‘হলে সাড়া পড়ে গেলো! নতুন একজন ছাত্র হলে উঠেছে। যে কিনা হাত দেখে যে কারো ভবিষ্যত বলে দিতে পারে। মুহসীন হলের ছাদে বসে সে প্রতিদিন কোনো না কোনো ছাত্রের হাত দেখে ভবিষ্যৎ বলে দেয় এবং সে যা বলছে তার প্রায় সবই মিলে যাচ্ছে! শুধু তা-ই নয়, এই ছেলে ম্যাজিক দেখাতে পটু! একজন ম্যাজিকম্যান হিসেবে অল্পদিনের মধ্যেই হলে নামডাক ছড়িয়ে পড়লো ছেলেটির!
যে ম্যাজিকম্যানের কথা বলছিলাম তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম প্রধান রূপকার, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ লেখক, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার অধ্যাপক ড. হুমায়ূন আহমেদ। তাকে বলা হয় আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের পথিকৃৎ। একজন বিখ্যাত নাটক এবং চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি ছিলেন সমানভাবে সমাদৃত। বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যে বহুমুখী সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তিনি সত্যিকার অর্থেই পাঠককূলের মাঝে একজন ম্যাজিকম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। সহজ এবং প্রাঞ্জল ভাষায় গল্পসৃষ্টির মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদ পাঠক হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন। শরৎচন্দ্রের উত্তর যুগে হুমায়ূন আহমেদের মতো আর কোনো সাহিত্যিক এতোটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রিয় হাজী মুহসীন হল নিয়ে হুমায়ূন আহমদের এ ধরনের বহু মজাদার এবং বেদনাদায়ক স্মৃতি রয়েছে, যার কিছু বিষয় এখানে উল্লেখ করার প্রয়াস পেয়েছি।
হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে। পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন। পিতা ছিলেন একজন সৎ এবং নিষ্ঠবান পুলিশ কর্মকর্তা এবং তিনি ১৯৭১ সালের মহান যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বর্বর পাকবাহিনীর হাতে শহিদ হন। ছোটকালে পিতা নিজের নাম ফয়জুর রহমানের সাথে মিল রেখে হুমায়ূন আহমেদের নাম রেখেছিলেন শামসুর রহমান, ডাকনাম কাজল। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি নিজেই নাম পরিবর্তন করে হুমায়ূন আহমেদ রাখেন। হুমায়ূনের পিতা ছেলেমেয়েদের নাম পরিবর্তন করতে পছন্দ করতেন।
তার বাবা চাকরির সূত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতেন বিধায় হুমায়ূন আহমেদের দেশের বিভিন্ন স্কুলে পড়াশোনা করার সুযোগ হয়েছে। তিনি বগুড়া জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে সব গ্রুপে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন। এরপর ঢাকা কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে বিজ্ঞানে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অধ্যয়ন শুরু করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর হুমায়ূন আহমেদকে ফজলুর রহমান হলে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু তিনি ম্যানেজ করে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে থাকা শুরু করেন। এর অন্যতম কারণ ছিলো নবনির্মিত মুহসীন হলের লিফট স্থাপন। তাকে নতুন হল এবং হলের লিফট ব্যাপকভাবে আকর্ষণ করেছিলো। তিনি মুহসীন হলের ৫৬৪ নং কক্ষে তার ছাত্রজীবন শুরু করেন এবং পুরো ছাত্রজীবন এখানেই অতিবাহিত করেন।
হলজীবনে আহমদ ছফা, আনিস সাবেত এবং হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ছাত্রজীবন থেকেই এরা একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সাহিত্যসমাজ প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করতেন। তারা চিন্তা করতেন, এদেশের সাহিত্যের ক্ষেত্রে এক নতুন জগৎ নির্মাণ করবেন। অত্যন্ত মজার ব্যাপার ছিলো তিনজন বন্ধুর অন্য একটি বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া, তারা একদিন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তারা কখনোই বিয়ে করবেন না। অর্থাৎ চিরকুমার থাকবেন। কিন্তু পরবর্তীতে একমাত্র আহমদ ছফা ব্যতীত কেউই সে প্রতিজ্ঞায় স্থির থাকতে পারেননি। এ বিষয়ে হুমায়ূন আহমেদের পরবর্তী কাহিনি সম্পর্কে আপনারা ভালোই অবগত আছেন।
আগেই বলেছি, হুমায়ূন আহমেদ হাত দেখা এবং জাদু জানতেন। হলে থাকাকালীন প্রায় সময় কামরাঙ্গীর চরে টিউশন এবং একটি স্কুলে ক্লাস নেওয়ার জন্য যেতে হতো তাকে। সেখানকার চায়ের দোকানে কিংবা রাস্তার মোড়ে তিনি জাদু দেখানো শুরু করতেন। অসংখ্য লোক তার জাদু দেখার জন্য জমায়েত হতো। মূলত তিনি মানুষকে মজা দিয়ে নিজে মজা পেতেন। এই ম্যাজিক বা জাদু পরবর্তীতে তিনি তার অসংখ্য গল্প-উপন্যাস সৃষ্টির মাধ্যমে দেখিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি আনন্দ দিয়েছিলেন সমগ্র বাঙালি পাঠককূলকে।
তখন মুক্তিযুদ্ধের দামামা তুমুলবেগে বেজে উঠেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো পাকবাহিনীর প্রধান টার্গেট। কারণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরাই যেকোনো সময় আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণপণে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। ইতিপূর্বে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ’৭০-এর নির্বাচন কেন্দ্রিক আন্দোলনে সর্বত্রই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জীবনবাজী রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। হুমায়ূন আহমেদের বাবা একজন পুলিশ কর্মকর্তা এ বিষয়টি অনেকের জানা ছিলো। তাই বিষয়টি নিয়ে হুমায়ূন সবসময় বিচলিত থাকতেন। কখন জানি কী হয়ে যায়!
