মানুষ দুঃখ কেন পায়? মানুষ মূলত দুঃখ পায় অপ্রাপ্তির জন্য, তার চাওয়া পূরণ না হবার কারণে। একজন মানুষ টাকা-পয়সার কামনা করে পেলো না, সে দুঃখ পাবে। কেউ ভালোবাসা চেয়ে পেলো না, তার দুঃখ লাগবে। কেউ সন্তান কামনা করে পেলো না, তার দুঃখ হবে। আবার একজন মানুষের কাছে আমরা যেটা কামনা করি, তার থেকে কাক্সিক্ষত বিষয় না পেয়ে অনাকাক্সিক্ষত বিষয়ের সামনাসামনি হলেও আমরা দুঃখিত হই-তোমার কাছ থেকে এটা আশা করিনি। যে ঘটনা ঘটার কথা নয়, যে ঘটনা আমরা চাই না-ঘটুক, এমন ঘটনার সম্মুখীন হলে আমরা দুঃখিত হই।
এই যে আশা করা, কামনা করা, মনেপ্রাণে কোনো কিছু চাওয়া-এসবের অপ্রাপ্তিই মানুষের মনে দুঃখ ফেনিয়ে তোলে। এ অপ্রাপ্তি কখনো কান্না হয়ে প্রকাশ হয়, কখনো ক্ষোভ-জিঘাংসা, হতাশা, অবিশ্বাস হয়ে প্রকাশ পায়। সব মানুষের প্রকাশভঙ্গি যেমন এক নয়, সকলের সহ্যক্ষমতাও সমান নয়। আমরা কাঁদি, হৃদয় দুমড়ে মুচড়ে যায়, মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি, অপ্রকৃতস্থ আচরণ করি, ভেতরে ভেতরে ক্ষয়ে যাই। মানুষের মানসিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রকাশ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। সহ্যের সীমার বাইরে গেলে অনেকে আত্মহননের পথও বেছে নেয়। সকলের মানসিক দৃঢ়তা যেমন এক নয়, তেমনি সবার দুঃখ প্রকাশ করার কায়দা-কানুনও একরকম নয়। এ কারণেই আমরা একই দুঃখের নানাধর্মী প্রকাশভঙ্গি দেখতে পাই। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে।
কিন্তু আমরা কি আমাদের দুঃখের বোঝাকে খানিকটা লাঘব করতে পারি না? আমি আসলে বলতে চাচ্ছি, আমরা কি আমাদের দুঃখের লাগামটা নিজেদের হাতে নিতে পারি না? যখন দুঃখ আসবে, আমরা সহজেই সে দুঃখের ভারটা লাগাম টেনে নিজেদের ইচ্ছেমতো কমিয়ে ফেলতে পারি কি-না, এটাই হলো কাজের কথা।
তো, বিষয়টা কিন্তু খুবই সিম্পল। যদি সত্যিকারার্থে দুঃখকে ওভারকাম করার সদিচ্ছা আমাদের থাকে। মানে, দুঃখকে ওভারকাম করে সুখী হওয়ার ফর্মুলাটা একেবারেই সহজ। কীভাবে? সুখী হতে হলে আপনাকে প্রাপ্তির তালিকাটা ছেঁটে ফেলতে হবে। অনেক অর্থ কামানোর স্বপ্ন, সুন্দর একটা বাড়ি, বাড়িতে সুন্দরী বউ এবং গোটা কয়েক বাচ্চা, ঘরভর্তি সাজানো দামি আসবাব, সমাজে সুখ্যাতি, ব্যাংকে জমানো ব্যালেন্স, দেখতে সুন্দর/সুন্দরী হ্যান্ডসাম হওয়া…! এই যে আমাদের কামনার দীর্ঘ তালিকা, এই তালিকাই আমাদের সকল কষ্টের মূল। আমাদের অনিঃশেষ চাওয়ার যে ব্যাপ্তি, এই ব্যাপ্তিই দিনশেষে আমাদের মনের মধ্যে নানাধর্মী দুঃখ গুঁজে দেয়।
এখন আপনাকে যা করতে হবে, এই তালিকাটা মনের এমন একটা ফোল্ডারে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে যেটা সাধারণত আপনার নজরে কখনো পড়বে না। আপনার স্বপ্ন থাকবে ঠিকই, তবে সেটা আপনার বাস্তবতাকে কখনো ওভারকাম করবে না। অনেক বড় হওয়ার মানসিক স্ট্রেংথ অবশ্যই রাখবেন, কিন্তু সেটার অপ্রাপ্তি যেন আপনাকে দুমড়ে মুচড়ে না ফেলে-সে ব্যাপারে শুরুতেই একটা প্রতিচিন্তা মনের মধ্যে প্রস্তুত করে রাখুন। অর্থ-খ্যাতি-অভীপ্সা থাকতেই পারে, কিন্তু সেটাকেই জীবনের একমাত্র ধ্যান-জ্ঞান করার প্রহসন থেকে সরে আসতে হবে।
এই পৃথিবীতে যার চাওয়ার তালিকা যত ছোট, যত নগণ্য; তার সুখী হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। দিনশেষে একটু সুখনিদ্রা কে না চায়? কিন্তু মনের ভেতরে একগাদা অপ্রাপ্তি নিয়ে কি আপনি সুখে ঘুমোতে পারবেন? আপনার চাওয়ার তালিকাটা যদি ছোট হতো-ছোট্ট একটা ঘর, স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা নিয়ে তিনবেলা ডাল-ভাত খাওয়ার সামান্য আয়োজন, ছোট একটা চাকরি কিংবা ছোট একটা ব্যবসা, চলে যাবে দিন। দেখবেন, কী সুখেই না আপনি ঘুমোতে পারছেন! আটপৌড়ে জীবন দেখে লোকে হয়তো খাটো চোখে দেখবে, বাড়িতে ছাদওয়ালা বাড়ি না থাকায় বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনরা আহা উহু করবে; কিন্তু সত্যিকারের সুখটা তো আপনি যাপন করছেন। এ সুখের নাগাল তারা পাবে কোত্থেকে?
