আমি এমন একটা দিন দেখতে চাই, যেদিন সারা পৃথিবীর মানুষ আমাদের সম্মানের চোখে দেখবে, আমাদেরকে আর গরিব-অযোগ্য বলতে বা ভাবতে পারবে না, আমরা আর্থিকভাবে ও বুদ্ধিবৃত্তিক দিক দিয়ে সারা পৃথিবীর অন্যান্য উন্নত জাতির মতো এগিয়ে যাব, উন্নত দেশ ও জাতির তালিকায় উঠবে আমাদের নাম, ফরচুন ফাইভ হান্ড্রেট কোম্পানির তালিকায় কমপক্ষে ৫০ থেকে ১০০টি থাকবে আমার দেশের কোম্পানি, যেখানে পুরো পৃথিবীর আর্থিক চালিকাশক্তি একটা বড় উৎস হয়ে উঠবে আমাদের কোম্পানিগুলো, যাতে চাইলেই বাংলাদেশ পৃথিবীর যেকোনো বড় পদক্ষেপ নিতে পারবে এবং খারাপ কাজের জন্য ভেটো দেবার যোগ্যতা আমাদের থাকবে, যার মাধ্যমে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশের কোনো সমস্যা হবে না এবং দিনে দিনে পৃথিবীতে বিপন্ন মানুষের সংখ্যা কমে আসবে আগের তুলনায়।
দেখতে চাই এমন এক সময়, যখন পৃথিবীতে আমাদের দেশের শিক্ষাব্যবস্থা হয়ে উঠবে বিশ্বমানের; সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম এবং এর বিভিন্ন সাবজেক্টের নাম। প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাতে থাকবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নাম। প্রথম দশের মধ্যে আমাদের কমপক্ষে ৩ থেকে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং যার কারণে সারা পৃথিবী থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা আসবে আমাদের দেশে পড়াশোনা করতে, যার মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে বাংলাদেশের সংস্কৃতি।
দেখতে চাই এমন একটি সময়, যখন পৃথিবীর আর্থিকভাবে সচ্ছল মানুষদের তালিকায় উঠে আসবে বাংলাদেশের বড় বড় ব্যবসায়ীদের নাম। প্রথম ১০০ জনের তালিকায় ঢুকতে পারব আমরা, যেখানে ৩০ থেকে ৫০ জন থাকবে আমাদের মানুষ, যার ফলে বার বার উচ্চারণ হবে বাংলাদেশের নাম।
দেখতে চাই, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা হবে বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। যেখানে সাম্য হবে আইন ও বিচার প্রক্রিয়ার মূলভিত্তি, কেউ বিনা কারণে বছরের পর বছর জেল খাটবে না এবং এমন কোনো অপরাধ থাকবে না যার বিচার হবে না। কোনো ক্ষমতাশালী ব্যক্তির ইচ্ছার কারণে বা অন্য কোনো বেআইনি কারণে কোনো পিতা-মাতা সন্তানহারা হবে না।
এমন একটি দিন দেখতে চাই যখন বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের মাথাপিছু আয় থাকবে সমগ্র পৃথিবীর সব দেশ থেকে সবচাইতে বেশি, প্রত্যেক নাগরিক আর্থিকভাবে সচ্ছল ও শক্তিশালী হবে এবং সবাই যার যার জীবনযাপন করতে পারবেন কোনোরকম সমস্যা ছাড়া।
আমি যা চাইলাম বা বললাম তা কি খুব বেশি কঠিন বা অবাস্তব কোনো চাওয়া? আমার কিন্তু তা মনে হয় না। শিক্ষিত মানুষ, যাঁরা দুনিয়ার একটু খবর রাখেন, চোখটা খানিক নাড়ালেই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে দেখতে পাবেন পুরো দুনিয়া। তখন আমার স্বপ্নের বাস্তবায়ন সত্যিই সম্ভব কি না বুঝতে পারবেন। আসলে যা যা চাইলাম বা বললাম সেটা সত্যিকারভাবেই সম্ভব। কারণ, এর উদাহরণ আছে বর্তমান পৃথিবীতে। সবচেয়ে বড় এবং জাজ্বল্য উদাহরণ হতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বড় কোম্পানি, নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়, নাগরিকদের আর্থিক সঙ্গতি সবই বিদ্যমান সেখানে। এরপর ধরতে পারেন যুক্তরাজ্যের কথা; তাদেরকেও রাখা যেতে পারে একই তালিকায়। কিন্তু দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার যে, এই তালিকায় কোনো মুসলিম দেশকে পাওয়া যায় না খুঁজে। অবশ্য কিছু মুসলিম দেশ আছে আর্থিকভাবে একটু শক্ত; যেমন তুরস্ক, মিশর, কাতার। সৌদি আরবও এই লিস্টে আছে। কিন্তু শিক্ষার দিক দিয়ে এরা অনেক অনেক পিছিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর থেকে। আবার কেউ ব্যবসায়িক দিক দিয়ে একটু এগিয়ে থাকলেও অন্যান্য বিষয়, যেমন, সামাজিক সাম্য না থাকা, দেশের অভ্যন্তরে গণতন্ত্র চর্চা বা বিরোধী চিন্তাকে কাজ করার সুযোগ না দেয়াসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান। কিছু তাদের নিজেদের বানানো আর কিছু বিভিন্ন কারণে চাইলেও কুলিয়ে উঠতে পারছে না বা বিশ্বমানের তালিকায় নিজেদের নাম ওঠাতে পারছে না। পারছে না নিজেদের উপরের দিকে তুলে ধরতে।
তবে আমার অভজার্ভেশন বলে ভিন্নকথা। আর সেটা হলো, আমরা সেরকমভাবে চেষ্টাই করি না। যদি চেষ্টা করতাম, অনেক কিছু সম্ভব ছিল আমাদের পক্ষে। বরং আমি এক লাইন বেশি এগিয়ে, আশাবাদী মানুষ হিসেবে বলতে চাই, বান্দা চাইলে সৃষ্টিকর্তা দেবেন না এমন কোনো কাজ নেই এ পৃথিবীতে। এটার অনেক অনেক উদাহরণ আমাদের অতীতে আছে। একটা সময় ছিল যখন ইউরোপের মানুষ গোসল করতে জানতো না এবং সপ্তাহে দুই সপ্তাহে একবার, আবার কেউ কেউ মাসের পর মাস গোসল না করে থাকত। যে মুসলিমরা ইউরোপের মানুষদের গোসল করতে শেখাল, তারা আজ সারা পৃথিবীর মধ্যে আর্থিকভাবে সবচাইতে দুর্দশাগ্রস্ত! এছাড়া আরও হাজারো সমস্যায় জর্জরিত এবং যার মাত্রা প্রতিদিন বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন মাত্রায় বেড়েই চলেছে। এর কারণ, আমরা সমস্যার গোড়ায় গিয়ে সমস্যার সমাধান বের না করে বার বারই তাৎক্ষডুক সমাধান বের করার ব্যর্থ চেষ্টা করি, এমনকি দিনের পর দিন এটাই করে যাচ্ছি।
সবশেষে শুধু এটুকুই বলতে চাই, আসুন, একটি বাসযোগ্য পৃথিবীর জন্য লম্বা পরিকল্পনা করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাই। চেষ্টা করি নিজেদের সোনালি অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ধীরে ধীরে সামনের দিকে অগ্রসর হতে, একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পৃথিবীর বুকে। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন।