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে অনেকে তাকে গ্রামে গিয়ে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন কিন্তু তিনি তাতে সায় দেননি! গ্রামে কোথায় থাকবেন? সর্বত্রই বর্বর হানাদার বাহিনী লৌমহর্ষক কাণ্ড ঘটাচ্ছে! হুমায়ূন আহমেদ খুব ভালো রান্না জানতেন। তিনি হলের কক্ষে প্রায় সময় রান্না করে খেতেন। রমজান মাস চলছিলো। তিনি এবং তার কয়েকজন বন্ধু সেদিন রোজা না রাখায় দুপুরে খিচুড়ি রান্না করে খাবেন। হুমায়ূন যথারীতি রান্না আরম্ভ করলেন। আকস্মাৎ শোনা গেলো, হল গেইটে পাকবাহিনীর একটি গাড়িবহর উপস্থিত হয়েছে। সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লো। হুমায়ূন আহমেদ ব্যক্তিগতভাবে অনেক ভীতু ছিলেন। তার বুক থরথর করে কাঁপছে! পাকবাহিনী কক্ষে প্রবেশ করে সন্দেহজনক অসংখ্য ছাত্রকে ধরে নিয়ে গেলো। সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদকেও। সেইসময় পাকবাহিনীর নিজস্ব তৈরি করা সেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্দেহজনক ছাত্র-শিক্ষককে ধরে বন্দি করে অকথ্য জুলুম নির্যাতন করতো। নাৎসি স্টাইলে নির্বিচারে গুলি করে লাশ গায়েব করে ফেলতো। হুমায়ূনকে একটি বদ্ধ কক্ষে বন্দি করে রাখা হলো। কিন্তু অলৌকিকভাবে তিনি সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন। জীবন্ত হলে ফিরে আসতে পেরেছিলেন বলেই বাংলা সাহিত্যের নক্ষত্র জগতে এক নতুন উজ্জ্বল নক্ষত্রের উদয় হয়েছিলো এবং বাঙালি জাতি হিমু, মিসির আলির মতো আনন্দদায়ক, কৌশলী এবং অদ্ভুত চরিত্রের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরেছে।
হুমায়ূন আহমেদ তখন মাস্টার্সের ছাত্র। এসময় একটি নাতিদীর্ঘ উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে তার সাহিত্যজগতে প্রবেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের ৫৬৪ নং কক্ষে বসেই তিনি তার প্রথম উপনস্যাটি লিখেছিলেন। হুমায়ূন আহমেদের এই উপন্যাসটির নাম নন্দিত নরকে। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৭২ সালে কবি-সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে উপন্যাসটি খান ব্রাদার্স কর্তৃক গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়। তৎকালীন সাড়া জাগানো প্রখ্যাত বাংলা ভাষাশাস্ত্র পণ্ডিত আহমদ শরীফ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে এ গ্রন্থটির ভূমিকা লিখে দিলে বাংলাদেশের সাহিত্যামোদী মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। শঙ্খনীল কারাগার তার দ্বিতীয় গ্রন্থ। এ গ্রন্থটির সঙ্গেও মুহসীন হলের স্মৃতি বিজড়িত। এই তো শুরু হলো ছাত্রজীবন থেকে সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি পর্ব। পুরো ক্যাম্পাসে তিনি তরুণ-উদীয়মান লেখক হিসেবে অল্পসময়ে পরিচিতি পেয়ে যান। সেই সাথে একজন হস্তবিশারদ এবং জাদুকর হিসেবেও।
মানিক বন্দোপাধ্যায় ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় ঔপন্যাসিক। তিনি তার গ্রন্থ প্রচুর পরিমাণে পড়তেন। সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন পণ্ডিত টাইপের শিক্ষক ছিলেন, যিনি কিনা যে কারো লেখার সমালোচনা করতেন। হুমায়ূন আহমেদ একদিন মজা করার উদ্দেশ্যে একটি লেখা নিয়ে সেই শিক্ষকের সাথে সাক্ষাত করতে গেলেন। লেখাটি তাকে দেখিয়ে হুমায়ূন জানতে চাইলেন, কেমন হয়েছে স্যার? তিনি একটু চোখ বুলিয়ে বললেন, চলে মোটামুটি, খুব বেশি ভালো হয়নি! হুমায়ূন আহমেদ বললেন, এই লেখাটি আমার নয়, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের। এমন একজন শ্রেষ্ঠ লেখকের লেখা যদি ভালো না হয়, তাহলে আমি হুমায়ুনের আর লেখার প্রয়োজন নেই। সেদিন হুমায়ূন বুঝাতে চেয়েছিলেন, একজন লেখক বা লেখার সমালোচনা করা সহজ, কিন্তু অনুরূপ একটি লেখা সৃষ্টি করা সহজ নয়।