০২
এখানে ইসলামের সন্নিবেশটা চমৎকার। ইসলাম বলছে, তোমার এ নশ্বর পৃথিবী নাথিং। অঢেল ধন-সম্পদ, প্রেম-ভালোবাসা, সন্তান-সন্ততি সবকিছু একদিন তোমাকে ছেড়ে যেতে হবে। পরকালে তোমার ধন-সম্পদ নয়, কাউন্ট করা হবে তোমার সৎকর্ম। সুন্দর চেহারা আর লেবাস-পোশাক নয়, পরখ করা হবে তোমার চারিত্রিক সৌকর্য। হাজারো জনের স্তুতি কোনো কাজের কাজ নয়, আত্মিক পরিশুদ্ধতাই হবে তোমার পারলৌকিক প্রধান পরিচয়।
পরকালীন জীবনের সঙ্গে ইহকালীন জীবনকে সন্নিবেশিত করার এই প্রাণান্ত প্রয়াসই ইসলামের মূলমন্ত্র। এ কারণেই ইসলামের আবেদন কখনো ফুরিয়ে যাবার নয়। ইসলাম বস্তু নয়, জয়গান গেয়েছে মানুষের স্পিরিচুয়াল পিউরিটির। যে মানুষ যত বেশি আত্মিক বলে বলীয়ান, দুঃখকে ওভারকাম করার শক্তি তার তত বেশি। সে নিজের দুঃখকে তত বেশি লাগাম টেনে ধরার ক্ষমতা রাখে। পরকালে আল্লাহর সামনে ফেস টু ফেস হওয়ার আকাক্সক্ষা যার মনে সঞ্জীবিত হবে, তার কাছে স্বাভাবিকভাবেই দুনিয়ার সকল কামনা-বাসনা, চাওয়া-পাওয়া তুচ্ছজ্ঞান হতে বাধ্য।
বস্তু মুহূর্তে মুহূর্তে তার চরিত্র পাল্টায়। বস্তুর প্রতি আমাদের কামনাও দিনকে দিন পাল্টে যায়। আজ আপনার দামি মোবাইল প্রয়োজন, কাল হয়তো মনের মধ্যে সুন্দরী নারীর কামনা আসতে পারে, পরশু হয়তো সুন্দর একটা বাড়ির প্রতি থাকবে আপনার দুর্মম বাসনা। মনের মধ্যে বাসা বাঁধতে পারে বেশ ভালো মাইনের একটা চাকরিরও। বস্তুর প্রতি আকাঙ্ক্খা প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তনশীল এবং সেটা সর্বদা ক্রমবর্ধমান। কিন্তু এই কামনা যদি বস্তুর প্রতি না হয়ে অবিনশ্বরতার প্রতি হয়, যা কখনো পরিবর্তন হবে না, পরিবর্ধন হবে না; তাহলে কিন্তু আমাদের মনের চাওয়া-পাওয়ার হিসাবও কখনো দ্বিচারিতার আশ্রয় নেবে না। একই আকাক্সক্ষা স্থির থাকবে আমাদের মনে এবং সেই আকাক্সক্ষাকে পরিপুষ্ট করাই হবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। এভাবে যদি চিন্তা করতে পারি তাহলে সহজেই আমরা পার্থিব বিভূতির চেয়ে অবিনশ্বরতার পথে দৃঢ়তার সঙ্গে আগুয়ান হতে পারি।
আমাদের রাসুল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম বারবার বলে গেছেন-দরিদ্র হও, দারিদ্রে বাঁচো, ভালোবাসো দরিদ্রজনকে, এতিমের মাথায় হাত বুলাও, মিসকিনকে একপেট খাবার দাও, সর্বস্ব বিলিয়ে দাও মানুষের কল্যাণে। এটাই হলো স্পিরিট অব লাইফ। যদিও আমরা লাইফের স্পিরিট বলতেই বুঝি মৌজ-মাস্তি, খাওয়া-দাওয়া, হাততালি-জিন্দাবাদ। পার্থিব