকে একটু বেশি ভালোবাসুক। হা…হা…­হা…। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রর্থনা করি যেনো স্যার ও স্যারের পুরো পরিবার সারাজীবন ভালো থাকে এবং আমার মতো শত শত শিক্ষার্থীর “অনুপ্রেরণার” মাধ্যমে অমর হয়ে থাকে।স্যার জানেই যে আমি তাকে কতোটা সন্মান করি আর ভালবাসি কিন্তু কখনওই বলা হয়ে ওঠেনি।

 

বানাইল, শিবগঞ্জ, বগুড়া।

ফোন : ০১৭৬০৬৮৩৭২২

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১