এপিঠ-ওপিঠ

সংখ্যা:

এপিঠ

পিচ্চিটার সাথে দুষ্টুমি করতে করতে চিমটি লেগে গেল। আসলে যেভাবে চিমটিটা লেগেছে, সেটা চিমটির পর্যায়ে পড়ে না। বলা চলে, চিমটির হক নষ্ট হয়েছে! তারপরও কান্না জুড়ে দিল পিচ্চিটা। রীতিমতো হাউমাউ করে। যেন রাজ্যের সব ব্যথা এসে গ্রাস করেছে তাকে। কোলে উঠিয়ে নিলাম- ‘ওরে আমার সোনামণি! কিছু হয়নি তো! চুপ করো একটু! তোমাকে কত্ত কত্ত চকলেট-চিপস কিনে দেব! হাম্বা দেখাব! ম্যাঁও ম্যাঁও দেখাব! কেঁদো না! এইযে আদর করে দিলাম!’

আহা, সে কী কান্না! যেন ‘টেপ রেকর্ডার’ অন করেছে। রাগের চোটে একেবারে ফেটে পড়ছে ও। ইচ্ছেমতো থাপ্পড় দিতেই থাকল আমাকে। চিন্তা করলাম, থাক! সহ্য করি একটু। তারপরও কান্নাকাটি থামুক। কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু রক্ষা হলো না আমার! যা ভাবছিলাম তাই হলো শেষমেশ! দৌড়ে আসলেন ওর আম্মু। একেবারে সব কাজ ফেলে। হেঁচকা টানে পিচ্চিটাকে কেড়ে নিলেন আমার কোল থেকে। পিচ্চিটা বানিয়ে বানিয়ে, পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে অভিযোগ করতেই থাকল ওর আম্মুর কাছে। ওর আম্মুও সাথে সাথে গিফ্ট দিতে থাকলেন আমাকে। বড় বড় ঝুড়ি ভর্তি বকাবাজি! আমি নিরূপায়। সাদরে গ্রহণ করতে থাকলাম সব। বকাগুলো গলা দিয়ে নামছিল না। আমিই নামাচ্ছিলাম জোর করে। একপর্যায়ে রক্ষা মিলল। ভাগ্যিস, দু’জনই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে!

 

ঘণ্টাখানেক পর।

পিচ্চিটা স্বাভাবিক হয়েছে অনেকক্ষণ হলো। এমনি এমনি অশান্তটা শান্ত হয়নি; এটা-সেটা দিয়ে শান্ত করতে হয়েছে। মনে মনে তওবা-তিল্লা করলাম, আর দুষ্টুমি করব না পিচ্চিটার সাথে। ও হাতে খেলনাপাতি নিয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে। গুনগুনিয়ে কী কী যেন বলছে। ওর ছোটাছুটি দেখছি আমি। মনে হচ্ছিল যেন কোনো ইঁদুর ছোটাছুটি করছে। বেশ দুষ্টু পিচ্চিটা। চঞ্চলতায় পূর্ণ।

হঠাৎ করেই ওদের খাবার-টেবিলের সাথে বাড়ি খেল পিচ্চিটা! খুব জোরে। পড়ে গেল ধপাস করে! ব্যথা পেয়েছে নিশ্চিত। আমি আঁতকে উঠলাম! ওকে ধরার জন্য উঠতে লাগলাম। আর তখনই দেখি, ও নিজে নিজেই উঠে গেল! তারপর আবারো দিব্যি ছোটাছুটি শুরু করে দিল আগের মতো। যেন ওর কিছুই হয়নি! খুব অবাক হলাম। ওর জায়গায় আমি হলে বোধহয় কেঁদেই দিতাম। মনে মনে ভাবলাম, ও….! নিজে থেকে ব্যথা পেয়েছে তো, তাই কারো কোনো দোষ নেই। কেমন যেন ও ব্যথাই পায়নি। কিন্তু একটু আগে…? কী আচরণটাই না করল আমার সাথে!

 

ওপিঠ

পিচ্চিদের বিষয়গুলো মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু আমরা যারা বড়, বুঝমান- তাদের বিষয়গুলো মেনে নেওয়া যায় না কোনোভাবেই। আমরা অনেকেই অন্যের ছিদ্রান্বেষণে ব্যস্ত থাকি। অথচ নিজেদের অবস্থা একেবারে বেহাল। সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করি না। কেমন যেন নিজের ঘর সামলানোর মতো সময় নেই আমাদের হাতে। নিজেরা যেন ‘দুধে ধোয়া তুলসি পাতা।’ নিজেদের ভুল যেন সব ফুল। পক্ষান্তরে অন্যদের যেন সবই ভুল। অন্যদের পান থেকে চুন খসলেই হলো! নিজেদের যেন কোনো দোষই নেই।

আমরা শুদ্ধ হব কবে?

ট্যাগ :

সম্পাদক
তামীম রায়হান

নির্বাহী সম্পাদক
সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

প্রকাশনা ব্যবস্থাপক
আসাদুল্লাহ খান

নবধ্বনি/নবপ্রকাশ | দোকান নং-২৭ | ২য় তলা | ইসলামী টাওয়ার | ১/১১ বাংলাবাজার | ঢাকা
সার্কুলেশন: ০১৯৭৪৮৮৮৪৪১