কোনো কামনা যখন আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যকে প্রভাবিত করতে পারবে না, পার্থিব চাওয়া-পাওয়া যখন আমাদের পরকালীন চিন্তাকে দূষিত করতে পারবে না, তখনই আমরা নিজেদের ভেতর সত্যিকারের সুখের অতল-অন্ত স্পর্শ করতে পারবো। পার্থিব অপ্রাপ্তিজনিত দুঃখ তখন আমাদের তেমন একটা কাতর করতে পারবে না। কেননা আমরা তো অবিনশ্বরের যাত্রী, পারলৌকিক অবিনশ্বরের সুখ-দুঃখই আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য; সেখানে পার্থিব দুঃখ আমাদের জন্য তেমন কোনো বেদনার অর্থ বহন করে না।
এখানেই পুঁজিবাদ এবং বস্তুবাদকে ইসলাম এক ঝটকায় পায়ের তলে ছুড়ে মেরেছে। বর্তমান বস্তুসভ্যতা বলছে-টাকা কামাও, নাম কামাও, খ্যাতি অর্জন করো, সমাজের সেলিব্রেটি হও। সুন্দরী নারী আর তেলতেলে গাড়ি-বাড়ি ছাড়া তুমি ফেল্টুস! দামি মোবাইল-গেজেট না থাকলে তুমি কিসের মডার্ন? হাল-ফ্যাশনের ব্র্যান্ডেড জামা-জুতো না পরতে পারলে তুমি কিসের আধুনিক? লাখ টাকার আসবাবসজ্জা না থাকলে এ সমাজে তোমার কিসের দাম? ফেসবুকে তোমার লাখখানেক ফলোয়ার না থাকলে তো তুমি গোনার মধ্যেই নেই!
এই যে বস্তুর প্রতি আমাদের তীব্র আকর্ষণ তৈরি করছে বর্তমান সভ্যতা, আত্মিক প্রশান্তির জায়গায় আমরা বস্তুর মাঝে খুঁজে ফিরছি সুখের মৌলকণা, স্পিরিচুয়াল জার্নির বদলে আমরা হুল্লোড়ে মাতছি ক্ষণিক ভোগের অতলে-এসব আমাদের দুঃখকে দিনকে দিন উর্বরই করছে মাত্র। সত্যিকারের সুখের নাগাল আমরা কখনোই পাই না।
বস্তুর মাঝে কি স্পিরিচুয়াল সক্ষমতা রয়েছে? বস্তু কি সত্যিকারার্থে মানুষকে সুখী করতে পারে? যে মানুষের প্রতিটি শ্বাস প্রশ্বাস অলৌকিকভাবে স্পন্দিত হচ্ছে, সে কীভাবে বস্তুর মাঝে সুখ খুঁজে পেতে পারে? যে পৃথিবীর পুরোটাই স্পিরিচুয়াল অবজেক্টে ভরপুর, সে পৃথিবীতে বস্তুসভ্যতা কীভাবে সুখের সামিয়ানা টাঙাতে পারে? উন্নত জীবনব্যবস্থা আমাদেরকে অন্তঃসারশূন্য এক সুখের দিকে আহ্বান করে বটে, কিন্তু কান পাতলেই শুনতে পাবেন কী প্রবল হাহাকার গুমরে কাঁদছে উন্নত বিশ্বের প্রতিটি মানুষের হৃদ মাঝারে। খোঁজ নিলে দেখবেন, আত্মহত্যার প্রবণতা দরিদ্র দেশে নয়, মহামারীর আকারে ছড়িয়ে পড়ছে উন্নত বিশ্বে। দরিদ্র দেশের মানুষ আত্মহত্যা করে ক্ষুধার তাড়নায়, শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে, ধর্ষিতা অপমান লুকাতে; কিন্তু উন্নত বিশ্বের মানুষ আত্মহত্যা করে বস্তুর মাঝে সুখ খুঁজে না পেয়ে। দ্যাটস দ্য ফ্যাক্ট!