যাই হোক, হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে আমেরিকার নর্থ ডকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলিমার রসায়ন বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। অতঃপর ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং মুহসীন হলের ছাত্র থেকে শহীদুল্লাহ হলের হাউস টিউটর হয়ে তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং নিজ বিভাগের একজন জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে আবির্ভূত হলেন। ছাত্রজীবনের যেমন মেধাবী ছাত্র, উদীয়মান লেখক, ম্যাজিকম্যান, হস্তবিশারদ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, শিক্ষকজীবনে এসেও একজন শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক, গল্পকার একই সাথে জনপ্রিয় শিক্ষক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করলেন।
পেশাজীবনের শুরুতে দেশের এই শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিককে নিদারুণ অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কারণ মুক্তিযুদ্ধে বাবা শহিদ হওয়ায় পুরো পরিবারের দায়িত্ব অর্পিত হলো তার কাঁধে। কিন্তু তিনি হতাশ হননি। অত্যন্ত সূচারুরূপে পরিবারের দায়িত্ব, শিক্ষকতা এবং নিজ সৃষ্টিকর্ম চালিয়ে গেলেন। সেই সাথে চালিয়ে নিয়েছিলেন বাঙালি জাতির মননে বইপাঠের প্রবণতা সৃষ্টির দুষ্কর কর্মটি।
সাহিত্যজগতের প্রতিটি ক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদের ছিলো অবাধ বিচরণ। নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার উপন্যাসের মাধ্যমে হুমায়ূনের পরিচিতি অর্জন। মিসির আলি, হিমু প্রভৃতি চরিত্রগুলো হুমায়ূনকে এনে দিয়েছে অমরত্বের হাতছানি। জোৎস্না ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, মাতাল হাওয়া, বাদশাহ নামদার, দেয়াল প্রভৃতি ইতিহাসাশ্রয়ী উপন্যাসে তিনি ইতিহাসের সত্যের একনিষ্ঠ পরিব্রাজক হিসেবেও সফল। তিনি এসব গ্রন্থের মধ্য দিয়ে আসলে গল্প বলতে চেয়েছেন, উপলক্ষ করেছেন বিভিন্ন কালের। যেমন মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মানুষের গল্প বলার জন্য তিনি লিখলেন, ‘জোৎস্না ও জননীর গল্প’, মানুষের জটিল মনস্তত্ত্বের গল্প বলার জন্য বেছে নিয়েছেন ‘কে কথা কয়’, বঙ্গভঙ্গ, দেশভাগ, দেশভাগের ক্ষত, হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা, বিশ্বযুদ্ধ, গান্ধি, জিন্নাহ, রবিঠাকুর, নজরুল, সুভাষ বসু, জয়নুল, হাওর অঞ্চলের মানুষের দুঃখগাথা সর্বোপরি ঊনবিংশ শতাব্দীর মানুষের সুখ-দুঃখের আর স্বাধীনতার গল্পগুলো বলার জন্য তিনি লিখেন ‘মধ্যাহ্ন’। মোদ্দকথা মধ্যাহ্ন উপন্যাসটি যেন স্বাধীনতার ইতিহাস।
হুমায়ূন এভাবেই লিখে গেছেন প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি পাদটীকায় তিনি পদচিহ্ন এঁকে দিয়েছেন। আপন মহিমায় প্রোজ্জ্বলিত করেছেন বাঙালি জাতির ইতিহাসকে।
আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই দুরারোগ্য ক্যান্সারের সাথে ব্যর্থ যুদ্ধ করে তিনি চিরবিদায় নিয়েছেন পৃথিবীর বুক থেকে। বাঙালি জাতি হারিয়েছে একজন শ্রেষ্ঠ গল্পকার, ঔপন্যাসিক, শ্রেষ্ঠ ম্যাজিশিয়ান। আর মুহসীন হল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হারিয়েছে একজন শ্রেষ্ঠ অনুপ্রেরণাদায়ক এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, একই সাথে শ্রেষ্ঠ একজন লেখক এবং সাহিত্যিককে।
প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ! যেখানে যেভাবেই থাকুন শান্তি এবং সুখে থাকুন।
লেখক: গবেষক