যখন তারা দেখে, তার সুখের জন্য সকল পার্থিব বস্তু বিদ্যমান, হাত বাড়ালেই সুখের সকল অনুষঙ্গ সে করায়ত্ত করতে পারছে; কিন্তু এসব বস্তু তাকে শারীরিক সুখ দিচ্ছে মাত্র, আত্মিক কোনো প্রশান্তি দিতে পারছে না। তখনই তার ভেতরের স্পিরিট মরে যেতে থাকে। মানুষ তো কেবল শারীরিক অবয়ববিশিষ্ট কোনো প্রাণী নয়। তার বোধ আছে, বিশ্বাস আছে, চিন্তা করার অবারিত চিন্তাশক্তি আছে, প্রাণ বলে একটা গোপন আত্মিক গুপ্তধন আছে; সেই বোধ-বিশ্বাস আর আত্মিক গুপ্তধন তো কেবল পার্থিব বস্তুর মধ্যে সুখ খোঁজে পরিতৃপ্ত হতে পারে না। কেননা শরীর বস্তুকামী, আত্মা কি বস্তুকামী? মানুষের আত্মোপলব্ধি বস্তুর চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে বসবাস করে। সেটা পৃথিবীর নশ্বরতার সঙ্গে কানেক্টেড নয়, তার কানেকশন অবিনশ্বরতার দিকে। কিন্তু মিছেই আমরা বস্তু দিয়ে নিজেদের সুখ কেনার কসরত করে যাচ্ছি। এ কারণেই বার বার আমরা দুঃখ পাই, বার বার ভেঙে পড়ি, কষ্টের আতিশয্য আমাদের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে দেয়।
তবুও বস্তুর প্রতিই আমাদের দুর্নিবার ভালোবাসা। বস্তুর ভালোবাসার মোহে আমাদের পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, যাক। সমাজের প্রতি দায়বোধ কমে যাচ্ছে, যাক। নিজেকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার প্রাণান্ত প্রয়াসে আমরা ক্রমেই ভালোবাসছি কেবল আমাদের নিজেদেরই। নিজের সকল চাওয়া পূরণের জন্য দানবের মতো আগ্রাসী হয়ে ওঠছি নিজের অজান্তেই। যখনই আমাদের এই চাওয়া, এই কাম্যতা পূরণে আমরা ব্যর্থ হই তখনই দুঃখ, ক্ষোভ, হতাশা, অবিশ্বাস আমাদের জাঁকিয়ে ধরে।
০৩
সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মানুষের কানেকশনকে যদি আমরা অবিশ্বাস করি, এর মানে হলো-আমরা নিজেরাও বস্তুবিশেষ। জন্ম নিয়েছি, ষাট-সত্তুর বছর বেঁচে থাকছি, তারপর মরে কবরস্থ হয়ে মাটির সাথে মিশে যাবো। সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার দায় নেই, পারলৌকিক অবিনশ্বরতার প্রতি কোনো বিশ্বাস নেই, প্রাণের তল দিয়ে বয়ে যাওয়া অন্য এক প্রাণের কথা বুঝবার আগ্রহ নেই; এমন মানুষ মূলত বস্তুবিশেষই। কিন্তু আল্লাহ যাদের আশরাফুল মাখলুকাত বানিয়েছেন তারা কেন বস্তুবিশেষ হতে যাবে? তারা কেন পশু-পাখির মতো জন্ম নিলো, খেয়ে-পরে ষাট-সত্তুর বছর বেঁচে থেকে মরে গেলো, মরে গিয়ে কবরস্থ হয়ে মাটির সাথে মিশে গেলো-এমন হবে কেন? এটা কি আশরাফুল মাখলুকাতের পরিচয়? হাত-পা সুন্দর করে বানানো হয়েছে, শরীরে শক্তি দেয়া হয়েছে, মস্তিষ্কে চিন্তা করার প্রতাপ দেয়া হয়েছে; পশু-পাখির মতো বেঁচে থেকে মরে যাওয়ার জন্য? এমন চিন্তা কি বাতুলতা নয়?
মানুষের সৃষ্টিসেরা হওয়ার মূলমন্ত্র-সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে তার আত্মিক কানেকশন। এই কানেকশনই মানুষের সৃষ্টির সেরা হওয়ার সনদপত্র। যে এই কানেকশন যতো বেশি ডেভেলপ করতে পারবে সে ততো বেশি সেরা হবে। এই কানেকশন ডেভেলপ করাকেই ইসলামের ভাষায় বলা হয় ‘আহলুল্লাহ’। যা সহজ বাংলায় বলা যায়-মানবজন্মের সিদ্ধিলাভ! মানুষকে জন্ম নিয়ে এই সিদ্ধিলাভেই ব্রতী হতে হয়। বস্তুর পেছনে ছুটে দুঃখ পাবার জন্য মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত অভিধা দেয়া হয়নি। অবিনশ্বরতার পথে উড্ডীন হয়ে দুঃখকে জয় করতে পারা প্রাণির উপাধিই হলো আশরাফুল মাখলুকাত।

